৫ জেলায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার, ৫৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাব উঠছে একনেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জেলায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার, ৫৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাব উঠছে একনেকে
রোগীকে পরমাণু প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে

ক্যানসার, হৃদরোগ, থাইরয়েড, কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য দেশের ৫ জেলায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব আগামী রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে।

টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও কিশোরগঞ্জের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আধুনিক পরমাণু প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞ জনবল তৈরির সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আকতার জানান, দেশে বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। নিউক্লিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি একনেকের সভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, পাঁচটি কেন্দ্রে থাইরয়েড, কিডনি, লিভার, হৃদরোগ ও বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারসহ জটিল রোগের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাও প্রকল্পের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের আধুনিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ১৯৬০ সাল থেকে পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে মোট ২২টি নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জাতীয় ইনস্টিটিউট রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাস ও মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ক্যাম্পাসে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৩৭টি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবা চালু রয়েছে। বিভিন্ন জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বিবেচনায় এ সেবা আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই বিবেচনায় ৮টি জেলায় নতুন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে জমি বরাদ্দ পাওয়ার পর টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীতে ৫টি কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রগুলোর ভবন নির্মাণ, দেশি-বিদেশি যন্ত্রপাতি কেনা, জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, যানবাহন সংগ্রহ ও আসবাবপত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবলও প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

/এফসি/