মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের

মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের
সিজেডএন ডেস্ক

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রশ্ন করেছেন, ‘মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?’ গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনেকে উপস্থিত না থাকায় তাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘মন্ত্রী বড়, না স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়—এটা আমি বুঝতে পারছি না। কর্মকর্তাদের নিয়ে কী সভা করব, সেটাও বুঝতে পারছি না।’ বিষয়টি নোট করে রাখার নির্দেশও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের ফাজলামি বা পিকনিক করার জন্য এখানে ডাকা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনা করতেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সভার একপর্যায়ে রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন তিনি। রাঙামাটিতে ১০টি উপজেলা রয়েছে জানার পর উপস্থিত কর্মকর্তাদের গুনে দেখেন, দাঁড়িয়েছেন ছয়জন। বাকি চারজন কোথায়, তা জানতে চান তিনি।
একজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন জানানো হলে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, তিনি কোথায় এবং তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী কি না। পরে বাকি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় কেন আসেননি, তা জানতে চান তিনি।
এ সময় মঞ্চের সামনে থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি সভায় আছেন।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো উপজেলা বা এলাকার উদ্বোধন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিছু বললে কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। সংসদ সদস্যকে জানাতে হবে যে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রী তাদের সভায় ডেকেছেন। প্রয়োজনে তাকে বলে দিতে হবে, পরদিন বা পরশু তাঁর সঙ্গে বসা হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে বড় মনে করে অনুপস্থিত থাকা যাবে না।
এরপর বান্দরবান জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। সাতটি উপজেলা থাকা এই জেলা থেকে মাত্র একজন কর্মকর্তা দাঁড়ালে তিনি জানতে চান, বাকিরা কোথায়।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। বলেন, সব জেলার কর্মকর্তাদের একসঙ্গে দাঁড় করালে উপস্থিতির চিত্র আরও খারাপ হতে পারে। অনুপস্থিত কর্মকর্তারা কোথায়, তা উপস্থিতদের দিয়ে খোঁজ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিকল্প বা দ্বিতীয় ব্যক্তি কেন সভায় নেই, সে প্রশ্নও তোলেন প্রতিমন্ত্রী।
একজন উপজেলা প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত না থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন মীর শাহে আলম। সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরে খাগড়াছড়ি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনজন কর্মকর্তা দাঁড়ালে বাকিরা কোথায়, তা জানতে চান। একইভাবে ভোলার মনপুরা উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সভায় আছেন কি না, খোঁজ নেন তিনি। তাকে জানানো হয়, ওই কর্মকর্তা উপস্থিত আছেন।
এরপর নেত্রকোনা জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। জেলার মোট উপজেলার সংখ্যা এবং কতজন কর্মকর্তা উপস্থিত আছেন, তা জানতে চান। তিনি বলেন, তার মনে হচ্ছে প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই দু-তিনজন করে কর্মকর্তা সভায় আসেননি।
পরে সভায় উপস্থিতির হিসাব জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, মোট ৫০৩ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৪৪০ জন উপস্থিত রয়েছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা এবং নির্বাহী প্রকৌশলীদের উপস্থিতির বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব নির্বাহী প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত আছেন।
মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও বাড়ানো সম্ভব। নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, চলমান প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রশ্ন করেছেন, ‘মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?’ গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনেকে উপস্থিত না থাকায় তাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘মন্ত্রী বড়, না স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়—এটা আমি বুঝতে পারছি না। কর্মকর্তাদের নিয়ে কী সভা করব, সেটাও বুঝতে পারছি না।’ বিষয়টি নোট করে রাখার নির্দেশও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের ফাজলামি বা পিকনিক করার জন্য এখানে ডাকা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনা করতেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সভার একপর্যায়ে রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন তিনি। রাঙামাটিতে ১০টি উপজেলা রয়েছে জানার পর উপস্থিত কর্মকর্তাদের গুনে দেখেন, দাঁড়িয়েছেন ছয়জন। বাকি চারজন কোথায়, তা জানতে চান তিনি।
একজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন জানানো হলে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, তিনি কোথায় এবং তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী কি না। পরে বাকি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় কেন আসেননি, তা জানতে চান তিনি।
এ সময় মঞ্চের সামনে থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি সভায় আছেন।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো উপজেলা বা এলাকার উদ্বোধন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিছু বললে কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। সংসদ সদস্যকে জানাতে হবে যে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রী তাদের সভায় ডেকেছেন। প্রয়োজনে তাকে বলে দিতে হবে, পরদিন বা পরশু তাঁর সঙ্গে বসা হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে বড় মনে করে অনুপস্থিত থাকা যাবে না।
এরপর বান্দরবান জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। সাতটি উপজেলা থাকা এই জেলা থেকে মাত্র একজন কর্মকর্তা দাঁড়ালে তিনি জানতে চান, বাকিরা কোথায়।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। বলেন, সব জেলার কর্মকর্তাদের একসঙ্গে দাঁড় করালে উপস্থিতির চিত্র আরও খারাপ হতে পারে। অনুপস্থিত কর্মকর্তারা কোথায়, তা উপস্থিতদের দিয়ে খোঁজ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিকল্প বা দ্বিতীয় ব্যক্তি কেন সভায় নেই, সে প্রশ্নও তোলেন প্রতিমন্ত্রী।
একজন উপজেলা প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত না থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন মীর শাহে আলম। সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরে খাগড়াছড়ি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনজন কর্মকর্তা দাঁড়ালে বাকিরা কোথায়, তা জানতে চান। একইভাবে ভোলার মনপুরা উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সভায় আছেন কি না, খোঁজ নেন তিনি। তাকে জানানো হয়, ওই কর্মকর্তা উপস্থিত আছেন।
এরপর নেত্রকোনা জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। জেলার মোট উপজেলার সংখ্যা এবং কতজন কর্মকর্তা উপস্থিত আছেন, তা জানতে চান। তিনি বলেন, তার মনে হচ্ছে প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই দু-তিনজন করে কর্মকর্তা সভায় আসেননি।
পরে সভায় উপস্থিতির হিসাব জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, মোট ৫০৩ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৪৪০ জন উপস্থিত রয়েছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা এবং নির্বাহী প্রকৌশলীদের উপস্থিতির বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব নির্বাহী প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত আছেন।
মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও বাড়ানো সম্ভব। নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, চলমান প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বড়, নাকি সংসদ সদস্য—কর্মকর্তাদের প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের
সিজেডএন ডেস্ক

