মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই ‘তৃতীয় পক্ষের শক্তি’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই ‘তৃতীয় পক্ষের শক্তি’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই তাদের ‘তৃতীয় পক্ষের শক্তি’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং শ্রমিক নেত্রী রোজিনা আক্তার সুমিসহ গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায় গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এশিয়া ফ্লোর অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের সদস্য সচিব সুলতানা বেগম। বক্তব্য রাখেন– সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক ও নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমরিন হোসাইন এ্যানি, প্রচার সম্পাদক মো. তাহেরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা নাসরিন আক্তার, মো. সুমন হোসেন মোল্লা, খাদিজা আক্তার প্রমুখ।
সুলতানা বেগম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে আন্দোলন করলেই তাদের উসকানিদাতা, তৃতীয় পক্ষের শক্তি কিংবা বিদেশি ইন্ধনে পরিচালিত বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অথচ শ্রমিকরা নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই রাস্তায় নেমেছেন।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর পরপর শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর কথা রয়েছে। আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে আগস্ট মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতো। কিন্তু সরকার ও মালিকপক্ষের গাফিলতির কারণে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে সুলতানা বেগম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে বাজারে কেনাকাটা করেন, শ্রমিকদেরও সেই বাজারেই সংসার চালাতে হয়। তাই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
সমাবেশে খাদিজা আক্তার বলেন, শ্রমিকরা রাস্তায় না নামলে মজুরি বৃদ্ধি কিংবা মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ দেখা যায় না। অথচ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক কাজ করেন। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। এরপরও তাদের ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলনে নামতে হচ্ছে কেন, গ্রেপ্তার হতে হচ্ছে কেন– সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
খাদিজা আক্তার আরও বলেন, রোজিনা আক্তার সুমিসহ যেসব শ্রমিক ও নেতারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের দ্রুত জামিনে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে আন্দোলনে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে জানানো হয়, গত ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানাধীন বিএনএস সেন্টারের রেড কিচেনের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা রোজিনা আক্তার সুমি, শ্রমিক নেতা মোস্তফা কামাল, মোরশেদ আলম কাওসার ও আলী আজগরকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
বক্তারা বলেন, রোজিনা আক্তার সুমি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্ট শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে যুক্ত। বিশেষ করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সমাবেশ থেকে গার্মেন্ট শ্রমিক তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই তাদের ‘তৃতীয় পক্ষের শক্তি’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং শ্রমিক নেত্রী রোজিনা আক্তার সুমিসহ গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায় গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এশিয়া ফ্লোর অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের সদস্য সচিব সুলতানা বেগম। বক্তব্য রাখেন– সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক ও নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমরিন হোসাইন এ্যানি, প্রচার সম্পাদক মো. তাহেরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা নাসরিন আক্তার, মো. সুমন হোসেন মোল্লা, খাদিজা আক্তার প্রমুখ।
সুলতানা বেগম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে আন্দোলন করলেই তাদের উসকানিদাতা, তৃতীয় পক্ষের শক্তি কিংবা বিদেশি ইন্ধনে পরিচালিত বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অথচ শ্রমিকরা নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই রাস্তায় নেমেছেন।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর পরপর শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর কথা রয়েছে। আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে আগস্ট মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতো। কিন্তু সরকার ও মালিকপক্ষের গাফিলতির কারণে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে সুলতানা বেগম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে বাজারে কেনাকাটা করেন, শ্রমিকদেরও সেই বাজারেই সংসার চালাতে হয়। তাই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
সমাবেশে খাদিজা আক্তার বলেন, শ্রমিকরা রাস্তায় না নামলে মজুরি বৃদ্ধি কিংবা মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ দেখা যায় না। অথচ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক কাজ করেন। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। এরপরও তাদের ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলনে নামতে হচ্ছে কেন, গ্রেপ্তার হতে হচ্ছে কেন– সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
খাদিজা আক্তার আরও বলেন, রোজিনা আক্তার সুমিসহ যেসব শ্রমিক ও নেতারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের দ্রুত জামিনে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে আন্দোলনে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে জানানো হয়, গত ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানাধীন বিএনএস সেন্টারের রেড কিচেনের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা রোজিনা আক্তার সুমি, শ্রমিক নেতা মোস্তফা কামাল, মোরশেদ আলম কাওসার ও আলী আজগরকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
বক্তারা বলেন, রোজিনা আক্তার সুমি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্ট শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে যুক্ত। বিশেষ করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সমাবেশ থেকে গার্মেন্ট শ্রমিক তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই ‘তৃতীয় পক্ষের শক্তি’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করলেই তাদের ‘তৃতীয় পক্ষের শক্তি’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচার, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং শ্রমিক নেত্রী রোজিনা আক্তার সুমিসহ গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায় গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গ্রিন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এশিয়া ফ্লোর অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের সদস্য সচিব সুলতানা বেগম। বক্তব্য রাখেন– সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক ও নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমরিন হোসাইন এ্যানি, প্রচার সম্পাদক মো. তাহেরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা নাসরিন আক্তার, মো. সুমন হোসেন মোল্লা, খাদিজা আক্তার প্রমুখ।
সুলতানা বেগম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে আন্দোলন করলেই তাদের উসকানিদাতা, তৃতীয় পক্ষের শক্তি কিংবা বিদেশি ইন্ধনে পরিচালিত বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অথচ শ্রমিকরা নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই রাস্তায় নেমেছেন।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর পরপর শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর কথা রয়েছে। আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে আগস্ট মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতো। কিন্তু সরকার ও মালিকপক্ষের গাফিলতির কারণে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে সুলতানা বেগম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে বাজারে কেনাকাটা করেন, শ্রমিকদেরও সেই বাজারেই সংসার চালাতে হয়। তাই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
সমাবেশে খাদিজা আক্তার বলেন, শ্রমিকরা রাস্তায় না নামলে মজুরি বৃদ্ধি কিংবা মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ দেখা যায় না। অথচ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক কাজ করেন। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। এরপরও তাদের ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলনে নামতে হচ্ছে কেন, গ্রেপ্তার হতে হচ্ছে কেন– সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
খাদিজা আক্তার আরও বলেন, রোজিনা আক্তার সুমিসহ যেসব শ্রমিক ও নেতারা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের দ্রুত জামিনে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে আন্দোলনে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে জানানো হয়, গত ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানাধীন বিএনএস সেন্টারের রেড কিচেনের সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা রোজিনা আক্তার সুমি, শ্রমিক নেতা মোস্তফা কামাল, মোরশেদ আলম কাওসার ও আলী আজগরকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
বক্তারা বলেন, রোজিনা আক্তার সুমি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্ট শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজে যুক্ত। বিশেষ করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সমাবেশ থেকে গার্মেন্ট শ্রমিক তৌফিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বাবার মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে পোশাক কারখানায় এসেছিলেন তৌফিক, ফিরলেন লাশ হয়ে







