৮৪ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গুর তথ্য দেয় না

৮৪ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গুর তথ্য দেয় না
সিজেডএন ডেস্ক

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ও মৃতের সঠিক হিসাব জানা জরুরি হলেও দেশের ৮৪ শতাংশের বেশি সরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ডেঙ্গুর প্রকৃত চিত্র কতটা উঠে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যের এই ঘাটতি সংক্রমণের হটস্পট শনাক্ত করা, চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৬১৯টি। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৪৯২টি, জেলা হাসপাতাল ৬১টি, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ৩৮টি এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ২৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৯৭টি থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাচ্ছে অধিদপ্তর। বাকি ৫২২টি হাসপাতাল থেকে কোনো তথ্য আসছে না। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালগুলোর মাত্র ১৫ দশমিক ৭ শতাংশের তথ্য অধিদপ্তরের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলেও তাদের সবার তথ্য কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুরের মতে, ডেঙ্গুর তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, অধিদপ্তর তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট তৎপর নয়। কোন হাসপাতাল তথ্য পাঠাচ্ছে, আর কোনটি পাঠাচ্ছে না, তা নিয়ে কার্যকর নজরদারি নেই। বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল তথ্য না দিলেও তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া বা জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ দেখা যায় না। তার আশঙ্কা, এভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ চলতে থাকলে ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি আড়ালেই থেকে যেতে পারে।
ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও সব ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সরকারি হিসাব দিয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের যথার্থতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তাদের পর্যবেক্ষণে ঢাকার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ইতিমধ্যে ডেঙ্গু ও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯০০ থেকে ১ হাজার এবং মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ থেকে সাতজনের মধ্যে থাকছে। তার মতে, প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক তথ্য না থাকলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই রোগী ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে শিরায় দেওয়ার স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছিল। রোগীর চাপ কতটা বাড়লে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির এই চাপ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে তার পর্যবেক্ষণ। ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন ডেঙ্গু ও হামের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোর তথ্য না পাঠানো দুঃখজনক।
অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে মৃত্যু ৫০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ড্যাশবোর্ডের মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বছরের শুরুতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যু হয়নি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮-এ। অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে মারা গেছেন আরও ৫০ জন। এর মধ্যে ৬ অক্টোবর এক দিনেই সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়।
এলাকাভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৫ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা জেলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনায় ৬০ জন, চট্টগ্রাম ও বরিশালে ২৫ জন করে, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, রংপুরে ছয়জন এবং সিলেটে তিনজন মারা গেছেন।
তবে এসব পরিসংখ্যান মূলত ৯৭টি সরকারি হাসপাতাল ও কয়েকটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ফলে দেশের অধিকাংশ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বাদ পড়ায় এই হিসাব দিয়ে ডেঙ্গুর প্রকৃত বিস্তার ও প্রাণহানির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তথ্য না দেওয়া আইনত অপরাধ
কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতালগুলোর দেওয়া তথ্যে আগেও বড় ধরনের অসংগতি দেখা গেছে। এবার জানা যাচ্ছে, ৮৪ শতাংশের বেশি সরকারি হাসপাতাল থেকেই ডেঙ্গুর তথ্য আসছে না।
তিনি বলেন, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ডেঙ্গুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো বাধ্যতামূলক। তাই তথ্য না দেওয়া আইন লঙ্ঘনের শামিল। হাসপাতালগুলো তথ্য না পাঠালেও অধিদপ্তর ব্যবস্থা না নিলে তা দায়িত্ব পালনে অবহেলার পরিচয় দেয়।
ড. কবিরুল বাশার আরও বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোন এলাকায় সংক্রমণ বেশি, তা শনাক্ত করতে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত দুই মাসের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণেও কিছু অসংগতি চোখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কয়েক দিন একই সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি দেখানো হয়েছে। আবার শুক্র ও শনিবার মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য কিংবা এক-দুজনের মধ্যে সীমিত দেখা গেছে। অথচ বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তথ্যের ঘাটতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই
কেন দেশের সব সরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য আসছে না, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. ইসমত আরা বলেন, সারা দেশ থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডেঙ্গু-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেন। তাই তথ্য বাদ পড়া বা ভুল হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম।
