গণপূর্তে একচেটিয়া প্রাণ-আরএফএলের লিফট, ছিঁড়ে পরার পর আতঙ্কে বাসিন্দারা

গণপূর্তে একচেটিয়া প্রাণ-আরএফএলের লিফট, ছিঁড়ে পরার পর আতঙ্কে বাসিন্দারা
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত একটি ভবনের লিফটে এক বছর ধরে নানা ধরনের যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দিচ্ছিলো। এসবের মধ্যে ছিল কখনো হঠাৎ আটকে যাওয়া, কখনো ওপরে ওঠলে নিচে না নামা আবার নিচে নামলে ওপরে না ওঠা, কখনো লিফটের সুইচগুলো কাজ না করা। এসব যান্ত্রিক ক্রটি ঠিক করার জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আসত টেকনিশিয়ানরা। কিন্তু বাসিন্দাদের অভিযোগ, লিফট সচল করতে সাময়িক কিছু কাজ করেই চলে যেতেন তারা। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। এর ফলে গত ২ অক্টোবর ঘটে যায় দুর্ঘটনা। লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে আহত হয় শিশুসহ তিনজন।
দুর্ঘটনায় ছিঁড়ে পড়া লিফটটি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি লিফটসের। ছয় বছর আগে এটি ভবনে লাগানো হয়। ছয় বছরেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় লিফটটির মান এবং দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকার পরও যথাযথ মেরামত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না-সেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৯ সালে ওই ভবনের লিফট কেনাকাটায় যুক্ত ছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ই/এম মো. আব্দুল জলিল (বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত আছেন)।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোরে ফজরের নামাজের পর মিরপুর ১ নম্বরের পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের পঞ্চম তলার তিন বাসিন্দা লিফটে নিচে নামছিলেন। নিচে নামার একপর্যায়ে বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। শব্দ শুনে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী সেখানে গিয়ে লিফটের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশপাশের লোকজন এসে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনায় আহত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) ও তাঁর ছেলে ওয়াসী (৮)। তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়। নাইস আহমেদের দুই পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানিয়েছে, শিশুটি ছাড়া অন্য দুজনের অবস্থা গুরুতর।
এক বছর ধরে সমস্যা, প্রতি সপ্তাহেই মেরামত
ভবনটির ১১ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘লিফটটিতে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছিল। মাঝেমধ্যে লিফট বন্ধ হয়ে যেত, আটকে থাকতো কিংবা ওপরে উঠতো না। কখনো কখনো ওপর থেকে নিচেও নামতো না। তাদের ফোন করলে বা চিঠি লিখলে এসে তেল-পানি দিয়ে মুছে বলতো সার্ভিসিং করে দিয়েছি। আসলে এখানে প্রকৃত সার্ভিসিং করা হয়নি। দুর্ঘটনার ঘটার পর এখন বড় টিম নিয়ে এসেছে ঠিক করতে। এর আগে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।‘
চলছে মেরামত
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায় দুর্ঘটনায় ছিঁড়ে পড়া লিফটি ঠিক করতে প্রপার্টি লিফটসের কর্মীরা এসেছেন। তারা জানান, কয়েকদিন সময় লাগবে লিফটি ঠিক করতে।

লিফটি মেরামতের কাজ তদারকি করছিলেন প্রপার্টি লিফটসের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের কর্মকর্তা মো. রোকন। তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘লিফটের বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো যন্ত্রাংশে সমস্যা থাকার পরও সেটি মেরামত না করে ব্যবহার করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। আবার অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।‘
লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি একটি কারিগরি সমস্যা। নির্দিষ্ট সময় পর বিভিন্ন যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হলে ও কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে তা পরিবর্তনের জন্য কিনতে হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ছাড়া সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।‘
মো. রোকন আরও জানান, লিফটে ফ্রি-ফল প্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকে, যা লিফট নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিচে নামতে থাকলে সেটিকে আটকে দেওয়ার কথা। তবে এই ঘটনায় সেই যান্ত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করেছিল কি না, তা পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রপার্টি লিফটসের অপর কর্মকর্তা সমীর দত্ত সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম, এবিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
একচেটিয়া লিফট সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই আমরা লিফট সরবরাহ করে থাকি। শুধু কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প আমাদের লক্ষ্য নয়।’
