তাহসিফের সঙ্গে শেষরাতের সঙ্গী দীপ, বক্তব্যে কেন এত অসংগতি

তাহসিফের সঙ্গে শেষরাতের সঙ্গী দীপ, বক্তব্যে কেন এত অসংগতি
রাকিব হাসান

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় তাহসিফের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। দুজনের একসঙ্গে মোটরসাইকেল মেরামত, রাতের খাবার খাওয়া এবং পরে আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা শুরুতে জানিয়েছিলেন দীপ। কিন্তু পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া বক্তব্যে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ধাওয়া, তুরাগ নদে তাহসিফের ঝাঁপ দেওয়া এবং দীপের পালিয়ে আসার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ফলে একই রাতের ঘটনা নিয়ে দীপের বক্তব্যে এত পার্থক্য ও অসংগতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, দীপ তার বন্ধু তাহসিফের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু লুকাচ্ছেন।
তাহসিফ সৌরির লাশ উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের দীপ জানিয়েছিলেন, ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়। তাহসিফের নষ্ট মোটরসাইকেলটি চালু করতে সহায়তা করেন তিনি। পরে দুজনে উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে মোটরসাইকেল মেরামত ও ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করান। কাজ শেষে উত্তরার রাজি কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। এরপর হাউজ বিল্ডিং এলাকায় এসে তারা আলাদা হয়ে যান।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তারা আলাদা হন। বাসায় ফিরে তাহসিফকে ফোন করলেও তার মোবাইল বন্ধ পান। পরদিন সকালেও তিনি তাহসিফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এ বক্তব্যে ঘটনাটিকে মোটরসাইকেল মেরামত, রাতের খাবার খাওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে আলাদা হয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এই বর্ণনার বড় ধরনের পার্থক্য সামনে আসে।
একসঙ্গে থাকার সময় নিয়েও অস্পষ্টতা
সাংবাদিকদের কাছে দীপ বলেছিলেন, রাত ৯টার দিকে তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হন। অর্থাৎ প্রায় ৩ ঘণ্টা তারা একসঙ্গে ছিলেন। এর মধ্যে দুই ঘণ্টার মতো সময় মোটরসাইকেল মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আগের বর্ণনায় মোটরসাইকেল চালু করতে ১০ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা এবং পরে ওয়ার্কশপে মেরামতের কথা উঠে এসেছিল। কোথাও আবার পুরো কাজ শেষ করে রাতের খাবার খাওয়ার পর আলাদা হওয়ার কথা বলেছেন।
এখানে সময়ের হিসাব, ওয়ার্কশপে অবস্থানের সময় এবং রাতের খাবারের সময়কাল নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে তাহসিফ বাসা থেকে বের হন এবং ৬টা ৩১ মিনিটে দীপকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রওনা দেন।
রাতের খাবারের পর আলাদা, নাকি নদীর পাড়ে একসঙ্গে?
দীপের প্রাথমিক বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় দুজন আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, এরপর তাহসিফ কোথায় গেছেন, তা তার জানা নেই।
কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে একসঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করে। তখন তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ পালিয়ে আসেন।
এই বক্তব্য সত্য হলে রাতের খাবারের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার আগের বর্ণনার সঙ্গে বড় ধরনের অসংগতি তৈরি হয়। কারণ, নদীর পাড়ে দুজন একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে হাউজ বিল্ডিং এলাকায় আলাদা হওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা কী?