তবে ৬১৯টি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৯৭টি থেকে তথ্য পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালের রোগী শনাক্ত, ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা জরুরি। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য পাঠাচ্ছে না, তাদের কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সংক্রমণের বিস্তার নিরূপণ, চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বণ্টনের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ও মৃতের সঠিক হিসাব জানা জরুরি হলেও দেশের ৮৪ শতাংশের বেশি সরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ডেঙ্গুর প্রকৃত চিত্র কতটা উঠে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যের এই ঘাটতি সংক্রমণের হটস্পট শনাক্ত করা, চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৬১৯টি। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৪৯২টি, জেলা হাসপাতাল ৬১টি, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ৩৮টি এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ২৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৯৭টি থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাচ্ছে অধিদপ্তর। বাকি ৫২২টি হাসপাতাল থেকে কোনো তথ্য আসছে না। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালগুলোর মাত্র ১৫ দশমিক ৭ শতাংশের তথ্য অধিদপ্তরের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলেও তাদের সবার তথ্য কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুরের মতে, ডেঙ্গুর তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, অধিদপ্তর তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট তৎপর নয়। কোন হাসপাতাল তথ্য পাঠাচ্ছে, আর কোনটি পাঠাচ্ছে না, তা নিয়ে কার্যকর নজরদারি নেই। বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল তথ্য না দিলেও তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া বা জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ দেখা যায় না। তার আশঙ্কা, এভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ চলতে থাকলে ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি আড়ালেই থেকে যেতে পারে।
ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও সব ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সরকারি হিসাব দিয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের যথার্থতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তাদের পর্যবেক্ষণে ঢাকার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ইতিমধ্যে ডেঙ্গু ও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯০০ থেকে ১ হাজার এবং মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ থেকে সাতজনের মধ্যে থাকছে। তার মতে, প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক তথ্য না থাকলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই রোগী ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে শিরায় দেওয়ার স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছিল। রোগীর চাপ কতটা বাড়লে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির এই চাপ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে তার পর্যবেক্ষণ। ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন ডেঙ্গু ও হামের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোর তথ্য না পাঠানো দুঃখজনক।
অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে মৃত্যু ৫০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ড্যাশবোর্ডের মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বছরের শুরুতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যু হয়নি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮-এ। অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে মারা গেছেন আরও ৫০ জন। এর মধ্যে ৬ অক্টোবর এক দিনেই সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়।
এলাকাভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৫ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা জেলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনায় ৬০ জন, চট্টগ্রাম ও বরিশালে ২৫ জন করে, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, রংপুরে ছয়জন এবং সিলেটে তিনজন মারা গেছেন।
তবে এসব পরিসংখ্যান মূলত ৯৭টি সরকারি হাসপাতাল ও কয়েকটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ফলে দেশের অধিকাংশ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বাদ পড়ায় এই হিসাব দিয়ে ডেঙ্গুর প্রকৃত বিস্তার ও প্রাণহানির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তথ্য না দেওয়া আইনত অপরাধ
কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতালগুলোর দেওয়া তথ্যে আগেও বড় ধরনের অসংগতি দেখা গেছে। এবার জানা যাচ্ছে, ৮৪ শতাংশের বেশি সরকারি হাসপাতাল থেকেই ডেঙ্গুর তথ্য আসছে না।
তিনি বলেন, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ডেঙ্গুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো বাধ্যতামূলক। তাই তথ্য না দেওয়া আইন লঙ্ঘনের শামিল। হাসপাতালগুলো তথ্য না পাঠালেও অধিদপ্তর ব্যবস্থা না নিলে তা দায়িত্ব পালনে অবহেলার পরিচয় দেয়।
ড. কবিরুল বাশার আরও বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোন এলাকায় সংক্রমণ বেশি, তা শনাক্ত করতে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত দুই মাসের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণেও কিছু অসংগতি চোখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কয়েক দিন একই সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি দেখানো হয়েছে। আবার শুক্র ও শনিবার মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য কিংবা এক-দুজনের মধ্যে সীমিত দেখা গেছে। অথচ বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তথ্যের ঘাটতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই
কেন দেশের সব সরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য আসছে না, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. ইসমত আরা বলেন, সারা দেশ থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডেঙ্গু-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেন। তাই তথ্য বাদ পড়া বা ভুল হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম।
তবে ৬১৯টি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৯৭টি থেকে তথ্য পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালের রোগী শনাক্ত, ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা জরুরি। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য পাঠাচ্ছে না, তাদের কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সংক্রমণের বিস্তার নিরূপণ, চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বণ্টনের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

৮৪ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গুর তথ্য দেয় না
সিজেডএন ডেস্ক

