চার মুসলিম দেশের মধ্যে ‘বদর’ চুক্তি স্বাক্ষর, কী আছে এতে?

চার মুসলিম দেশের মধ্যে ‘বদর’ চুক্তি স্বাক্ষর, কী আছে এতে?
সিজেডএন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এজন্য ওই অঞ্চলে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এটা বদর সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি হিসেবে পরিচিত পাবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় এই চার দেশ বদর সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির লক্ষ্য হলো সামরিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তিগত সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা করা। এই চুক্তির ব্যাপক অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
প্রত্যেক দেশের আলাদা সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একে-অপরের সহায়তায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার বাইরে ভাবতে উৎসাহিত করছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অর্থ দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী পরিত্যাগ করা নয়। বরং এর লক্ষ্য হলো বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা।
প্রতিরক্ষা শিল্প বিশ্লেষক এবং মারগেন অ্যানালিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরদা মেভলুতোগলু বলেছেন, চুক্তিটি ওই চার দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি আরও অনেক দেশের মধ্যে বিস্তৃত হতে পারে।
কী আছে চুক্তিতে?
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হলো- প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এছাড়া কারিগরি প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তির অধীনে প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ বা দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে আসবে।
মেভলুতোগলু বলেন, ‘তুরস্ক প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সরবরাহ করবে। পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া উৎপাদন ক্ষমতা, দক্ষ জনশক্তি এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার দেবে। আর কাতার বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও চাহিদা সরবরাহ করবে।’
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ও দেশগুলোকে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে
এই ব্যবস্থার ফলে দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও বড় ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্ডার ও বিনিয়োগের পথ সৃষ্টি করতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী আলবার্ট ভিদাল বলেছেন, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া উভয়ই তুরস্কের অস্ত্র কিনতে চায়। পাশাপাশি নিজ দেশেও এসব অস্ত্র উৎপাদন কারখানা করতে ইচ্ছুক।
তিনি বলেন, এর ফলে তুর্কি কোম্পানিগুলোর খরচ কমতে পারে এবং পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে কাতার আর্থিক বিনিয়োগ নিয়ে আসবে। ফলে তারাও লাভবান হবে।
বিদ্যমান অংশীদারিত্ব
বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা খাতের অধিকারী তুরস্কের ইতোমধ্যেই কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আলাদাভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে। কাতার ও তুরস্ক ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা শিল্প সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের নৌ-উৎপাদন চুক্তি রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে চারটি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ইস্তাম্বুলে এবং দুটি করাচি শিপইয়ার্ডে নির্মিত হবে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্ক যৌথভাবে একটি ট্যাংক নির্মাণ করছে।
ভিদাল বলেন, নতুন এই চুক্তিটি শিল্পগত হিসাবের পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘনিষ্ঠ আরও বেশি দেশকে একে অপরের নিরাপত্তায় অংশীদার করতে পারে।
ওয়াশিংটনের উপর নির্ভরতা কমবে?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হুথি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ঘাটতির খবর বিদ্যমান অংশীদারদের শক্তিশালী করা এবং অভ্যন্তরীণ অস্ত্র নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরও জরুরি করে তুলছে।
তবে এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাতারের কৌশলগত সম্পর্ক ত্যাগ করার সম্ভাবনা কম। অপরদিকে তুরস্ক ন্যাটোর অধীনে থেকে বৃহত্তর প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা চায়, এর থেকে স্বায়ত্তশাসন নয়।
এর আগে গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। যা মক্কা চুক্তি নামে পরিচিত। এ চুক্তিতে বলা আছে, কোনো দেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে আক্রান্ত দেশকে সহায়তায় এগিয়ে আসবে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এজন্য ওই অঞ্চলে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এটা বদর সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি হিসেবে পরিচিত পাবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় এই চার দেশ বদর সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির লক্ষ্য হলো সামরিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তিগত সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা করা। এই চুক্তির ব্যাপক অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
প্রত্যেক দেশের আলাদা সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একে-অপরের সহায়তায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার বাইরে ভাবতে উৎসাহিত করছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অর্থ দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী পরিত্যাগ করা নয়। বরং এর লক্ষ্য হলো বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা।
প্রতিরক্ষা শিল্প বিশ্লেষক এবং মারগেন অ্যানালিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরদা মেভলুতোগলু বলেছেন, চুক্তিটি ওই চার দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি আরও অনেক দেশের মধ্যে বিস্তৃত হতে পারে।
কী আছে চুক্তিতে?
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হলো- প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এছাড়া কারিগরি প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তির অধীনে প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ বা দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে আসবে।
মেভলুতোগলু বলেন, ‘তুরস্ক প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সরবরাহ করবে। পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া উৎপাদন ক্ষমতা, দক্ষ জনশক্তি এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার দেবে। আর কাতার বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও চাহিদা সরবরাহ করবে।’
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ও দেশগুলোকে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে
এই ব্যবস্থার ফলে দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও বড় ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্ডার ও বিনিয়োগের পথ সৃষ্টি করতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী আলবার্ট ভিদাল বলেছেন, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া উভয়ই তুরস্কের অস্ত্র কিনতে চায়। পাশাপাশি নিজ দেশেও এসব অস্ত্র উৎপাদন কারখানা করতে ইচ্ছুক।
তিনি বলেন, এর ফলে তুর্কি কোম্পানিগুলোর খরচ কমতে পারে এবং পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে কাতার আর্থিক বিনিয়োগ নিয়ে আসবে। ফলে তারাও লাভবান হবে।
বিদ্যমান অংশীদারিত্ব
বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা খাতের অধিকারী তুরস্কের ইতোমধ্যেই কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আলাদাভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে। কাতার ও তুরস্ক ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা শিল্প সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের নৌ-উৎপাদন চুক্তি রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে চারটি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ইস্তাম্বুলে এবং দুটি করাচি শিপইয়ার্ডে নির্মিত হবে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্ক যৌথভাবে একটি ট্যাংক নির্মাণ করছে।
ভিদাল বলেন, নতুন এই চুক্তিটি শিল্পগত হিসাবের পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘনিষ্ঠ আরও বেশি দেশকে একে অপরের নিরাপত্তায় অংশীদার করতে পারে।
ওয়াশিংটনের উপর নির্ভরতা কমবে?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হুথি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ঘাটতির খবর বিদ্যমান অংশীদারদের শক্তিশালী করা এবং অভ্যন্তরীণ অস্ত্র নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরও জরুরি করে তুলছে।
তবে এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাতারের কৌশলগত সম্পর্ক ত্যাগ করার সম্ভাবনা কম। অপরদিকে তুরস্ক ন্যাটোর অধীনে থেকে বৃহত্তর প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা চায়, এর থেকে স্বায়ত্তশাসন নয়।
এর আগে গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। যা মক্কা চুক্তি নামে পরিচিত। এ চুক্তিতে বলা আছে, কোনো দেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে আক্রান্ত দেশকে সহায়তায় এগিয়ে আসবে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

