শিরোনাম

মানুষের সততাই ব্যবসার ভরসা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাজুর

দিনাজপুর সংবাদদাতা
দিনাজপুর সংবাদদাতা
মানুষের সততাই ব্যবসার ভরসা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাজুর
বিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে হেঁটে হেঁটে বাদাম বিক্রি করেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাজু আহমেদ

গলায় ঝুঁলছে লোহার সরু রিং। সেটিতে গাঁথা রয়েছে বাদাম, ভাজা ছোলা ও চানাচুরের প্যাকেট। এগুলো বিক্রি করেই সংসার চালান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাজু আহমেদ। সাধারণ মানুষের সততার ওপর ভিত্তি করেই এই ব্যবসা করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমাকে এলাকার অনেকে নিষেধ করেছেন, আমি যেন ব্যবসা না করি। এর কারণ, আমি অন্ধ মানুষ, আমার পণ্য টাকা না দিয়ে নিয়ে যাবেন মানুষ। কিন্তু কেউই আমার পণ্য টাকা ছাড়া নেননি। বরং ১০ টাকার বাদাম কিনে অনেকে ২০ টাকা দিয়ে যান।’

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পশ্চিম জয়দেবপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রাজু আহমেদ। প্রায় ১৮ বছর ধরে বিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাদাম বিক্রি করছেন। চোখে দেখতে না পেলেও সাদা ছড়ির সাহায্যে চলাফেরা করেন তিনি। বাদাম বিক্রি করেই চলছে তার ৪ সদস্যের সংসার।

সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাজু আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, ছোটবেলায় স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়তেন। কিন্তু অভাবের কারণে তার লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারেননি বাবা। মাঝপথেই থেমে যায় পড়াশোনা।

জানা গেছে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় গ্রামের মানুষ রাজুকে কাজে নিতে চাইতেন না। তখনই বাদাম বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। বলেছিলেন, চোখে দেখতে না পাওয়ায় মানুষ বাদাম নিয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু মানুষের প্রতি বিশ্বাস রেখেই ব্যবসা শুরু করেন।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে বিরামপুর শহর থেকে কাঁচা বাদাম ও ছোলা কিনে নেন রাজু। বাড়িতে তার স্ত্রী সেগুলো ভেজে ১০ টাকা মূল্যের ছোট ছোট প্যাকেট করেন। পরে সেগুলো লোহার রিংয়ে সাজিয়ে পরদিন বিক্রির জন্য বের হন। তিনি জানান, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো মুনাফা হয়।

এলাকার অন্য অনেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মতো ভিক্ষাবৃত্তিতে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে রাজু আহমেদ বলেন, আমাকে এলাকার অনেকে বলত ভিক্ষা করার জন্য। কিন্তু আমি তা করিনি। ভিক্ষা করলে মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। ভিক্ষাবৃত্তি ভালো নয়, তার চেয়ে বাদাম বিক্রি অনেক সম্মানের।

তার প্রসঙ্গে বিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘রাজু অন্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। যেদিন তার বিক্রি কম হয়, সেদিন তিনি আমার অফিসে এলে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করি। পাশাপাশি সরকারি যেসব সুবিধা তিনি পাওয়ার যোগ্য, সেগুলোও নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

/এসআর/