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রশ্ন করেছেন, ‘মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?’ গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনেকে উপস্থিত না থাকায় তাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘মন্ত্রী বড়, না স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়—এটা আমি বুঝতে পারছি না। কর্মকর্তাদের নিয়ে কী সভা করব, সেটাও বুঝতে পারছি না।’ বিষয়টি নোট করে রাখার নির্দেশও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের ফাজলামি বা পিকনিক করার জন্য এখানে ডাকা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনা করতেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সভার একপর্যায়ে রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন তিনি। রাঙামাটিতে ১০টি উপজেলা রয়েছে জানার পর উপস্থিত কর্মকর্তাদের গুনে দেখেন, দাঁড়িয়েছেন ছয়জন। বাকি চারজন কোথায়, তা জানতে চান তিনি।
একজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন জানানো হলে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, তিনি কোথায় এবং তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী কি না। পরে বাকি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় কেন আসেননি, তা জানতে চান তিনি।
এ সময় মঞ্চের সামনে থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি সভায় আছেন।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো উপজেলা বা এলাকার উদ্বোধন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিছু বললে কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। সংসদ সদস্যকে জানাতে হবে যে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রী তাদের সভায় ডেকেছেন। প্রয়োজনে তাকে বলে দিতে হবে, পরদিন বা পরশু তাঁর সঙ্গে বসা হবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে বড় মনে করে অনুপস্থিত থাকা যাবে না।
এরপর বান্দরবান জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। সাতটি উপজেলা থাকা এই জেলা থেকে মাত্র একজন কর্মকর্তা দাঁড়ালে তিনি জানতে চান, বাকিরা কোথায়।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। বলেন, সব জেলার কর্মকর্তাদের একসঙ্গে দাঁড় করালে উপস্থিতির চিত্র আরও খারাপ হতে পারে। অনুপস্থিত কর্মকর্তারা কোথায়, তা উপস্থিতদের দিয়ে খোঁজ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিকল্প বা দ্বিতীয় ব্যক্তি কেন সভায় নেই, সে প্রশ্নও তোলেন প্রতিমন্ত্রী।
একজন উপজেলা প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত না থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন মীর শাহে আলম। সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরে খাগড়াছড়ি জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনজন কর্মকর্তা দাঁড়ালে বাকিরা কোথায়, তা জানতে চান। একইভাবে ভোলার মনপুরা উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী সভায় আছেন কি না, খোঁজ নেন তিনি। তাকে জানানো হয়, ওই কর্মকর্তা উপস্থিত আছেন।
এরপর নেত্রকোনা জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। জেলার মোট উপজেলার সংখ্যা এবং কতজন কর্মকর্তা উপস্থিত আছেন, তা জানতে চান। তিনি বলেন, তার মনে হচ্ছে প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই দু-তিনজন করে কর্মকর্তা সভায় আসেননি।
পরে সভায় উপস্থিতির হিসাব জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, মোট ৫০৩ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৪৪০ জন উপস্থিত রয়েছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সংখ্যা এবং নির্বাহী প্রকৌশলীদের উপস্থিতির বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সব নির্বাহী প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত আছেন।
মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ও বাড়ানো সম্ভব। নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনকে অগ্রাধিকার দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, চলমান প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।