চার মুসলিম দেশের মধ্যে ‘বদর’ চুক্তি স্বাক্ষর, কী আছে এতে?
সিজেডএন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এজন্য ওই অঞ্চলে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এটা বদর সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি হিসেবে পরিচিত পাবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় এই চার দেশ বদর সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির লক্ষ্য হলো সামরিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং প্রযুক্তিগত সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা করা। এই চুক্তির ব্যাপক অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
প্রত্যেক দেশের আলাদা সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একে-অপরের সহায়তায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর অতি-নির্ভরশীলতার বাইরে ভাবতে উৎসাহিত করছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অর্থ দীর্ঘস্থায়ী মৈত্রী পরিত্যাগ করা নয়। বরং এর লক্ষ্য হলো বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা।
প্রতিরক্ষা শিল্প বিশ্লেষক এবং মারগেন অ্যানালিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরদা মেভলুতোগলু বলেছেন, চুক্তিটি ওই চার দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি আরও অনেক দেশের মধ্যে বিস্তৃত হতে পারে।
কী আছে চুক্তিতে?
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য হলো- প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এছাড়া কারিগরি প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তির অধীনে প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব সম্পদ বা দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে আসবে।
মেভলুতোগলু বলেন, ‘তুরস্ক প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সরবরাহ করবে। পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া উৎপাদন ক্ষমতা, দক্ষ জনশক্তি এবং বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার দেবে। আর কাতার বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও চাহিদা সরবরাহ করবে।’
তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ও দেশগুলোকে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে
এই ব্যবস্থার ফলে দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণে আরও বড় ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্ডার ও বিনিয়োগের পথ সৃষ্টি করতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী আলবার্ট ভিদাল বলেছেন, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া উভয়ই তুরস্কের অস্ত্র কিনতে চায়। পাশাপাশি নিজ দেশেও এসব অস্ত্র উৎপাদন কারখানা করতে ইচ্ছুক।
তিনি বলেন, এর ফলে তুর্কি কোম্পানিগুলোর খরচ কমতে পারে এবং পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে কাতার আর্থিক বিনিয়োগ নিয়ে আসবে। ফলে তারাও লাভবান হবে।
বিদ্যমান অংশীদারিত্ব
বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা খাতের অধিকারী তুরস্কের ইতোমধ্যেই কাতার, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আলাদাভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে। কাতার ও তুরস্ক ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা শিল্প সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের নৌ-উৎপাদন চুক্তি রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে চারটি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ইস্তাম্বুলে এবং দুটি করাচি শিপইয়ার্ডে নির্মিত হবে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্ক যৌথভাবে একটি ট্যাংক নির্মাণ করছে।
ভিদাল বলেন, নতুন এই চুক্তিটি শিল্পগত হিসাবের পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘনিষ্ঠ আরও বেশি দেশকে একে অপরের নিরাপত্তায় অংশীদার করতে পারে।
ওয়াশিংটনের উপর নির্ভরতা কমবে?
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হুথি হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ঘাটতির খবর বিদ্যমান অংশীদারদের শক্তিশালী করা এবং অভ্যন্তরীণ অস্ত্র নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরও জরুরি করে তুলছে।
তবে এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাতারের কৌশলগত সম্পর্ক ত্যাগ করার সম্ভাবনা কম। অপরদিকে তুরস্ক ন্যাটোর অধীনে থেকে বৃহত্তর প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা চায়, এর থেকে স্বায়ত্তশাসন নয়।
এর আগে গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। যা মক্কা চুক্তি নামে পরিচিত। এ চুক্তিতে বলা আছে, কোনো দেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে আক্রান্ত দেশকে সহায়তায় এগিয়ে আসবে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

মক্কা চুক্তি: হুথিদের মোকাবিলায় সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান-তুরস্ক
মক্কা চুক্তির প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার সামরিক প্রধানদের
মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করলো মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশের দূতাবাস 







