অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা, বাড়ছে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা, বাড়ছে অভিযোগ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

দেশে ভোক্তাদের অভিযোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনলাইনে পন্য কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে প্রতিশ্রুত পণ্য না পাওয়া, মূল্য তালিকা না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য প্রদর্শন, অবৈধ পক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাত, পণ্যের মোড়ক না থাকা, নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে বিক্রির অভিযোগই বেশি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভোক্তারা।

অনলাইনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি এবং পণ্য বা সেবা কেনার পর যথাযথভাবে সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগও কম নয়। গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই দুটি সেবার ক্ষেত্রে ১ হাজার ২৫০টির অধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন ভোক্তারা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্যে এই চিত্র ফুটে ওঠেছে।

ভোক্তা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধার্যকৃত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে পণ্য বা ওষুধ বিক্রির দায়ে ৬৪৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ পাওয়ার পর ভোক্তা অধিদপ্তর নোটিশের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে ডেকে জরিমানা কিংবা সতর্ক করে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে থাকে। ভোক্তার লিখিত অভিযোগ পেয়ে ওই সময়ে ২৫ লাখ ৭৯ সহাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানার টাকার ২৫ শতাংশ আইন অনুযায়ী ভোক্তাদের দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এছাড়া অনলাইন পণ্য কিংবা সেবা কেনার পর কাঙ্ক্ষিত সরবরাহ পাচ্ছেন না- এমন অভিযোগ পড়েছে ৬০৭টি। এসব অভিযোগে অধিদপ্তর ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া পণ্যের মোড়ক না থাকায় ৯৯টি অভিযোগ আসে। এসব অভিযোগে ৫ লাখ ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাদের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বা ওষুধ বিক্রি করায় অভিযানে ভোক্তা অধিদপ্তর ৬ হাজার ৫২৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর পণ্য বিক্রির সময় মূল্য তালিকা না থাকায় ৬ হাজার ৩৭৬টি প্রতিষ্ঠানকে জারিমানা করা হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ২১ হাজার ৪০০ টাকা। অন্যদিকে পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করায় ৫ হাজার ৯৮১টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৮১ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

অনলাইনে মাল্টিকুকার কিনে প্রতারণার শিকার এক গৃহিণী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে রান্নার ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছিল। এজন্য অনলাইনে একটি মাল্টিকুকার অর্ডার দিয়েছিলাম। পণ্য কেনার পর দেখি বিজ্ঞাপনের চেয়ে আকারে অনেক ছোট। পরে ফেরত দিতে চাইলে আরও অর্থ দিয়ে আরেকটি নিতে বলে। বাধ্য হয়ে সেটাই নিলাম। কিন্তু এক সপ্তাহ ব্যবহার করার পরই তা নষ্ট হয়ে গেছে।

নোরা নামে আরেক নারী বলেন, স্বামীর জন্য তাকওয়া-মার্ট নামের একটি অনলাইন শপে ঘড়ি অর্ডার দিয়েছিলাম। পরে তারা কল করে অর্ডার কনফার্ম করতে বলে। সেটা করার পর টাকা পরিশোধ করতে বলে। ক্যাশ অন ডেলিভারির কথা বললে তারা জানায় আমাদের শপে অর্ডার কনফর্ম করার পর টাকা দিতে হয়। এরপর টাকা দিলেও তারা পণ্য দেয়নি।

আরেক ভোক্তা অভিরূপ কর বলেন, অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ঘড়ি অর্ডার করেছিলাম। কিন্তু কেনার পর দেখি সেটা আকারে খুবই ছোট এবং দেখতেও বিশ্রি। বিজ্ঞাপনের মতো নয়।

ভোক্তাদের অভিযোগ বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিযোগ বাড়ছে। এছাড়া অভিযোগ দায়ের সহজতর করাও অভিযোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

/জেএইচ/