শিরোনাম

বিনা পারিশ্রমিকে ৪৮ বছর ধরে কবর খুঁড়ছেন আবুল হোসেন

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
বিনা পারিশ্রমিকে ৪৮ বছর ধরে কবর খুঁড়ছেন আবুল হোসেন
আবুল হোসেন খান

মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। এই কবরেই একদিন শায়িত হতে হয়। একনিষ্ঠভাবে কবর খুঁড়ার কাজটি চার যুগ ধরে করছেন আবুল হোসেন খান। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায়। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

সখীপুর উপজেলায় প্রায় এক হাজার মানুষের কবর খুঁড়েছেন। এর বিনিময়ে তিনি কারো কাছ থেকে নেননি কোনো অর্থকড়ি। আত্মীয়-স্বজন ও নিজ গ্রামের কারো মৃত্যুর খবর শুনলেই ছুটে যান কবর খুঁড়তে।

আবুল হোসেন খানের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের হাতীবান্ধা গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই তিনি কবর খোঁড়া শুরু করেন। সর্বপ্রথম ১৯৭৩ সালে তার দাদা মোসলেম উদ্দিন খানের খবর খুঁড়েন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলামীন বলেন, ‘আবুল হেসেন চাচা সহজ-সরল মানুষ। সব সময় হাসিখুশি থাকেন। কবর খনন করাটা তার মহৎ গুণের মধ্যে একটি।’

আবুল হোসেন খান বলেন, ‘ছোটবেলা থাইকা আমি মৃত মানুষের কবর খনন কইরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। এটি একটি মানবিক কাজ। একজন ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে ভালো কাজ করতে পারলে শান্তি পাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজমিস্ত্রির কাজ কইরা আয় রোজগার দিয়া সংসার চালাই। আমার একমাত্র ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকে। আমি মন থাইকা, মানবিকতা থাইকা মানুষের জন্য সারাজীবন খন্দক হিসেবে কবর খননের কাজ করতাছি। যতদিন বাঁইচা থাকমু ততদিন মানুষের মঙ্গলের জন্য মানবিক কাজ কইরাই বাঁচতে চাই।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন খান গুর্খা বলেন, ‘কবর খনন করা মহৎ কাজ। সবাই এ কাজ করতে পারে না। যারা মানবিক মানুষ তারাই নিঃস্বার্থভাবে এই কাজ করতে পারে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আয়নাল হক বলেন, ‘বহুদিন ধরে দেখছি, আবুল ভাই কবর খনন করছেন। কবর খনন করার বিষয়টি মানবিক ও প্রশংসনীয়।’

/এসআর/