মৌজা জটিলতায় বন্ধ মিরপুরে ফ্ল্যাট কেনা-বেচা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
মৌজা জটিলতায় বন্ধ মিরপুরে ফ্ল্যাট কেনা-বেচা
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর মিরপুরে সেনপাড়া মৌজার একটি অংশ ইব্রাহীমপুর মৌজার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন, নামজারি ও খাজনা পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় নথিপত্র এক ভূমি কার্যালয় থেকে অন্যটিতে স্থানান্তর না হওয়ায় এসব সেবা বন্ধ রয়েছে। একই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফ্ল্যাটের বেচাকেনাও আটকে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো ফ্ল্যাট মালিক ও ক্রেতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে সেনপাড়া মৌজার একটি অংশ বিভক্ত করে ইব্রাহীমপুর মৌজার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে ওই এলাকার জমি ও ফ্ল্যাট-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিল ও নথি এখনো সেনপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে ইব্রাহীমপুরের সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন মৌজার আওতাভুক্ত সম্পত্তির নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, কাজের জন্য তারা কখনো সেনপাড়া, আবার কখনো ইব্রাহীমপুর ভূমি কার্যালয়ে ছুটছেন। সেনপাড়া কার্যালয় থেকে ইব্রাহীমপুরে যেতে বলা হলেও সেখানে গিয়ে জানানো হচ্ছে, প্রয়োজনীয় নথি এখনো তাদের কাছে পৌঁছেনি। এ অবস্থায় দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেনপাড়া ভূমি কার্যালয় মিরপুর-১৩ নম্বরে। অন্যদিকে ইব্রাহীমপুর মৌজার সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে খিলক্ষেতের ভূমি কার্যালয় থেকে। ফলে সম্পত্তির কাজ নিয়ে ভুক্তভোগীদের মিরপুরের পাশাপাশি খিলক্ষেতেও যেতে হচ্ছে।

মৌজা বিভক্ত হওয়া অংশে বর্তমানে কোনো ফাঁকা জমি নেই বললেই চলে। সেখানে গড়ে উঠেছে বড় বড় আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। এসব ভবনের ফ্ল্যাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমির অংশীদারত্বও থাকে ক্রেতাদের। তাই জমির নিবন্ধন, নামজারি ও খাজনা পরিশোধ না হওয়ায় সরাসরি সমস্যায় পড়ছেন ফ্ল্যাট মালিকরা। পাশাপাশি নতুন করে ফ্ল্যাট বিক্রিও অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।

মিরপুর-১৫ নম্বরে থাকা রাকিন সিটি, নাভানা কনডোমিনিয়াম ও রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজ আগে সেনপাড়া মৌজার আওতাভুক্ত ছিলো। মৌজা বিভক্তির পর এসব বড় আবাসন প্রকল্প ইব্রাহীমপুর মৌজার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

মৌজা বিভক্তির কারণে রাকিন সিটিতে ৩৫টি ১৫ তলা ভবনে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজে ৭টি নয়তলা ভবনে ৪০২টি এবং নাভানা কনডোমিনিয়ামে নয়টি ১৫ তলা ভবনে প্রায় ৭০০ ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব প্রকল্পের বহু ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ও নামজারি আটকে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রূপসী প্রো-অ্যাকটিভ ভিলেজের ফ্ল্যাটের ক্রেতা মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্যাংকঋণ নিয়ে ফ্ল্যাটটি কিনেছি। প্রায় দেড় বছর ধরে নিবন্ধন ও নামজারির জন্য ভূমি কার্যালয়গুলোতে ঘুরছি। নামজারি বন্ধ থাকায় আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছি।

তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে রূপসী প্রকল্পের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মিরপুর ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তখন জানানো হয়েছিলো, সমস্যা সমাধানে ইব্রাহীমপুর ভূমি কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং দুই মাসের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নথি হস্তান্তরের মতো প্রশাসনিক একটি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় তারা সম্পত্তি ব্যবহার ও লেনদেনে বাধার মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ও লেনদেন বন্ধ থাকায় সরকারও সংশ্লিষ্ট রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সমস্যাটি কবে নাগাদ পুরোপুরি সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে মৌজা পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই জটিলতা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

/এসবি/