তবে দীপের এই জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ধাওয়ার ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্যও সামনে আসেনি।
মোটরসাইকেল উদ্ধারেও নতুন প্রশ্ন
তাহসিফের লাশ উদ্ধারের সময় তার হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেলের সন্ধান মেলেনি। পরে তুরাগ নদে মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পিবিআই।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের দেখানো জায়গা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নম্বরপ্লেট না থাকায় সেটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজেও তাহসিফকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতে দেখা গেছে।
এখন প্রশ্ন, মোটরসাইকেলটি সেখানে কীভাবে গেল? দীপের সঙ্গে তাহসিফের বিচ্ছেদের পর কে বা কারা সেটি ওই এলাকায় নিয়ে যায়? নাকি নদীর পাড়ে কথিত ধাওয়ার ঘটনার সঙ্গে মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখার কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
তদন্তে এখন যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি
পিবিআই মেট্রো উত্তরের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান সিটিজেন জার্নালকে জানিয়েছেন, দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে নৌ পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে পিবিআই।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পর্যায়ে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ ও দীপ কোথায় কোথায় ছিলেন, এর সুনির্দিষ্ট সময়সূচি। দ্বিতীয়ত, রাতের খাবারের পর তারা সত্যিই আলাদা হয়েছিলেন কি না। তৃতীয়ত, নদীর পাড়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে কারা তাদের ধাওয়া করেছিল এবং কেন। চতুর্থত, তাহসিফ কী পরিস্থিতিতে নদীতে পড়েছিলেন এবং দীপ কীভাবে সেখান থেকে ফিরে আসেন। সবশেষে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি সেখানে কে নিয়ে গিয়েছিল।
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তার জুনিয়র বন্ধু দীপের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্য এবং পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা নতুন তথ্য সেই রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় তাহসিফের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। দুজনের একসঙ্গে মোটরসাইকেল মেরামত, রাতের খাবার খাওয়া এবং পরে আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা শুরুতে জানিয়েছিলেন দীপ। কিন্তু পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া বক্তব্যে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ধাওয়া, তুরাগ নদে তাহসিফের ঝাঁপ দেওয়া এবং দীপের পালিয়ে আসার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ফলে একই রাতের ঘটনা নিয়ে দীপের বক্তব্যে এত পার্থক্য ও অসংগতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, দীপ তার বন্ধু তাহসিফের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু লুকাচ্ছেন।
তাহসিফ সৌরির লাশ উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের দীপ জানিয়েছিলেন, ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়। তাহসিফের নষ্ট মোটরসাইকেলটি চালু করতে সহায়তা করেন তিনি। পরে দুজনে উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে মোটরসাইকেল মেরামত ও ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করান। কাজ শেষে উত্তরার রাজি কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। এরপর হাউজ বিল্ডিং এলাকায় এসে তারা আলাদা হয়ে যান।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তারা আলাদা হন। বাসায় ফিরে তাহসিফকে ফোন করলেও তার মোবাইল বন্ধ পান। পরদিন সকালেও তিনি তাহসিফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এ বক্তব্যে ঘটনাটিকে মোটরসাইকেল মেরামত, রাতের খাবার খাওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে আলাদা হয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এই বর্ণনার বড় ধরনের পার্থক্য সামনে আসে।
একসঙ্গে থাকার সময় নিয়েও অস্পষ্টতা
সাংবাদিকদের কাছে দীপ বলেছিলেন, রাত ৯টার দিকে তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হন। অর্থাৎ প্রায় ৩ ঘণ্টা তারা একসঙ্গে ছিলেন। এর মধ্যে দুই ঘণ্টার মতো সময় মোটরসাইকেল মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আগের বর্ণনায় মোটরসাইকেল চালু করতে ১০ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা এবং পরে ওয়ার্কশপে মেরামতের কথা উঠে এসেছিল। কোথাও আবার পুরো কাজ শেষ করে রাতের খাবার খাওয়ার পর আলাদা হওয়ার কথা বলেছেন।
এখানে সময়ের হিসাব, ওয়ার্কশপে অবস্থানের সময় এবং রাতের খাবারের সময়কাল নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে তাহসিফ বাসা থেকে বের হন এবং ৬টা ৩১ মিনিটে দীপকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রওনা দেন।
রাতের খাবারের পর আলাদা, নাকি নদীর পাড়ে একসঙ্গে?
