রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

পাবনা সংবাদদাতা
পাবনা সংবাদদাতা
রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান
ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়ামের চালান

কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নেওয়া হয়েছে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েলের এ চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিশেষ উড়োজাহাজটি ভারত হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান অবতরণের পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তেজস্ক্রিয় এই জ্বালানির চালানটি বুঝে নেন। পরে ৩ অক্টোবর প্রথম চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। এবার কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সড়কপথে দ্বিতীয় চালানটিও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। নিয়ন্ত্রিত ফিশন বিক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম পরমাণু ভেঙে দুটি ভিন্ন পরমাণুতে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় তাপশক্তি তৈরি হয়। এই তাপ কাজে লাগিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এই কেন্দ্রের চুল্লিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে জানান, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

প্রকল্পের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আরও ৯টি পৃথক ফ্লাইটের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জ্বালানি বহনকারী এসব চালান রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত অতিক্রম করে আকাশপথে ঢাকায় পৌঁছাবে।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। রুশ প্রযুক্তিতে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর। এখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। কেন্দ্রটির প্রাথমিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। পরবর্তী সময়ে তা আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানো যাবে।

/জেএইচ/