শিরোনাম

একদিনে ৫৬৫ পোশাকশ্রমিক ছাঁটাই, ছুটিতে গিয়ে জানলেন চাকরি নেই

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
একদিনে ৫৬৫ পোশাকশ্রমিক ছাঁটাই, ছুটিতে গিয়ে জানলেন চাকরি নেই
আশুলিয়ার অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানা

সাভারের আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই একটি তৈরি পোশাক কারখানার ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়।

নোটিশে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক সংকটের মুখে রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যাংকঋণ ও আর্থিক সহায়তা না পাওয়া, পাশাপাশি পর্যাপ্ত কার্যাদেশের অভাবে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত জনবল বহন করা সম্ভব না হওয়ায় ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী আগামী ৮ আগস্ট থেকে এই ছাঁটাই কার্যকর হবে। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সব বেতন-ভাতা ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশের সঙ্গে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

কারখানাটির ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মো. মমিনুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কয়েক মাস ধরেই উৎপাদনে ধীরগতি চলছে। কাজের অভাবে প্রতিদিনই দুপুর ২টা বা ৩টার মধ্যে কারখানার কার্যক্রম শেষ করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি বলেন, আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর এক কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত কার্যাদেশের অভাব এবং গ্যাস সংকটজনিত ব্যবসায়িক মন্দার কারণেই কারখানাটি শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে তারা জেনেছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেননি।

ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের একজন, সুইং সেকশনের অপারেটর মো. জিয়ারুল হক জানান, ৫ আগস্ট উপলক্ষে টানা তিন দিনের ছুটিতে তিনি দিনাজপুরের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে একটি খুদেবার্তার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার চাকরি আর নেই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কারখানার গেটেও ছাঁটাইয়ের নোটিশ টানানো হয়েছে। কেন তাকে ছাঁটাই করা হলো, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে জানান তিনি। আকস্মিকভাবে চাকরি হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলেও জানান এই শ্রমিক।

এদিকে, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও কার্যাদেশের সংকটের কথা বলে শ্রমিক ছাঁটাই করা মালিকপক্ষের একটি অজুহাত। তার ভাষ্য, ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে একযোগে এত শ্রমিককে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া অমানবিক। তিনি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সব শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবি জানান।

লুসাকা গ্রুপের দুই কারখানায় ১৪০ শ্রমিক সাময়িক বরখাস্ত

এদিকে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত লুসাকা গ্রুপের দুটি পোশাক কারখানায় আরও ১৪০ শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেক নিট লিমিটেডের ৫৮ জন এবং তাম্মাম ডিজাইন লিমিটেডের ৮২ জন শ্রমিক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি নোটিশে এসব শ্রমিকের নাম প্রকাশ করে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট কারখানার অভ্যন্তরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেককে কারণ দর্শানোর নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, লুসাকা গ্রুপের দুই কারখানায় মোট ১৪০ শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার দাবি, এটি মূলত স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ারই একটি প্রক্রিয়া। কারণ বাস্তবে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধিকাংশ শ্রমিক আর কাজে ফিরতে পারেন না। বিভিন্ন অজুহাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের প্রতি অন্যায্য আচরণের শামিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

/এমআর/