বেড়েছে আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম, বাজারে কমছে ক্রেতা

বেড়েছে আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম, বাজারে কমছে ক্রেতা
নিত্যপণ্যের বাজার। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে বেড়েছে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে ডাল, ডিম, তেল ও মাংসের দাম। আর সরবরাহের ওপর নির্ভর করে ওঠা-নামা করছে সবজির দামও। তবে জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে বেচাকেনা কমেছে। মাসের খরচেও সমন্বয় করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, আদা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। দুদিন আগেও এর দাম ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। আর বড় রসুন প্রতি কেজি ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে।

বরিশাল বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. জাকির হোসেন জানান, মানভেদে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহেও যা ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা।

তবে বাজারে ক্রেতা কম আসছে বলে জানান বিক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি ভেন্ডি ৫০ টাকা, কুমড়া ৪০ টাকা, ধুন্দুল ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, সিম ১৪০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা, কাঁচকলা হালি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পাবদা কেজি ৪০০ টাকা, পোয়া ৪০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ টাকা, আইড় ৪০০ টাকা, সিং ৪০০ টাকা, টেংরা ১০০০ টাকা, বেলে ৭০০ টাকা, রুই ৩৮০ টাকা, কাতলা ৪০০ টাকা, পাঙাস ২০০ টাকা ও চিংড়ি মানভেদে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পণ্য কিনছেন এক নারী। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
পণ্য কিনছেন এক নারী। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

অন্যদিকে রায়সাহেববাজারের সবজি বিক্রেতা মো. লিমন বলেন, বাজারে প্রতি কেজি ধনে পাতা ২৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, সিম ১৮০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও টমেটো ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বনশ্রী বাসিন্দা এক বেসরকারি চাকরিজীবী মোবারক হোসেন দোকানদারকে এক কেজি সিমের দাম জিজ্ঞেস করলে ১৮০ টাকা কেজি শুনে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সিমের কেজি যখন ২০ টাকা হবে তখন খাবো। বলেই তিনি আলুর দাম জিজ্ঞেস করেন। পরে আলু কেজি ৩০ টাকা শুনে বলেন যাক এটার কেজি দাম কম এটা নিয়ে যাই। তিনি বলেন, আমাদের টাকাটা ফিক্সড। বাজারের যে অবস্থা এ অবস্থায় টিকা মুশকিল।

মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সোনালী মুরগি ৩১০ টাকা কেজি, দেশি মুরগি ৭০০-৮০০ টাকা আর ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ টাকা কেজি আর খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
মুরগি। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ডিমের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, লাল ডিম ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের মুদির দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, বোতলের সয়াবিন প্রতি লিটার ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি মসুরের ডাল প্রতি কেজি ১৭০ টাকা, মসুরের ডাল ভাঙা ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা ও আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের ক্রেতা প্রাইভেট কোম্পানির চাকরিজীবী জায়েদ বলেন, দ্রব্যমূল্যাের দাম বাড়লেও আমাদের বেতন বাড়েনি। বাসা থেকে বলে ভালো জিনিস কিনে নিতে। কিন্তু পকেটে হাত দিলে সেটা সম্ভব হয় না। সঞ্চয়ের টাকা কমিয়ে বাধ্য হয়ে বাজারের খরচে ব্যয় করতে হয়।

/জেএইচ/