‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি’

‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি’
নিজস্ব প্রতিবেদক

আদালতের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিচারকরাও এজলাস ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে তিনি কয়েক দফা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে সুযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ থেকেই বলেন, আদালতকে বলতে চেয়েছিলাম আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনলেন না।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এমন দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।
এর আগে, ট্রাইব্যুনালে হাজিরের পর প্রসিকিউশনের আবেদনে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইমরান ভূইয়া।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘গণহত্যার’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।একইসঙ্গে এই মামলার আসামিদের মধ্যে যারা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার আছেন তাদের হাজির করার পাশাপাশি, অপর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আগামী ১৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার ৪১ জন আসামি হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটা খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। তার মধ্য থেকে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

আদালতের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিচারকরাও এজলাস ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে তিনি কয়েক দফা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে সুযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ থেকেই বলেন, আদালতকে বলতে চেয়েছিলাম আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনলেন না।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এমন দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।
এর আগে, ট্রাইব্যুনালে হাজিরের পর প্রসিকিউশনের আবেদনে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইমরান ভূইয়া।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘গণহত্যার’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।একইসঙ্গে এই মামলার আসামিদের মধ্যে যারা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার আছেন তাদের হাজির করার পাশাপাশি, অপর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আগামী ১৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার ৪১ জন আসামি হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটা খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। তার মধ্য থেকে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি’
নিজস্ব প্রতিবেদক

আদালতের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিচারকরাও এজলাস ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে তিনি কয়েক দফা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে সুযোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজ থেকেই বলেন, আদালতকে বলতে চেয়েছিলাম আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনলেন না।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এমন দৃশ্য উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে।
এর আগে, ট্রাইব্যুনালে হাজিরের পর প্রসিকিউশনের আবেদনে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইমরান ভূইয়া।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘গণহত্যার’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।একইসঙ্গে এই মামলার আসামিদের মধ্যে যারা অন্য মামলায় গ্রেপ্তার আছেন তাদের হাজির করার পাশাপাশি, অপর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আগামী ১৬ আগস্ট মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার ৪১ জন আসামি হলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু, সাংবাদিক ফারজানা রুপা, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটা খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেই খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। তার মধ্য থেকে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

কারাগারে লতিফ সিদ্দিকী







