জাতীয়করণের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান প্রাথমিক শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়করণের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান প্রাথমিক শিক্ষকরা
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাদের দাবি, ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারির গেজেট অনুযায়ী বঞ্চিত সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করতে হবে। দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ না পেলে তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সম্মিলিত জোটের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচি থেকে সংগঠনটির আহবায়ক মোহাম্মদ আলী লিটন বলেন, আমাদের দাবি যৌক্তিক। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।

তিনি বলেন, আমরা এরইমধ্যে মহাপরিচালক বরাবর ৩৩ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি। পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে একাডেমিক ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত সব দপ্তরে আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে অব্যাহতভাবে যোগাযোগ ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

মোহাম্মদ আলী লিটন বলেন, আশানুরূপ ফলাফল না পেয়ে ২০১৮ সালে ১৮ দিন, ২০১৯ সালে ৫৬ দিন, ২০২১ সালে ৭ দিন, ২০২২ সালে ২ দিন, ২০২৩ সালে ১৭ দিন এবং কয়েক দফায় ৪৫ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। ২০২৫ সালেও কয়েক দফায় ৫৭ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেও ফলাফল না পেয়ে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে আমরা আরও কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সম্মিলিত জোটের সদস্য সচিব আমিন সরকার ফরহাদ বলেন, ৯ জানুয়ারি ২০১৩ সালের ঘোষণা অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৭ মে তারিখের আগে প্রতিষ্ঠিত, জমি, দলিলকৃত এবং পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদনকৃত বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতাভুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় ৩১ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানো হয়। এর ফলে ওই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে প্রায় ৫ হাজার বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে যায়। এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

/এফসি/