নিরাপত্তা ও খাদ্য সংকটের শঙ্কায় সাজেকের রিসোর্ট মালিক-শ্রমিকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিরাপত্তা ও খাদ্য সংকটের শঙ্কায় সাজেকের রিসোর্ট মালিক-শ্রমিকেরা
সাজেক ভ্যালি

পাঁচ দফা দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধ অব্যাহত আছে। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অবরোধের মধ্যে পর্যটকেরা সেখান থেকে বের হয়ে গেলেও আটকা পড়েছেন রিসোর্টের মালিক ও শ্রমিকেরা। অবরোধ অব্যাহত থাকায় তারা নিরাপত্তা ও খাদ্য সংকটের চরম শঙ্কায় পড়েছেন।

সাজেকের কংলাক পাহাড়ে দুমদে রিসোর্টের মালিক শাহ মোহাম্মদ আলমগীরের সঙ্গে আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে কথা হয় সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের। আলমগীর বলেছেন, ‘মালিক-শ্রমিক মিলিয়ে আমরা এখানে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন আটকা পড়েছি। মজুদ যে খাদ্য আছে, তা ফুরিয়ে আসছে। সড়ক অবরোধের কারণে খাদ্য সরবারহ করা যাচ্ছে না। এভাবে অবরোধ চলতে থাকলে খাবারের সংকটে পড়তে হবে আমাদের।’

সড়কে কোথাও গাছ ফেলে, কোথাও আবার আগুন জ্বেলে অবরোধ করে রেখেছে আন্দোলনকারীরা। সাজেক থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। আলমগীর বলেছেন, ‘আজ ৭০-৭৫ জন শ্রমিক এখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। আগের দিনও অনেকে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।’

আলমগীরের বাড়ি রাজবাড়ীতে। তার মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন। কিন্তু তিনি তাকে দেখতে যেতে পারছেন না। সব মিলিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার। তবে এই ভেবে আলমগীরের ভালো লাগছে যে আটকে পড়া পর্যটকেরা অন্তত এখান থেকে বের হয়ে যেতে পেরেছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো পর্যটকদের বের হতে সাহায্য করেছে, তাদের সঙ্গে কি রিসোর্ট মালিকদের কথা হয়েছে– এমন প্রশ্নের উত্তরে আলমগীর বলেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেছে অপেক্ষা করতে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তারা আমাদের বের করার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে।’

কয়েকদিন ধরে সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটির মূল দাবি ছিল, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া। এই দাবিতে গত বৃহস্পতিবার তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও এক হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা করে।

সাজেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, মামলা প্রত্যাহার, গত বৃহস্পতিবারের হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।

/আরএ/