সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় হতাহত ৩৯

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় হতাহত ৩৯
সৌদি বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডুলি। ছবি: আল জাজিরা

সৌদি আরবের দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কমপক্ষে ৩৬ জন আহত হয়েছেন।

সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গেও সংঘত চলমান রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে হুথি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ অভিমুখে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে।

হুথি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারী বলেছেন, বিমান চলাচলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে এসব হামলা।

বুধবার সন্ধ্যার পর এক বিবৃতিতে সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছে। আর আবহা বিমানবন্দরে দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন।

ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বুধবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দরশহর এডেনের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা করেছে হুথি বিদ্রোহীরা।

এতে বলা হয়, কায়রো থেকে আসা একটি বিমানের অবতরণের কয়েক মিনিট আগে রানওয়ের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশের জন্য এই বিমানবন্দরটিই প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশপথ ছিলো।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের লড়াই বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নৌপথটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর থেকে এই জলপথ দিয়েই সৌদি আরব তেল রপ্তানি করে আসছে।

সেপ্টেম্বর মাসে হুথিরা প্রণালির নিকটে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহর মোচা দখল করে। তবে এই সপ্তাহে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান সহায়তায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী কৌশলগত এই এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং মোচা পুনরুদ্ধারের দাবি করে। তবে সরকারি বাহিনীর এই অগ্রযাত্রা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের রেশ হিসেবে ছড়িয়ে পড়া এই লড়াই, ইয়েমেনের দীর্ঘ ১২ বছরের গৃহযুদ্ধকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। সেইসঙ্গে এ যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) বুধবার জানিয়েছে, লড়াইয়ে হুথিদের সঙ্গে ইয়েমেনি ও সৌদি সমর্থিত সামরিক জোটের সংঘাত শুরুর পর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলা করতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার স্বাক্ষরিত মক্কা জোট সক্রিয় করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্রুত সৌদিতে সামরিক সহায়তা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

/জেএইচ/