রাজধানীর বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, স্বস্তির বদলে ভোগান্তির শঙ্কা

রাজধানীর বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, স্বস্তির বদলে ভোগান্তির শঙ্কা
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, মহাখালীসহ ঢাকার চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টার্মিনাল স্থানান্তরকে সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ঢাকার যানজটের মূল সংকট বাস টার্মিনালের অবস্থান নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাস পরিচালনায় শৃঙ্খলার অভাব।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায়, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুরে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে পূর্বাচল হয়ে টঙ্গীর কাছে স্থানান্তর করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টারও তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি, টার্মিনাল সরানোর আগে নতুন স্থানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পর্যাপ্ত জায়গা, যাত্রীসেবা এবং ঢাকার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত না হলে নতুন সমস্যার জন্ম দেবে এই উদ্যোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে যেসব টার্মিনালকে যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়ার কথা, বাস্তবে তার বড় অংশই বাস ডিপোতে পরিণত হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস টার্মিনালে কিংবা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার নির্ধারিত টার্মিনালের বাইরে অসংখ্য কাউন্টার থেকেও যাত্রী ওঠানো হয়। ফলে যানজটের বড় অংশ তৈরি হয় এই বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই চিত্র যদি নতুন স্থানেও অব্যাহত থাকে, তাহলে যানজট ঢাকার কেন্দ্র থেকে সরে গিয়ে কাঁচপুর, হেমায়েতপুর, কেরানীগঞ্জ বা টঙ্গীর মতো প্রবেশমুখে তৈরি হবে। অর্থাৎ সমস্যার সমাধান হবে না, কেবল স্থান বদলাবে।

এদিকে, শহরের বাইরে টার্মিনাল হলে দূরপাল্লার যাত্রীদের আবার আলাদা পরিবহনে রাজধানীতে প্রবেশ করতে হবে। এতে অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের। বিশেষ করে ভোররাত বা গভীর রাতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সায়েদাবাদ টার্মিনালে বরিশালগামী যাত্রী মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমি ঢাকার ভেতরেই থাকি। যদি কাঁচপুর গিয়ে বাস ধরতে হয়, তাহলে আগে সেখানে যাওয়ার জন্যই আলাদা খরচ হবে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এটা অনেক ভোগান্তি হবে।’
গুলিস্তান টার্মিনালে যশোরগামী যাত্রী ফারহানা পারভীন বলেন, ‘রাত বা ভোরে শহরের বাইরে নামতে হলে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় থাকবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য বিষয়টা সহজ হবে না।’
গুলিস্তান থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি দূরপাল্লার বাসচালক মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘টার্মিনাল সরিয়ে দিলেই জ্যাম কমবে না। রাস্তায় যেখানে-সেখানে বাস থামানো, অবৈধ কাউন্টার আর নিয়ম না মানাই বড় সমস্যা। এগুলো বন্ধ না করলে নতুন জায়গাতেও একই অবস্থা হবে।’
পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, টার্মিনাল স্থানান্তরের পাশাপাশি কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, রুট রেশনালাইজেশন, ই-টিকিটিং, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট স্টপেজ নিশ্চিত করা এবং বাস ডিপোকে যাত্রী টার্মিনাল থেকে আলাদা করার মতো সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আমরা যেগুলোকে বাস টার্মিনাল বলছি, সেগুলোর বেশিরভাগই এখন ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিপো বাইরে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু যাত্রী তোলার জন্য যদি বাস আবার সড়কেই দাঁড়ায়, তাহলে নতুন জায়গাতেও একই সমস্যা হবে। যানজট শহরের ভেতর থেকে শহরের প্রবেশমুখে সরে যাবে মাত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘টার্মিনাল বাইরে নেওয়ার আগে শক্তিশালী ফিডার বাস, শাটল সার্ভিস এবং নিরাপদ সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়বে।’
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ঢাকার যানজটের জন্য শুধু বাস টার্মিনালকে দায়ী করা ঠিক হবে না। সমস্যার মূল কারণ পরিবহন ব্যবস্থার সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা। টার্মিনাল শহরের বাইরে নিলে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় বাড়বে, সময় নষ্ট হবে এবং নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। তারপর টার্মিনাল স্থানান্তরের মতো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা উচিত।’

রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, মহাখালীসহ ঢাকার চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টার্মিনাল স্থানান্তরকে সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ঢাকার যানজটের মূল সংকট বাস টার্মিনালের অবস্থান নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাস পরিচালনায় শৃঙ্খলার অভাব।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায়, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুরে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে পূর্বাচল হয়ে টঙ্গীর কাছে স্থানান্তর করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টারও তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি, টার্মিনাল সরানোর আগে নতুন স্থানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পর্যাপ্ত জায়গা, যাত্রীসেবা এবং ঢাকার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত না হলে নতুন সমস্যার জন্ম দেবে এই উদ্যোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে যেসব টার্মিনালকে যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়ার কথা, বাস্তবে তার বড় অংশই বাস ডিপোতে পরিণত হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস টার্মিনালে কিংবা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার নির্ধারিত টার্মিনালের বাইরে অসংখ্য কাউন্টার থেকেও যাত্রী ওঠানো হয়। ফলে যানজটের বড় অংশ তৈরি হয় এই বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই চিত্র যদি নতুন স্থানেও অব্যাহত থাকে, তাহলে যানজট ঢাকার কেন্দ্র থেকে সরে গিয়ে কাঁচপুর, হেমায়েতপুর, কেরানীগঞ্জ বা টঙ্গীর মতো প্রবেশমুখে তৈরি হবে। অর্থাৎ সমস্যার সমাধান হবে না, কেবল স্থান বদলাবে।

এদিকে, শহরের বাইরে টার্মিনাল হলে দূরপাল্লার যাত্রীদের আবার আলাদা পরিবহনে রাজধানীতে প্রবেশ করতে হবে। এতে অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের। বিশেষ করে ভোররাত বা গভীর রাতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সায়েদাবাদ টার্মিনালে বরিশালগামী যাত্রী মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমি ঢাকার ভেতরেই থাকি। যদি কাঁচপুর গিয়ে বাস ধরতে হয়, তাহলে আগে সেখানে যাওয়ার জন্যই আলাদা খরচ হবে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এটা অনেক ভোগান্তি হবে।’
গুলিস্তান টার্মিনালে যশোরগামী যাত্রী ফারহানা পারভীন বলেন, ‘রাত বা ভোরে শহরের বাইরে নামতে হলে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় থাকবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য বিষয়টা সহজ হবে না।’
গুলিস্তান থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি দূরপাল্লার বাসচালক মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘টার্মিনাল সরিয়ে দিলেই জ্যাম কমবে না। রাস্তায় যেখানে-সেখানে বাস থামানো, অবৈধ কাউন্টার আর নিয়ম না মানাই বড় সমস্যা। এগুলো বন্ধ না করলে নতুন জায়গাতেও একই অবস্থা হবে।’
পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, টার্মিনাল স্থানান্তরের পাশাপাশি কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, রুট রেশনালাইজেশন, ই-টিকিটিং, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট স্টপেজ নিশ্চিত করা এবং বাস ডিপোকে যাত্রী টার্মিনাল থেকে আলাদা করার মতো সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আমরা যেগুলোকে বাস টার্মিনাল বলছি, সেগুলোর বেশিরভাগই এখন ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিপো বাইরে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু যাত্রী তোলার জন্য যদি বাস আবার সড়কেই দাঁড়ায়, তাহলে নতুন জায়গাতেও একই সমস্যা হবে। যানজট শহরের ভেতর থেকে শহরের প্রবেশমুখে সরে যাবে মাত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘টার্মিনাল বাইরে নেওয়ার আগে শক্তিশালী ফিডার বাস, শাটল সার্ভিস এবং নিরাপদ সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়বে।’
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ঢাকার যানজটের জন্য শুধু বাস টার্মিনালকে দায়ী করা ঠিক হবে না। সমস্যার মূল কারণ পরিবহন ব্যবস্থার সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা। টার্মিনাল শহরের বাইরে নিলে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় বাড়বে, সময় নষ্ট হবে এবং নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। তারপর টার্মিনাল স্থানান্তরের মতো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা উচিত।’

রাজধানীর বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, স্বস্তির বদলে ভোগান্তির শঙ্কা
শেখ শাহরিয়ার হোসেন

