শিরোনাম

‘সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী’

সিলেট সংবাদদাতা
সিলেট সংবাদদাতা
‘সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী’
পিকআপ ভ্যানকে (লাল বৃত্তে) পাশ কাটাতে দিয়ে বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসের সঙ্গে আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়

সিলেটের ওসমানীনগরে একটি ‘পিকআপ ভ্যানকে পাশ কাটাতে’ গিয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ ৯ জনের প্রাণ গেছে। দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই ‘ইউনিক পরিবহন’ বাসের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ওসমানীনগরে কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওসমানীনগর থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলেন, ঢাকা থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাস একটি পিকআপ ভ্যানকে পাশ কাটাতে যায়। এ সময় সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

তিনি বলেন, নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের বেশির ভাগও ওই বাসের যাত্রী।

হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন– কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জাহাঙ্গীরের মেয়ে ফাইজা (৩), সিলেট নগরীর সোবাহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২) এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বালুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর বলেন, হাসপাতালে আহত অবস্থায় ১৬ জনকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি ১৪ জনের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। আইসিইউতে তাদেরকে চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফারুক মিয়া (৫২) জানান, ৫ বন্ধু হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুইজন উড়োজাহাজে করে ঢাকায় ফিরে যান। পরে তিনি ও অপর দুই বন্ধু ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে আহত অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ দুর্ঘটনায় আমার বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। সাইফুল পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

/এফসি/