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ও মৃতের সঠিক হিসাব জানা জরুরি হলেও দেশের ৮৪ শতাংশের বেশি সরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ডেঙ্গুর প্রকৃত চিত্র কতটা উঠে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যের এই ঘাটতি সংক্রমণের হটস্পট শনাক্ত করা, চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়া এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৬১৯টি। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৪৯২টি, জেলা হাসপাতাল ৬১টি, সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ৩৮টি এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ২৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৯৭টি থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পাচ্ছে অধিদপ্তর। বাকি ৫২২টি হাসপাতাল থেকে কোনো তথ্য আসছে না। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালগুলোর মাত্র ১৫ দশমিক ৭ শতাংশের তথ্য অধিদপ্তরের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলেও তাদের সবার তথ্য কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুরের মতে, ডেঙ্গুর তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, অধিদপ্তর তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট তৎপর নয়। কোন হাসপাতাল তথ্য পাঠাচ্ছে, আর কোনটি পাঠাচ্ছে না, তা নিয়ে কার্যকর নজরদারি নেই। বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল তথ্য না দিলেও তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া বা জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ দেখা যায় না। তার আশঙ্কা, এভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ চলতে থাকলে ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি আড়ালেই থেকে যেতে পারে।
ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও সব ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সরকারি হিসাব দিয়ে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের যথার্থতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশঙ্কা, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি হতে পারে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তাদের পর্যবেক্ষণে ঢাকার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ইতিমধ্যে ডেঙ্গু ও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯০০ থেকে ১ হাজার এবং মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচ থেকে সাতজনের মধ্যে থাকছে। তার মতে, প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক তথ্য না থাকলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই রোগী ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে শিরায় দেওয়ার স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছিল। রোগীর চাপ কতটা বাড়লে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানে পরিস্থিতির এই চাপ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে তার পর্যবেক্ষণ। ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিদিন ডেঙ্গু ও হামের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোর তথ্য না পাঠানো দুঃখজনক।
অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে মৃত্যু ৫০
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ড্যাশবোর্ডের মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বছরের শুরুতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যু হয়নি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮-এ। অক্টোবরের প্রথম নয় দিনে মারা গেছেন আরও ৫০ জন। এর মধ্যে ৬ অক্টোবর এক দিনেই সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয়।
এলাকাভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৫ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা জেলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনায় ৬০ জন, চট্টগ্রাম ও বরিশালে ২৫ জন করে, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, রংপুরে ছয়জন এবং সিলেটে তিনজন মারা গেছেন।
তবে এসব পরিসংখ্যান মূলত ৯৭টি সরকারি হাসপাতাল ও কয়েকটি বড় বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ফলে দেশের অধিকাংশ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বাদ পড়ায় এই হিসাব দিয়ে ডেঙ্গুর প্রকৃত বিস্তার ও প্রাণহানির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তথ্য না দেওয়া আইনত অপরাধ
কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও হাসপাতালগুলোর দেওয়া তথ্যে আগেও বড় ধরনের অসংগতি দেখা গেছে। এবার জানা যাচ্ছে, ৮৪ শতাংশের বেশি সরকারি হাসপাতাল থেকেই ডেঙ্গুর তথ্য আসছে না।
তিনি বলেন, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ডেঙ্গুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো বাধ্যতামূলক। তাই তথ্য না দেওয়া আইন লঙ্ঘনের শামিল। হাসপাতালগুলো তথ্য না পাঠালেও অধিদপ্তর ব্যবস্থা না নিলে তা দায়িত্ব পালনে অবহেলার পরিচয় দেয়।
ড. কবিরুল বাশার আরও বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোন এলাকায় সংক্রমণ বেশি, তা শনাক্ত করতে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত দুই মাসের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণেও কিছু অসংগতি চোখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কয়েক দিন একই সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি দেখানো হয়েছে। আবার শুক্র ও শনিবার মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য কিংবা এক-দুজনের মধ্যে সীমিত দেখা গেছে। অথচ বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তথ্যের ঘাটতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই
কেন দেশের সব সরকারি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য আসছে না, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. ইসমত আরা বলেন, সারা দেশ থেকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডেঙ্গু-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেন। তাই তথ্য বাদ পড়া বা ভুল হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম।
তবে ৬১৯টি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৯৭টি থেকে তথ্য পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতালের রোগী শনাক্ত, ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা জরুরি। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্য পাঠাচ্ছে না, তাদের কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সংক্রমণের বিস্তার নিরূপণ, চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বণ্টনের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।








