দেশে ৫২ বছরে আবাদি জমি কমলেও বেড়েছে পণ্য উৎপাদন

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
দেশে ৫২ বছরে আবাদি জমি কমলেও বেড়েছে পণ্য উৎপাদন
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দেশে অর্ধ শতাব্দীতে কৃষি জমির পরিমাণ অনেক কমলেও পণ্য উৎপাদন বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক এগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনদপত্র তুলে দেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো. আবদুছ ছালাম।

কর্মশালায় বক্তরা বলেন, ১৯৭১–২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫২ বছরে দেশে আবাদী জমি কমেছে ৩০ শতাংশ। তবে জমি কমলেও বেড়েছে পণ্যের উৎপাদন। এ সময়ে ধানে ৩ দশমিক ৮ গুণ, গমে ১৭ দশমিক ২৭ ও ভূট্টায় ২ হাজার ২৬৬ দশমিক ৬৭ গুণ উৎপাদন বড়েছে।

তারা বলেন, স্বাধীনতার পর লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৩৩ লাখ হেক্টর, ২০২৩ সালে বেড়ে ২০ দশমিক ০৫ লাখ হেক্টর ও ২০২৪ সালে ১১ দশমিক ৫৬ লাখ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। সরকার লবণাক্ত জমির জন্য আলাদা ফসল, পাহাড়ি জমির ও নিচু জমিসহ জোনভিত্তিক জমির জন্য উপযোগী ফসল ফলানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এ জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. আব্দুছ ছালাম বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে ০.৩৬% হারে আবাদী জমি কমছে। প্রতিদিন জমি কমছে ৩০৭ একর। সেই জমি চলে যাচ্ছে শিল্পায়ন, নগরায়ন, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাটে। এটি খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিয়েছি। এজন্য গুড এগ্রিকারচার প্র্যাক্টিস বা গ্যাপের আলোকে আমরা ৫টি ফল ১০টি সবজি আবাদে মনোযোগ দিয়েছি। ২০২৮ সালে এটি ৩ লাখ হেক্টর জমি চাষাবাদে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেননা জাতিকে রোগবালাই মুক্ত করতে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা নিজেদের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানিও করবো। এজন্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন ভালো মাটি ও বীজ। তাহলে ৫০ শতাংশ উৎপাদন বেড়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় অপুষ্টিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৫০ শতাংশ। বর্তমানে এটি কমে ১২ শতাংশ হয়েছে।

বিএআরসির ডিরেক্টর ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা বলেন, শস্যবীমার ড্রাফট জমা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি গাইড লাইন করে জুলাই মাসে জমা দেওয়া হয়েছে। অচিরেই এ ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখীর চাষ বাড়ানো হবে। সে অঞ্চলে তেলের কারখানাও করা হবে। সেজন্য আগামী মৌসুমের আগেই খুলনা ও বরিশালে কারখানা স্থাপিত হবে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইনল্যান্ডের পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন বলেন, প্রোটিনের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫১ দশমিক ১১ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। একই সময়ে দেশে ১৪ লাখ নারী মাছ চাষে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাওর, নদী, খাল বিল তথা মিঠাপানির মাছের উৎপাদন কমেছে।

বিএআরসির প্রাণিসম্পদ বিভাগের সদস্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে প্রাণিজাত প্রোটিনের বিকল্প নেই। জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান ১ দশমিক ৯ শতাংশ ও বাৎসরিক বৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ। একজন মানুষের দৈনিক দুধের চাহিদা যেখানে ২৫০ গ্রাম সেখানে বর্তমানে পাচ্ছে ২০৮ গ্রাম, মাংসের চাহিদা ১২০ গ্রাম, পাচ্ছে ১৪৭ দশমিক ৮৪ গ্রাম। ২০৩১ সালে মাংস গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ গ্রাম ও ২০৪১ সালে ১৬০ গ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া সুস্থ থাকতে হলে প্রত্যেককে দৈনিক ২টি করে ডিম খাওয়া প্রয়োজন।

কর্মশালায় ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বিএআরএফ সভাপতি মো. নিজামুল হক, সহসভাপতি চপল মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজম উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় তিন দিনে ১৫ জন প্রশিক্ষক ১৫টি বিষয়ে আলোচনা করেন।

/এসবি/