শিরোনাম

কীসের বিচার করবে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুক: মো. সাহাবুদ্দিন

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
কীসের বিচার করবে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুক: মো. সাহাবুদ্দিন
মো. সাহাবুদ্দিন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে বিচারের দাবি তোলা প্রসঙ্গে সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘ধুর! এগুলো বাদ দেন। এগুলো পাত্তা দেই না।’ তিনি বলেন, ‘কীসের বিচার করবে? কীসের? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুক।’

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার পর একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি সম্পূর্ণ সংবিধান রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি কোনো অপরাধী নন।

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দুই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করা বা না করা কোনো কাজের জন্য তাকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা চালু রাখা এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য পরোয়ানা জারি করা যাবে না।

৫১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা সেই বিবেচনায় কোনো কাজ করলে কিংবা না করলে সেজন্য তাকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না। তবে ওই কাজের কারণে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি কার্যধারা নেওয়ার অধিকার বহাল থাকবে।

এই সুরক্ষাকে রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালের মধ্যে সীমিত করা হয়নি।

অন্যদিকে ৫১(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা চালু রাখা এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য পরোয়ানা জারিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের পর চ্যানেল ওয়ানের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এনসিপির পক্ষ থেকে তার বিচারের দাবি তোলার প্রসঙ্গে সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘ধুর! এগুলো বাদ দেন। এগুলো পাত্তা দেই না।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তার কাছেই শপথ নিয়েছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আর কীসের বিচার করবে? কীসের? কীসের বিচার করবে? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুক।’

নিজের পদত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে সাহাবুদ্দিন জানান, অসুস্থতাই তার পদত্যাগের প্রধান ও মূল কারণ। গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে যেসব কথাবার্তা উঠে আসছে তার সবই অপতথ্য, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তৈরি করা এবং কল্পনাপ্রসূত। মনগড়া তথ্য লিখে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কোনো ফোন বা বাহ্যিক চাপের যে কথা বলা হচ্ছে তা একেবারেই অবান্তর।

সদ্য সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রেখে নিজ ক্ষমতাবলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দিয়েছিলেন। সেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশ চালিয়েছে, পরবর্তীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। দেশের এই রূপান্তর ও স্থিতিশীলতার পেছনে নিজের কৃতিত্বের কথা স্মরণ করেন।

/জেএইচ/