তবে এ বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (কর্পোরেট সেলস) তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া দাবি করেন, এই দুর্ঘটনার জন্য তারা দায়ী নন। চুক্তি অনুযায়ী জুন পর্যন্ত লিফটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তাদের। এ বিষয়ে তারা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে বারবার চিঠি দিলেও কোনো সাড়া পাননি । তিনি আরও বলেন. এই দুর্ঘটনার পর তারা মিরপুরের ওই ভবনের লিফটের পাশাপাশি ঢাকাসহ সারা দেশের লিফটের কনডিশন (অবস্থা) পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণত কোম্পানি ও মডেলভেদে ১ থেকে ২ বছরের মূল ওয়ারেন্টি প্রদান করে থাকে লিফট কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে মোটর, গিয়ারবক্স, কন্ট্রোল প্যানেল ও মেইন ড্রাইভ সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পার্টস বা যন্ত্রাংশের ওপর ১ বছরের পার্টস ওয়ারেন্টি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। তবে স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত বা ব্যবহারজনিত কারণে নষ্ট হওয়া সাধারণ যন্ত্রাংশ এই ওয়ারেন্টির আওতাভুক্ত থাকে না।
তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি
শনিবার সকালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে লিফটটি দেখে গিয়েছেন। এই দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ । কমিটির দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) আবদুল্যাহ আল মামুন। এই কমিটিকে লিফট রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছিল কি না এবং লিফট দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।
দূর্ঘটনার বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইস্কান্দার আলীর মুঠোফোনে শনিবার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে তার মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ঘটনার পরপর দুর্ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি সরকারের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এছাড়া তিনি কাদের গাফলতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা প্রকাশ করারও আহ্বান জানান

রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত একটি ভবনের লিফটে এক বছর ধরে নানা ধরনের যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দিচ্ছিলো। এসবের মধ্যে ছিল কখনো হঠাৎ আটকে যাওয়া, কখনো ওপরে ওঠলে নিচে না নামা আবার নিচে নামলে ওপরে না ওঠা, কখনো লিফটের সুইচগুলো কাজ না করা। এসব যান্ত্রিক ক্রটি ঠিক করার জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আসত টেকনিশিয়ানরা। কিন্তু বাসিন্দাদের অভিযোগ, লিফট সচল করতে সাময়িক কিছু কাজ করেই চলে যেতেন তারা। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। এর ফলে গত ২ অক্টোবর ঘটে যায় দুর্ঘটনা। লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে আহত হয় শিশুসহ তিনজন।
দুর্ঘটনায় ছিঁড়ে পড়া লিফটটি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি লিফটসের। ছয় বছর আগে এটি ভবনে লাগানো হয়। ছয় বছরেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় লিফটটির মান এবং দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকার পরও যথাযথ মেরামত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না-সেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৯ সালে ওই ভবনের লিফট কেনাকাটায় যুক্ত ছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ই/এম মো. আব্দুল জলিল (বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত আছেন)।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোরে ফজরের নামাজের পর মিরপুর ১ নম্বরের পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের পঞ্চম তলার তিন বাসিন্দা লিফটে নিচে নামছিলেন। নিচে নামার একপর্যায়ে বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। শব্দ শুনে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী সেখানে গিয়ে লিফটের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশপাশের লোকজন এসে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনায় আহত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) ও তাঁর ছেলে ওয়াসী (৮)। তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়। নাইস আহমেদের দুই পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানিয়েছে, শিশুটি ছাড়া অন্য দুজনের অবস্থা গুরুতর।
এক বছর ধরে সমস্যা, প্রতি সপ্তাহেই মেরামত
ভবনটির ১১ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘লিফটটিতে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছিল। মাঝেমধ্যে লিফট বন্ধ হয়ে যেত, আটকে থাকতো কিংবা ওপরে উঠতো না। কখনো কখনো ওপর থেকে নিচেও নামতো না। তাদের ফোন করলে বা চিঠি লিখলে এসে তেল-পানি দিয়ে মুছে বলতো সার্ভিসিং করে দিয়েছি। আসলে এখানে প্রকৃত সার্ভিসিং করা হয়নি। দুর্ঘটনার ঘটার পর এখন বড় টিম নিয়ে এসেছে ঠিক করতে। এর আগে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।‘
চলছে মেরামত
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায় দুর্ঘটনায় ছিঁড়ে পড়া লিফটি ঠিক করতে প্রপার্টি লিফটসের কর্মীরা এসেছেন। তারা জানান, কয়েকদিন সময় লাগবে লিফটি ঠিক করতে।

লিফটি মেরামতের কাজ তদারকি করছিলেন প্রপার্টি লিফটসের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের কর্মকর্তা মো. রোকন। তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘লিফটের বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো যন্ত্রাংশে সমস্যা থাকার পরও সেটি মেরামত না করে ব্যবহার করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। আবার অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।‘
লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি একটি কারিগরি সমস্যা। নির্দিষ্ট সময় পর বিভিন্ন যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হলে ও কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে তা পরিবর্তনের জন্য কিনতে হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ছাড়া সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।‘
মো. রোকন আরও জানান, লিফটে ফ্রি-ফল প্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকে, যা লিফট নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিচে নামতে থাকলে সেটিকে আটকে দেওয়ার কথা। তবে এই ঘটনায় সেই যান্ত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করেছিল কি না, তা পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রপার্টি লিফটসের অপর কর্মকর্তা সমীর দত্ত সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম, এবিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
একচেটিয়া লিফট সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই আমরা লিফট সরবরাহ করে থাকি। শুধু কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প আমাদের লক্ষ্য নয়।’
তবে এ বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (কর্পোরেট সেলস) তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া দাবি করেন, এই দুর্ঘটনার জন্য তারা দায়ী নন। চুক্তি অনুযায়ী জুন পর্যন্ত লিফটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তাদের। এ বিষয়ে তারা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে বারবার চিঠি দিলেও কোনো সাড়া পাননি । তিনি আরও বলেন. এই দুর্ঘটনার পর তারা মিরপুরের ওই ভবনের লিফটের পাশাপাশি ঢাকাসহ সারা দেশের লিফটের কনডিশন (অবস্থা) পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণত কোম্পানি ও মডেলভেদে ১ থেকে ২ বছরের মূল ওয়ারেন্টি প্রদান করে থাকে লিফট কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে মোটর, গিয়ারবক্স, কন্ট্রোল প্যানেল ও মেইন ড্রাইভ সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পার্টস বা যন্ত্রাংশের ওপর ১ বছরের পার্টস ওয়ারেন্টি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। তবে স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত বা ব্যবহারজনিত কারণে নষ্ট হওয়া সাধারণ যন্ত্রাংশ এই ওয়ারেন্টির আওতাভুক্ত থাকে না।
তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি
শনিবার সকালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে লিফটটি দেখে গিয়েছেন। এই দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ । কমিটির দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) আবদুল্যাহ আল মামুন। এই কমিটিকে লিফট রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছিল কি না এবং লিফট দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।
দূর্ঘটনার বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইস্কান্দার আলীর মুঠোফোনে শনিবার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে তার মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ঘটনার পরপর দুর্ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি সরকারের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এছাড়া তিনি কাদের গাফলতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা প্রকাশ করারও আহ্বান জানান

গণপূর্তে একচেটিয়া প্রাণ-আরএফএলের লিফট, ছিঁড়ে পরার পর আতঙ্কে বাসিন্দারা
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত একটি ভবনের লিফটে এক বছর ধরে নানা ধরনের যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দিচ্ছিলো। এসবের মধ্যে ছিল কখনো হঠাৎ আটকে যাওয়া, কখনো ওপরে ওঠলে নিচে না নামা আবার নিচে নামলে ওপরে না ওঠা, কখনো লিফটের সুইচগুলো কাজ না করা। এসব যান্ত্রিক ক্রটি ঠিক করার জন্য প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আসত টেকনিশিয়ানরা। কিন্তু বাসিন্দাদের অভিযোগ, লিফট সচল করতে সাময়িক কিছু কাজ করেই চলে যেতেন তারা। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। এর ফলে গত ২ অক্টোবর ঘটে যায় দুর্ঘটনা। লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে আহত হয় শিশুসহ তিনজন।
দুর্ঘটনায় ছিঁড়ে পড়া লিফটটি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি লিফটসের। ছয় বছর আগে এটি ভবনে লাগানো হয়। ছয় বছরেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় লিফটটির মান এবং দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকার পরও যথাযথ মেরামত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না-সেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৯ সালে ওই ভবনের লিফট কেনাকাটায় যুক্ত ছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ই/এম মো. আব্দুল জলিল (বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত আছেন)।
গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোরে ফজরের নামাজের পর মিরপুর ১ নম্বরের পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের পঞ্চম তলার তিন বাসিন্দা লিফটে নিচে নামছিলেন। নিচে নামার একপর্যায়ে বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যায়। শব্দ শুনে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী সেখানে গিয়ে লিফটের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশপাশের লোকজন এসে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনায় আহত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) ও তাঁর ছেলে ওয়াসী (৮)। তাঁদের উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়। নাইস আহমেদের দুই পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
এই বিষয়ে দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানিয়েছে, শিশুটি ছাড়া অন্য দুজনের অবস্থা গুরুতর।
এক বছর ধরে সমস্যা, প্রতি সপ্তাহেই মেরামত
ভবনটির ১১ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘লিফটটিতে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছিল। মাঝেমধ্যে লিফট বন্ধ হয়ে যেত, আটকে থাকতো কিংবা ওপরে উঠতো না। কখনো কখনো ওপর থেকে নিচেও নামতো না। তাদের ফোন করলে বা চিঠি লিখলে এসে তেল-পানি দিয়ে মুছে বলতো সার্ভিসিং করে দিয়েছি। আসলে এখানে প্রকৃত সার্ভিসিং করা হয়নি। দুর্ঘটনার ঘটার পর এখন বড় টিম নিয়ে এসেছে ঠিক করতে। এর আগে এত গুরুত্ব দিতে দেখিনি।‘
চলছে মেরামত
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায় দুর্ঘটনায় ছিঁড়ে পড়া লিফটি ঠিক করতে প্রপার্টি লিফটসের কর্মীরা এসেছেন। তারা জানান, কয়েকদিন সময় লাগবে লিফটি ঠিক করতে।

লিফটি মেরামতের কাজ তদারকি করছিলেন প্রপার্টি লিফটসের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের কর্মকর্তা মো. রোকন। তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘লিফটের বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো যন্ত্রাংশে সমস্যা থাকার পরও সেটি মেরামত না করে ব্যবহার করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। আবার অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।‘
লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি একটি কারিগরি সমস্যা। নির্দিষ্ট সময় পর বিভিন্ন যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হলে ও কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে তা পরিবর্তনের জন্য কিনতে হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ছাড়া সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।‘
মো. রোকন আরও জানান, লিফটে ফ্রি-ফল প্রতিরোধের ব্যবস্থা থাকে, যা লিফট নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিচে নামতে থাকলে সেটিকে আটকে দেওয়ার কথা। তবে এই ঘটনায় সেই যান্ত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করেছিল কি না, তা পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রপার্টি লিফটসের অপর কর্মকর্তা সমীর দত্ত সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আমি ঢাকার বাইরে ছিলাম, এবিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’
একচেটিয়া লিফট সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই আমরা লিফট সরবরাহ করে থাকি। শুধু কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প আমাদের লক্ষ্য নয়।’
তবে এ বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (কর্পোরেট সেলস) তৌহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া দাবি করেন, এই দুর্ঘটনার জন্য তারা দায়ী নন। চুক্তি অনুযায়ী জুন পর্যন্ত লিফটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তাদের। এ বিষয়ে তারা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাছে বারবার চিঠি দিলেও কোনো সাড়া পাননি । তিনি আরও বলেন. এই দুর্ঘটনার পর তারা মিরপুরের ওই ভবনের লিফটের পাশাপাশি ঢাকাসহ সারা দেশের লিফটের কনডিশন (অবস্থা) পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণত কোম্পানি ও মডেলভেদে ১ থেকে ২ বছরের মূল ওয়ারেন্টি প্রদান করে থাকে লিফট কোম্পানিগুলো। এর মধ্যে মোটর, গিয়ারবক্স, কন্ট্রোল প্যানেল ও মেইন ড্রাইভ সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পার্টস বা যন্ত্রাংশের ওপর ১ বছরের পার্টস ওয়ারেন্টি অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা ব্র্যান্ডের নির্ভরযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে। তবে স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত বা ব্যবহারজনিত কারণে নষ্ট হওয়া সাধারণ যন্ত্রাংশ এই ওয়ারেন্টির আওতাভুক্ত থাকে না।
তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি
শনিবার সকালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা সরেজমিনে এসে লিফটটি দেখে গিয়েছেন। এই দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ দুর্ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।
এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ । কমিটির দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) আবদুল্যাহ আল মামুন। এই কমিটিকে লিফট রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছিল কি না এবং লিফট দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।
দূর্ঘটনার বিষয়ে জানতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ ইস্কান্দার আলীর মুঠোফোনে শনিবার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে তার মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া দেননি।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ঘটনার পরপর দুর্ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি সরকারের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এছাড়া তিনি কাদের গাফলতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা প্রকাশ করারও আহ্বান জানান









