ভারতে জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, ‘ফ্রি কাশ্মীর’ স্লোগানের অভিযোগ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ভারতে জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, ‘ফ্রি কাশ্মীর’ স্লোগানের অভিযোগ
জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা

ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ স্লোগান দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় যান তিনি। পরবর্তীতে সেখান থেকে তাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

আটক হওয়ার আগে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে মাসুদ বলেন, সেখানে ‘ফ্রি কাশ্মীর’ দাবি করে কোনো স্লোগান দেওয়া হয়নি, একটিও না। আমি সবার সামনে দাঁড়িয়ে এ ধরনের স্লোগানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছি এবং বলেছি যে কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি উল্লেখ করেন, কিছু অসাধু লোক আন্দোলনকে বিপথে চালনা করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, ক্যাম্পাসে জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কিত পোস্টার যারা লাগাচ্ছিল, তারা আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছিল এবং ছাত্র বিক্ষোভের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এ ধরনের পোস্টার যারা টাঙিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ কংগ্রেস সাংসদ বলেন, কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সর্বদা তাই থাকবে।

কংগ্রেসের এ নেতা আরও বলেন, এখানকার একটি শিশুও এর অন্যথা বলবে না। যারা এই ধরনের পোস্টার লাগিয়ে আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ন্যায্য। আপনারা ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল করছেন না কেন? তারাই এ দেশের ভবিষ্যৎ। এ জাতির ভবিষ্যৎকে কেন চূর্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে?

এদিকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ ও অনশন ধর্মঘটের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপ নিয়েছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো খতিয়ে দেখতে এবং ক্যাম্পাসে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ৭ সদস্যের একটি উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি তৈরি করা হয়েছে।

১৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মাজহার আসিফ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মেহতাব আলম রিজভী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আহতেশামুল হকসহ শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ছাত্র কল্যাণ ডিন, চিফ প্রোক্টর ও হোস্টেল প্রভোস্টদের এক জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ উচ্চপর্যায়ের প্যানেলটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো শুনবে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ জমা দেবে।

সূত্র: ইকোনোমিকস টাইমস

/এমএকে/