শিল্প কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, দ্রুত বিকশিত হচ্ছে জ্বালানি খাত

শিল্প কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, দ্রুত বিকশিত হচ্ছে জ্বালানি খাত
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে কম খরচে ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি সম্পদ (ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি রিসোর্সেস বা ডিইআর)। এগুলো হলো ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি যার মধ্যে রয়েছে– ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচ পাম্প, বায়োগ্যাস, ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম প্রভৃতি।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) নতুন প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো ‘রোল অব ডিস্ট্রিবিউটেড রিসোর্সেস ইন এনার্জি ট্রানজিশন: এ মাল্টি কান্ট্রি পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি খাতের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ডিইআর খাতের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি এখন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে ডিইআর-এর দ্রুত বিস্তারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।
বাংলাদেশে শুরুতে এ খাতের অগ্রগতি ধীর ছিল। তবে এখন শিল্প খাতের আগ্রহের কারণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট। কিন্তু আইইইএফএর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিসহ ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট স্থাপিত সক্ষমতা এরইমধ্যে ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ০ দশমিক ১৫ মেগাওয়াটের কম ক্ষমতার ছোট প্রকল্পগুলো বিবেচনায় নিলে মোট সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।
আইইইএফএর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক এবং গবেষণাপত্রটির সহলেখক শফিকুল আলম বলেন, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের গ্রিড-সংযুক্ত পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট সক্ষমতা ছিল ৮৫৯ মেগাওয়াট। এর তুলনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) কোম্পানির হাতে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইপলাইন রয়েছে। তবে শুধু শিল্প খাতেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ডিজেলনির্ভর সেচ খাতেও সৌরবিদ্যুতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ডিজেলচালিত সেচের এক-তৃতীয়াংশ সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা যায়, তাহলে বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ডিজেল আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব।
গবেষণায় বলা হয়েছে, নেট মিটারিং নীতিমালা ও স্বল্পসুদে ঋণের সুযোগ থাকলেও গ্রিডের বিদ্যুতের দাম বাড়তে থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করছে। একইভাবে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষি উদ্যোক্তাদের সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে উচ্চ আমদানি শুল্ক প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বড় পরিসরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও সৌরচালিত সেচের বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করছে।
সরকার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক কিছুটা কমালেও কঠোর শর্তের কারণে গ্রামীণ এলাকার ছোট প্রকল্পগুলো এই সুবিধা পাবে না। এছাড়া নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে শিল্প খাতের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আমদানি শুল্ক আগের ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে।
গবেষণায় দেখানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে মূলধনী ভর্তুকির মতো সরকারি প্রণোদনা ডিইআর প্রকল্পের দ্রুত বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুল্ক ছাড় দিয়ে ডিইআর প্রকল্পে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
শফিকুল আলম বলেন, সরকারের কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এর ৫০ শতাংশের বেশি আসবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে। তাই সব ধরনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সম্পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতি দিলে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নেট মিটারিং সংযোগের আবেদন ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদনের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও সৌরচালিত সেচ প্রকল্পগুলো সংযোগ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে ডিইআর খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই স্রেডা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে অনলাইনে করা নেট মিটারিংয়ের আবেদন পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত অনুমোদনে উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতার আলোকে গবেষণায় বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মতো ডিইআর প্রকল্পের সঙ্গে ধীরে ধীরে স্মার্ট মিটার চালু করা উচিত।

দেশে কম খরচে ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি সম্পদ (ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি রিসোর্সেস বা ডিইআর)। এগুলো হলো ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি যার মধ্যে রয়েছে– ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচ পাম্প, বায়োগ্যাস, ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম প্রভৃতি।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) নতুন প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো ‘রোল অব ডিস্ট্রিবিউটেড রিসোর্সেস ইন এনার্জি ট্রানজিশন: এ মাল্টি কান্ট্রি পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি খাতের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ডিইআর খাতের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি এখন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে ডিইআর-এর দ্রুত বিস্তারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।
বাংলাদেশে শুরুতে এ খাতের অগ্রগতি ধীর ছিল। তবে এখন শিল্প খাতের আগ্রহের কারণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট। কিন্তু আইইইএফএর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিসহ ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট স্থাপিত সক্ষমতা এরইমধ্যে ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ০ দশমিক ১৫ মেগাওয়াটের কম ক্ষমতার ছোট প্রকল্পগুলো বিবেচনায় নিলে মোট সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।
আইইইএফএর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক এবং গবেষণাপত্রটির সহলেখক শফিকুল আলম বলেন, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের গ্রিড-সংযুক্ত পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট সক্ষমতা ছিল ৮৫৯ মেগাওয়াট। এর তুলনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) কোম্পানির হাতে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইপলাইন রয়েছে। তবে শুধু শিল্প খাতেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ডিজেলনির্ভর সেচ খাতেও সৌরবিদ্যুতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ডিজেলচালিত সেচের এক-তৃতীয়াংশ সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা যায়, তাহলে বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ডিজেল আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব।
গবেষণায় বলা হয়েছে, নেট মিটারিং নীতিমালা ও স্বল্পসুদে ঋণের সুযোগ থাকলেও গ্রিডের বিদ্যুতের দাম বাড়তে থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করছে। একইভাবে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষি উদ্যোক্তাদের সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে উচ্চ আমদানি শুল্ক প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বড় পরিসরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও সৌরচালিত সেচের বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করছে।
সরকার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক কিছুটা কমালেও কঠোর শর্তের কারণে গ্রামীণ এলাকার ছোট প্রকল্পগুলো এই সুবিধা পাবে না। এছাড়া নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে শিল্প খাতের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আমদানি শুল্ক আগের ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে।
গবেষণায় দেখানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে মূলধনী ভর্তুকির মতো সরকারি প্রণোদনা ডিইআর প্রকল্পের দ্রুত বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুল্ক ছাড় দিয়ে ডিইআর প্রকল্পে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
শফিকুল আলম বলেন, সরকারের কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এর ৫০ শতাংশের বেশি আসবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে। তাই সব ধরনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সম্পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতি দিলে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নেট মিটারিং সংযোগের আবেদন ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদনের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও সৌরচালিত সেচ প্রকল্পগুলো সংযোগ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে ডিইআর খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই স্রেডা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে অনলাইনে করা নেট মিটারিংয়ের আবেদন পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত অনুমোদনে উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতার আলোকে গবেষণায় বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মতো ডিইআর প্রকল্পের সঙ্গে ধীরে ধীরে স্মার্ট মিটার চালু করা উচিত।