রাজধানীর যানজট কমাতে সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, মহাখালীসহ ঢাকার চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টার্মিনাল স্থানান্তরকে সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ঢাকার যানজটের মূল সংকট বাস টার্মিনালের অবস্থান নয়, বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং বাস পরিচালনায় শৃঙ্খলার অভাব।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায়, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুরে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী টার্মিনাল পর্যায়ক্রমে পূর্বাচল হয়ে টঙ্গীর কাছে স্থানান্তর করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টারও তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি, টার্মিনাল সরানোর আগে নতুন স্থানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পর্যাপ্ত জায়গা, যাত্রীসেবা এবং ঢাকার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত না হলে নতুন সমস্যার জন্ম দেবে এই উদ্যোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে যেসব টার্মিনালকে যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়ার কথা, বাস্তবে তার বড় অংশই বাস ডিপোতে পরিণত হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস টার্মিনালে কিংবা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার নির্ধারিত টার্মিনালের বাইরে অসংখ্য কাউন্টার থেকেও যাত্রী ওঠানো হয়। ফলে যানজটের বড় অংশ তৈরি হয় এই বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই চিত্র যদি নতুন স্থানেও অব্যাহত থাকে, তাহলে যানজট ঢাকার কেন্দ্র থেকে সরে গিয়ে কাঁচপুর, হেমায়েতপুর, কেরানীগঞ্জ বা টঙ্গীর মতো প্রবেশমুখে তৈরি হবে। অর্থাৎ সমস্যার সমাধান হবে না, কেবল স্থান বদলাবে।

এদিকে, শহরের বাইরে টার্মিনাল হলে দূরপাল্লার যাত্রীদের আবার আলাদা পরিবহনে রাজধানীতে প্রবেশ করতে হবে। এতে অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের। বিশেষ করে ভোররাত বা গভীর রাতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সায়েদাবাদ টার্মিনালে বরিশালগামী যাত্রী মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমি ঢাকার ভেতরেই থাকি। যদি কাঁচপুর গিয়ে বাস ধরতে হয়, তাহলে আগে সেখানে যাওয়ার জন্যই আলাদা খরচ হবে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এটা অনেক ভোগান্তি হবে।’
গুলিস্তান টার্মিনালে যশোরগামী যাত্রী ফারহানা পারভীন বলেন, ‘রাত বা ভোরে শহরের বাইরে নামতে হলে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় থাকবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য বিষয়টা সহজ হবে না।’
গুলিস্তান থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি দূরপাল্লার বাসচালক মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘টার্মিনাল সরিয়ে দিলেই জ্যাম কমবে না। রাস্তায় যেখানে-সেখানে বাস থামানো, অবৈধ কাউন্টার আর নিয়ম না মানাই বড় সমস্যা। এগুলো বন্ধ না করলে নতুন জায়গাতেও একই অবস্থা হবে।’
পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, টার্মিনাল স্থানান্তরের পাশাপাশি কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, রুট রেশনালাইজেশন, ই-টিকিটিং, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট স্টপেজ নিশ্চিত করা এবং বাস ডিপোকে যাত্রী টার্মিনাল থেকে আলাদা করার মতো সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আমরা যেগুলোকে বাস টার্মিনাল বলছি, সেগুলোর বেশিরভাগই এখন ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিপো বাইরে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু যাত্রী তোলার জন্য যদি বাস আবার সড়কেই দাঁড়ায়, তাহলে নতুন জায়গাতেও একই সমস্যা হবে। যানজট শহরের ভেতর থেকে শহরের প্রবেশমুখে সরে যাবে মাত্র।’
তিনি আরও বলেন, ‘টার্মিনাল বাইরে নেওয়ার আগে শক্তিশালী ফিডার বাস, শাটল সার্ভিস এবং নিরাপদ সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়বে।’
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ঢাকার যানজটের জন্য শুধু বাস টার্মিনালকে দায়ী করা ঠিক হবে না। সমস্যার মূল কারণ পরিবহন ব্যবস্থার সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা। টার্মিনাল শহরের বাইরে নিলে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় বাড়বে, সময় নষ্ট হবে এবং নারী, শিশু, বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগে গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। তারপর টার্মিনাল স্থানান্তরের মতো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা উচিত।’

রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর






