শিরোনাম

শাহজালালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেসামরিক সংস্থাগুলোর কর্তৃত্ব বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শাহজালালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেসামরিক সংস্থাগুলোর কর্তৃত্ব বাড়ছে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বদলে বিমানবন্দরের দৈনন্দিন নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের নেতৃত্ব থাকবে বেসামরিক সংস্থাগুলোর হাতে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বর্তমানে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। প্রথম ধাপে তাদের প্রায় অর্ধেককে প্রত্যাহার করা হবে। পরে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে অবশিষ্ট সদস্যদের মধ্য থেকেও আরও এক-তৃতীয়াংশ সরিয়ে নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। ৩ বছর পর এ সভা অনুষ্ঠিত হলো।

সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বেবিচকের নিজস্ব এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং অন্যান্য নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়িয়ে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা কমানো হবে।

বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। কোনো একটি বাহিনীর উপস্থিতি অতিরিক্ত বেশি এবং অন্যটির কম– এমন ভারসাম্যহীনতা দূর করতেই এ সিদ্ধান্ত। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে খুব শিগগিরই আরও বৈঠক হবে।

এপিবিএন ও বিমানবাহিনীর কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনসার সদস্যরা কর্মবিরতিতে গেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় বিমানবাহিনী। সূত্র বলছে, এই দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকেই শুরু হয় অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্বের টানাপোড়েন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনগত ক্ষমতা কার হাতে থাকবে– এ নিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিমানবাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। ওই সময় এপিবিএনের আইন প্রয়োগ ও দাপ্তরিক কার্যক্রম কার্যত সীমিত হয়ে পড়ে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় প্রবেশ, অভিযান পরিচালনা, এমনকী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, দাপ্তরিক কাজে বাধা দেওয়া এবং অফিস দখলের অভিযোগ এনে এপিবিএনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত করা হয়। এই বিরোধ আদালত পর্যন্তও গড়ায়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে এপিবিএনের দায়িত্ব পুনর্বহাল এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবিতে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো ওই নোটিশে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমানবাহিনী প্রধানসহ ৮ জনকে বিবাদী করেন। তবে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর সরকার এখন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন ভারসাম্য আনার পথে হাঁটছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিমানবন্দরের দৈনন্দিন নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের নেতৃত্ব থাকবে বেসামরিক সংস্থাগুলোর হাতে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট বা জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, দীর্ঘ প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষা ছাড়াই বিমানবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কমান্ড ও কন্ট্রোল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সেটিও দূর করার চেষ্টা করছে সরকার।

/এফসি/