শিরোনাম

গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নে কোডিং-লটারিতে রিভিউয়ার নির্বাচন করবে ইউজিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নে কোডিং-লটারিতে রিভিউয়ার নির্বাচন করবে ইউজিসি
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) লোগো

গবেষণা প্রকল্পের প্রস্তাব মূল্যায়নে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় গবেষণা অর্থায়নের জন্য জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলো আবেদনকারী গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচয় গোপন রেখে বিশেষ কোডের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য রিভিউয়ারদের একটি প্যানেল থেকে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত রিভিউয়ার নির্বাচন করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত পরিচয়, প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব কিংবা তদবিরের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছে ইউজিসি।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘উপ-প্রকল্প মূল্যায়ন পরিচিতি’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

তিনি বলেন, হিট প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপ-প্রকল্প নির্বাচন নিয়ে কিছু নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। যদিও বাস্তবতার সঙ্গে সেই ধারণার যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, তবুও গবেষক ও শিক্ষক সমাজে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় থাকুক—ইউজিসি তা চায় না। তাই দ্বিতীয় ধাপের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আমরা প্রকৃত গবেষকদের খুঁজে বের করতে চাই। প্রকল্প নির্বাচনে ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, গবেষণার গুণগত মান, নতুনত্ব এবং সম্ভাব্য প্রভাবই হবে মূল বিবেচ্য।

তিনি বলেন, গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়নের জন্য আবেদনকারীদের প্রস্তাবিত বিশেষজ্ঞ, গুগল ফর্মের মাধ্যমে আগ্রহ প্রকাশকারী গবেষক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি প্রাথমিক রিভিউয়ার প্যানেল গঠন করা হয়েছে। পরে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি প্রকাশনা, গবেষণা অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা যাচাই করে চূড়ান্ত প্যানেল নির্ধারণ করেছে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিটি গবেষণা প্রস্তাবকে আলাদা কোড দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য ছয় থেকে আটজন সম্ভাব্য রিভিউয়ার রাখা হলেও লটারির মাধ্যমে দুজনকে চূড়ান্ত রিভিউয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। মূল্যায়নের নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো রিভিউয়ার জানতে পারবেন না, কোন গবেষণা প্রস্তাব তার কাছে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব বাহ্যিক প্রভাব, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও পক্ষপাত থেকে মুক্ত রাখতে চাই।

তিনি বলেন, গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়নের যোগ্যতা নির্ধারণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাও জরুরি। গবেষকদের আস্থা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলতে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গত বছর অর্থায়ন পাওয়া ১৮০টি গবেষণা প্রকল্প নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম, অর্থের অপব্যবহার বা নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার প্রমাণ মিললে অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্মশালায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী এবং হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এসবি/