দীপের প্রাথমিক বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় দুজন আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, এরপর তাহসিফ কোথায় গেছেন, তা তার জানা নেই।
কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে একসঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করে। তখন তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ পালিয়ে আসেন।
এই বক্তব্য সত্য হলে রাতের খাবারের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার আগের বর্ণনার সঙ্গে বড় ধরনের অসংগতি তৈরি হয়। কারণ, নদীর পাড়ে দুজন একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে হাউজ বিল্ডিং এলাকায় আলাদা হওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা কী?
তবে দীপের এই জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ধাওয়ার ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্যও সামনে আসেনি।
মোটরসাইকেল উদ্ধারেও নতুন প্রশ্ন
তাহসিফের লাশ উদ্ধারের সময় তার হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেলের সন্ধান মেলেনি। পরে তুরাগ নদে মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পিবিআই।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের দেখানো জায়গা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নম্বরপ্লেট না থাকায় সেটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজেও তাহসিফকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতে দেখা গেছে।
এখন প্রশ্ন, মোটরসাইকেলটি সেখানে কীভাবে গেল? দীপের সঙ্গে তাহসিফের বিচ্ছেদের পর কে বা কারা সেটি ওই এলাকায় নিয়ে যায়? নাকি নদীর পাড়ে কথিত ধাওয়ার ঘটনার সঙ্গে মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখার কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
তদন্তে এখন যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি
পিবিআই মেট্রো উত্তরের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান সিটিজেন জার্নালকে জানিয়েছেন, দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে নৌ পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে পিবিআই।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পর্যায়ে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ ও দীপ কোথায় কোথায় ছিলেন, এর সুনির্দিষ্ট সময়সূচি। দ্বিতীয়ত, রাতের খাবারের পর তারা সত্যিই আলাদা হয়েছিলেন কি না। তৃতীয়ত, নদীর পাড়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে কারা তাদের ধাওয়া করেছিল এবং কেন। চতুর্থত, তাহসিফ কী পরিস্থিতিতে নদীতে পড়েছিলেন এবং দীপ কীভাবে সেখান থেকে ফিরে আসেন। সবশেষে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি সেখানে কে নিয়ে গিয়েছিল।
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তার জুনিয়র বন্ধু দীপের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্য এবং পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা নতুন তথ্য সেই রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

তাহসিফের সঙ্গে শেষরাতের সঙ্গী দীপ, বক্তব্যে কেন এত অসংগতি
রাকিব হাসান

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় তাহসিফের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। দুজনের একসঙ্গে মোটরসাইকেল মেরামত, রাতের খাবার খাওয়া এবং পরে আলাদা হয়ে যাওয়ার কথা শুরুতে জানিয়েছিলেন দীপ। কিন্তু পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া বক্তব্যে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ধাওয়া, তুরাগ নদে তাহসিফের ঝাঁপ দেওয়া এবং দীপের পালিয়ে আসার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ফলে একই রাতের ঘটনা নিয়ে দীপের বক্তব্যে এত পার্থক্য ও অসংগতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, দীপ তার বন্ধু তাহসিফের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু লুকাচ্ছেন।
তাহসিফ সৌরির লাশ উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের দীপ জানিয়েছিলেন, ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়। তাহসিফের নষ্ট মোটরসাইকেলটি চালু করতে সহায়তা করেন তিনি। পরে দুজনে উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে মোটরসাইকেল মেরামত ও ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করান। কাজ শেষে উত্তরার রাজি কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। এরপর হাউজ বিল্ডিং এলাকায় এসে তারা আলাদা হয়ে যান।

দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তারা আলাদা হন। বাসায় ফিরে তাহসিফকে ফোন করলেও তার মোবাইল বন্ধ পান। পরদিন সকালেও তিনি তাহসিফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এ বক্তব্যে ঘটনাটিকে মোটরসাইকেল মেরামত, রাতের খাবার খাওয়া এবং স্বাভাবিকভাবে আলাদা হয়ে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এই বর্ণনার বড় ধরনের পার্থক্য সামনে আসে।
একসঙ্গে থাকার সময় নিয়েও অস্পষ্টতা
সাংবাদিকদের কাছে দীপ বলেছিলেন, রাত ৯টার দিকে তাহসিফের সঙ্গে তার দেখা হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা হন। অর্থাৎ প্রায় ৩ ঘণ্টা তারা একসঙ্গে ছিলেন। এর মধ্যে দুই ঘণ্টার মতো সময় মোটরসাইকেল মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আগের বর্ণনায় মোটরসাইকেল চালু করতে ১০ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা এবং পরে ওয়ার্কশপে মেরামতের কথা উঠে এসেছিল। কোথাও আবার পুরো কাজ শেষ করে রাতের খাবার খাওয়ার পর আলাদা হওয়ার কথা বলেছেন।
এখানে সময়ের হিসাব, ওয়ার্কশপে অবস্থানের সময় এবং রাতের খাবারের সময়কাল নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে তাহসিফ বাসা থেকে বের হন এবং ৬টা ৩১ মিনিটে দীপকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রওনা দেন।
রাতের খাবারের পর আলাদা, নাকি নদীর পাড়ে একসঙ্গে?
দীপের প্রাথমিক বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল, উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় দুজন আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, এরপর তাহসিফ কোথায় গেছেন, তা তার জানা নেই।
কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে একসঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করে। তখন তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দীপ পালিয়ে আসেন।
এই বক্তব্য সত্য হলে রাতের খাবারের পর আলাদা হয়ে যাওয়ার আগের বর্ণনার সঙ্গে বড় ধরনের অসংগতি তৈরি হয়। কারণ, নদীর পাড়ে দুজন একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে হাউজ বিল্ডিং এলাকায় আলাদা হওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা কী?
তবে দীপের এই জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ধাওয়ার ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্যও সামনে আসেনি।
মোটরসাইকেল উদ্ধারেও নতুন প্রশ্ন
তাহসিফের লাশ উদ্ধারের সময় তার হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেলের সন্ধান মেলেনি। পরে তুরাগ নদে মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পিবিআই।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপের দেখানো জায়গা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নম্বরপ্লেট না থাকায় সেটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজেও তাহসিফকে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতে দেখা গেছে।
এখন প্রশ্ন, মোটরসাইকেলটি সেখানে কীভাবে গেল? দীপের সঙ্গে তাহসিফের বিচ্ছেদের পর কে বা কারা সেটি ওই এলাকায় নিয়ে যায়? নাকি নদীর পাড়ে কথিত ধাওয়ার ঘটনার সঙ্গে মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখার কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
তদন্তে এখন যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি
পিবিআই মেট্রো উত্তরের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন মান্নান সিটিজেন জার্নালকে জানিয়েছেন, দীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে নৌ পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে পিবিআই।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পর্যায়ে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ ও দীপ কোথায় কোথায় ছিলেন, এর সুনির্দিষ্ট সময়সূচি। দ্বিতীয়ত, রাতের খাবারের পর তারা সত্যিই আলাদা হয়েছিলেন কি না। তৃতীয়ত, নদীর পাড়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে কারা তাদের ধাওয়া করেছিল এবং কেন। চতুর্থত, তাহসিফ কী পরিস্থিতিতে নদীতে পড়েছিলেন এবং দীপ কীভাবে সেখান থেকে ফিরে আসেন। সবশেষে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি সেখানে কে নিয়ে গিয়েছিল।
তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। তার জুনিয়র বন্ধু দীপের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্য এবং পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা নতুন তথ্য সেই রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

আমার ছেলে সাঁতার জানতো, সনদও ছিল: তাহসিফের বাবা
-CznNewsLab-7b341c.jpg)






