জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্য আর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দুই বছরপূর্তি আজ। ২০২৪ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পতন ঘটে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রক্তপাতে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায়।
বহু ত্যাগ আর সংগ্রামে অর্জিত এ দিনটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি করে। চূড়ান্ত পরিণতির আগে ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘একদফা’ দাবি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই লাখো মানুষ শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে রাজপথে নামতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। এতে অন্তত ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়।
এর আগে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। তবে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে কারফিউ উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কেউ বাসে, কেউ ট্রাকে-মোটরসাইকেলে, আবার অনেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ করেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একদফার স্লোগানে মুখরিত রাজপথ ধরে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে সরকার ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়। সাধারণ হিসাবে তারিখটি ৫ আগস্ট হলেও অভ্যুত্থানকারীরা জুলাইয়ের রক্তস্রোত না থামা পর্যন্ত মাসটিকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত বিবেচনা করেন।
আন্দোলনের সূচনা হয় ২০২৪ সালের ৫ জুন। ওই দিন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে যৌক্তিক মনে হওয়ায় ১ জুলাই থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে শুরু করে। আন্দোলনকারীরা নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করলেও সরকার বিষয়টিকে আদালতের এখতিয়ার বলে উল্লেখ করে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কটাক্ষ করে।
এর পর থেকে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার; কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে মুখরিত হয় রাজপথ। একপর্যায়ে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। এর প্রতিবাদে পরদিন অর্থাৎ ১৬ জুলাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে মরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন গতি পায়। ওইদিন পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলায় ৬ জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। তবে এসব উদ্যোগেও আন্দোলন থামেনি, বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারা দেশে ১৪০০ জনের অধিক মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের একটি বড় অংশ চোখে গুরুতর আঘাত পান, যাদের অনেকে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া ও নির্বাচন আয়োজনের নানা উদ্যোগ গ্রহণের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকবে। সেইসঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
এদিন সকাল ৯টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।
এছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্মুক্ত কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।

বৈষম্য আর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দুই বছরপূর্তি আজ। ২০২৪ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পতন ঘটে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রক্তপাতে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায়।
বহু ত্যাগ আর সংগ্রামে অর্জিত এ দিনটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি করে। চূড়ান্ত পরিণতির আগে ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘একদফা’ দাবি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই লাখো মানুষ শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে রাজপথে নামতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। এতে অন্তত ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়।
এর আগে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। তবে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে কারফিউ উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কেউ বাসে, কেউ ট্রাকে-মোটরসাইকেলে, আবার অনেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ করেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একদফার স্লোগানে মুখরিত রাজপথ ধরে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে সরকার ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়। সাধারণ হিসাবে তারিখটি ৫ আগস্ট হলেও অভ্যুত্থানকারীরা জুলাইয়ের রক্তস্রোত না থামা পর্যন্ত মাসটিকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত বিবেচনা করেন।
আন্দোলনের সূচনা হয় ২০২৪ সালের ৫ জুন। ওই দিন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে যৌক্তিক মনে হওয়ায় ১ জুলাই থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে শুরু করে। আন্দোলনকারীরা নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করলেও সরকার বিষয়টিকে আদালতের এখতিয়ার বলে উল্লেখ করে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কটাক্ষ করে।
এর পর থেকে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার; কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে মুখরিত হয় রাজপথ। একপর্যায়ে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। এর প্রতিবাদে পরদিন অর্থাৎ ১৬ জুলাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে মরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন গতি পায়। ওইদিন পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলায় ৬ জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। তবে এসব উদ্যোগেও আন্দোলন থামেনি, বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারা দেশে ১৪০০ জনের অধিক মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের একটি বড় অংশ চোখে গুরুতর আঘাত পান, যাদের অনেকে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া ও নির্বাচন আয়োজনের নানা উদ্যোগ গ্রহণের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকবে। সেইসঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
এদিন সকাল ৯টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।
এছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্মুক্ত কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্য আর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দুই বছরপূর্তি আজ। ২০২৪ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পতন ঘটে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এক মাসের অধিক সময় ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রক্তপাতে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার প্রবল প্রতিরোধের মুখে ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায়।
বহু ত্যাগ আর সংগ্রামে অর্জিত এ দিনটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি করে। চূড়ান্ত পরিণতির আগে ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘একদফা’ দাবি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই লাখো মানুষ শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে রাজপথে নামতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। এতে অন্তত ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়।
এর আগে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। তবে ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে কারফিউ উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কেউ বাসে, কেউ ট্রাকে-মোটরসাইকেলে, আবার অনেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ করেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। একদফার স্লোগানে মুখরিত রাজপথ ধরে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।
অবস্থা বেগতিক দেখে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে টানা প্রায় ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে সরকার ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়। সাধারণ হিসাবে তারিখটি ৫ আগস্ট হলেও অভ্যুত্থানকারীরা জুলাইয়ের রক্তস্রোত না থামা পর্যন্ত মাসটিকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত বিবেচনা করেন।
আন্দোলনের সূচনা হয় ২০২৪ সালের ৫ জুন। ওই দিন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী কর্মসূচি শুরু করেন। তাদের দাবি সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে যৌক্তিক মনে হওয়ায় ১ জুলাই থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে শুরু করে। আন্দোলনকারীরা নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করলেও সরকার বিষয়টিকে আদালতের এখতিয়ার বলে উল্লেখ করে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কটাক্ষ করে।
এর পর থেকে ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার; কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে মুখরিত হয় রাজপথ। একপর্যায়ে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। এর প্রতিবাদে পরদিন অর্থাৎ ১৬ জুলাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ দমনে মরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন গতি পায়। ওইদিন পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলায় ৬ জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। তবে এসব উদ্যোগেও আন্দোলন থামেনি, বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারা দেশে ১৪০০ জনের অধিক মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের একটি বড় অংশ চোখে গুরুতর আঘাত পান, যাদের অনেকে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হয়।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া ও নির্বাচন আয়োজনের নানা উদ্যোগ গ্রহণের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ওই নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকবে। সেইসঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
এদিন সকাল ৯টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।
এছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
অন্যদিকে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্মুক্ত কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের দুই বছর: নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব
জুলাই আন্দোলনের ক্রেডিট কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী






