দীর্ঘ সময় ধরে মদের বারের লাইসেন্স বন্ধ

দীর্ঘ সময় ধরে মদের বারের লাইসেন্স বন্ধ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোগো

কাগজে-কলমে না থাকলেও অলিখিতভাবে ২৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে মদের বারের নতুন লাইসেন্স অনুমোদন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবেদন করা হলেও নতুন করে কাউকে লাইসেন্স দিচ্ছে না সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে বারের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর থেকে সরকার মদের বারের লাইসেন্স দেয়নি। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে মদের বারের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করে দেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও বারের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন লাইসেন্সের আবেদন অনুমোদনের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে স্বরাষ্ট্র থেকে অনুমোদন দেওয়া হলেই কেবল লাইসেন্স দেওয়া হয়। বর্তমানে লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ থাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে আবেদনপত্র আসছে না।

বাংলাদেশে লাইসেন্সধারী মদের বারের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা দেশের সব বারের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা সরকারিভাবে উন্মুক্ত নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) আইন ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এই তালিকা প্রকাশ করছে না। তবে বিভিন্ন ব্যবসায়িক পরিসংখ্যান, পর্যটন খাতের তথ্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে প্রায় ১৩০০-এর বেশি অনুমোদিত বার ও অ্যালকোহল বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

মদের বারের লাইসেন্স বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (মাদক অধিশাখা) এএফএম এতেশামুল হক সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, লাইসেসন্স নবায়ন বন্ধ নেই। তবে নতুন করে বারের কোনো লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। বারের লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়। তবে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে, যেসব এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের বসবাস বা চলাচল বেশি সেখানে বার স্থাপন করতে হবে। বিদেশি সংস্কৃতি অনুযায়ী সেখানে বার স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে।

বাংলাদেশে অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় কমপক্ষে বৈধ ১০০ জন মদ পানের অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তি থাকলে সেখানে বার বা বিক্রয় কেন্দ্রের লাইসেন্স দেওয়া যায়। আইন অনুযায়ী ২১ বছরের কম বয়সের কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে মদ পানের অনুমোদন দেওয়া হয় না।

বারের লাইসেন্স নবায়ন কিংবা নতুন লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে কি না– সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) রাজিব মিনা বলেন, লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে নবায়ন বন্ধ হয়নি। কারণ নবায়ন বন্ধ হলে তো সব বারই অবৈধ হয়ে যাবে। যেসব বার মালিক লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করেছে তাদের নবায়নের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন লাইসেন্স কাউকে দেওয়া হয়নি।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি মদের বার রয়েছে। প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় এবং বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের বাস করায় ঢাকা বিভাগে মদের বারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে গুলশান, বনানী, প্রগতি সরণি, মতিঝিল এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় বারের সংখ্যা বেশি। প্রধান কয়েকটি বারের নাম হচ্ছে আর বার (রেনেসাঁ হোটেল, গুলশান), অ্যাকুয়া ডেক (ইন্টারকন্টিনেন্টাল), লা ডিপ্লোম্যাট (গুলশান), সাকুরা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার (বাংলামোটর), হোটেল পূর্বাণী বার (মতিঝিল), স্কাই লাউঞ্জ বার, চ্যালেট বার এবং ডিপিএল বার (গ্রিন রোড)।

পর্যটন নগরী কক্সবাজার এবং দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। তাই এই বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক মদের বার রয়েছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিভাগে প্রায় ১৫৫টির মতো বড় বার ও অ্যালকোহল পরিবেশন কেন্দ্র রয়েছে। প্রধান কয়েকটি বারের নাম হোটেল পেনিনসুলা বার, রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বার এবং পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত কক্সবাজারের হোটেল শৈবাল ও মোটেলে অবস্থিত বিভিন্ন বার।

শিল্পনগরী মোংলা বন্দর এবং দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মদের কারখানা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি(বাংলাদেশ) লিমিটেড খুলনা বিভাগে। এ কারণে এখানে বেশ কিছু পুরোনো ও অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। প্রধান কয়েকটি বারের নাম হলো হোটেল ক্যাসল সালাম বার (খুলনা নগরী), হোটেল টাইগার গার্ডেন বার এবং কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড নিজস্ব অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউশন শপ।

সিলেটে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রবাসী এবং পর্যটক আসার কারণে তারকা হোটেলগুলোতে সরকারি অনুমোদিত বার রয়েছে। প্রধান কয়েকটি বারের নাম হচ্ছে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ বার (শ্রীমঙ্গল), হোটেল রোজ ভিউ বার (সিলেট শহর) এবং নাজিমগড় রিসোর্ট বার।

রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ

এই বিভাগগুলোতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা পর্যটনকেন্দ্র তুলনামূলক কম থাকায় মদের বারের সংখ্যাও অনেক কম। মূলত কিছু নির্দিষ্ট তিন-তারকা বা তদূর্ধ্ব মানের হোটেল এবং সরকারি পর্যটন মোটেলের ভেতরেই কেবল এই বারগুলো আছে।

/বিবি/