শিল্প কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, দ্রুত বিকশিত হচ্ছে জ্বালানি খাত
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে কম খরচে ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি সম্পদ (ডিস্ট্রিবিউটেড এনার্জি রিসোর্সেস বা ডিইআর)। এগুলো হলো ছোট আকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি যার মধ্যে রয়েছে– ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচ পাম্প, বায়োগ্যাস, ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম প্রভৃতি।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) নতুন প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো ‘রোল অব ডিস্ট্রিবিউটেড রিসোর্সেস ইন এনার্জি ট্রানজিশন: এ মাল্টি কান্ট্রি পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি খাতের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ডিইআর খাতের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি এখন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে ডিইআর-এর দ্রুত বিস্তারের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।
বাংলাদেশে শুরুতে এ খাতের অগ্রগতি ধীর ছিল। তবে এখন শিল্প খাতের আগ্রহের কারণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ৪১৮ দশমিক ১ মেগাওয়াট। কিন্তু আইইইএফএর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিসহ ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট স্থাপিত সক্ষমতা এরইমধ্যে ৬৬৭ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ০ দশমিক ১৫ মেগাওয়াটের কম ক্ষমতার ছোট প্রকল্পগুলো বিবেচনায় নিলে মোট সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।
আইইইএফএর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক এবং গবেষণাপত্রটির সহলেখক শফিকুল আলম বলেন, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের গ্রিড-সংযুক্ত পরিবর্তনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট সক্ষমতা ছিল ৮৫৯ মেগাওয়াট। এর তুলনায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দ্রুত সম্প্রসারণ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (ইপিসি) কোম্পানির হাতে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইপলাইন রয়েছে। তবে শুধু শিল্প খাতেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ডিজেলনির্ভর সেচ খাতেও সৌরবিদ্যুতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ডিজেলচালিত সেচের এক-তৃতীয়াংশ সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা যায়, তাহলে বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ডিজেল আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব।
গবেষণায় বলা হয়েছে, নেট মিটারিং নীতিমালা ও স্বল্পসুদে ঋণের সুযোগ থাকলেও গ্রিডের বিদ্যুতের দাম বাড়তে থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করছে। একইভাবে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষি উদ্যোক্তাদের সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে উচ্চ আমদানি শুল্ক প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বড় পরিসরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও সৌরচালিত সেচের বিস্তারে বাধা সৃষ্টি করছে।
সরকার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের আমদানি শুল্ক কিছুটা কমালেও কঠোর শর্তের কারণে গ্রামীণ এলাকার ছোট প্রকল্পগুলো এই সুবিধা পাবে না। এছাড়া নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে শিল্প খাতের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে আমদানি শুল্ক আগের ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে।
গবেষণায় দেখানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে মূলধনী ভর্তুকির মতো সরকারি প্রণোদনা ডিইআর প্রকল্পের দ্রুত বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুল্ক ছাড় দিয়ে ডিইআর প্রকল্পে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
শফিকুল আলম বলেন, সরকারের কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এর ৫০ শতাংশের বেশি আসবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে। তাই সব ধরনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সম্পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতি দিলে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নেট মিটারিং সংযোগের আবেদন ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদনের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও সৌরচালিত সেচ প্রকল্পগুলো সংযোগ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে ডিইআর খাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই স্রেডা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে অনলাইনে করা নেট মিটারিংয়ের আবেদন পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত অনুমোদনে উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতার আলোকে গবেষণায় বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর করতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মতো ডিইআর প্রকল্পের সঙ্গে ধীরে ধীরে স্মার্ট মিটার চালু করা উচিত।

সৌরবিদ্যুতের বৃহৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ







