একসময় ছিল অভিজাত শপিং মল, এখন বন্ধ কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
একসময় ছিল অভিজাত শপিং মল, এখন বন্ধ কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

একটা সময়ে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সে ছিল রাজধানীর অভিজাত শপিং মলগুলোর একটি। সময়ের আবর্তনে শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ের সেই শপিং কমপ্লেক্সটিই জৌলুস হারাতে থাকে। বছরের পর বছর ধরে ক্রেতা কমতে থাকায় দুই শতাধিক দোকানের শপিং মলটিতে শেষ দিকে টিকে ছিল মাত্র ২০-২৫টি দোকান। টানা লোকসান আর বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের চাপে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দোকান মালিকেরা। এখন তো পুরো শপিং কমপ্লেক্সই বন্ধ হয়ে গেছে।

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সের যাত্র শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। ২০ তলা ভবনটির নিচের তিন তলায় ছিল বিপণিবিতান। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, উপহারসামগ্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম ছিল সেখানে। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট। শপিং কমপ্লেক্সটি চালুর সময় দোকানের সংখ্যা ছিল ১৯৮টি।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় পরিস্থিতি। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গত প্রায় এক দশকে ধীরে ধীরে ক্রেতা হারিয়েছে মার্কেটটি। অবশেষে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে পুরো শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রধান প্রবেশপথের শাটার নামানো। ওপরে ঝুলছে বন্ধ থাকার বিজ্ঞপ্তি। তবে গেটের আশপাশে কাচ্চি ডাইন, হটকেক, রেমন্ড ও মেজবান ডাইনসহ কয়েকটি খাবার ও পোশাকের দোকান চালু রয়েছে।

শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধ হওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা মূলত চারটি কারণের কথা বলেছেন। প্রথমত, শান্তিনগর ফ্লাইওভার নির্মাণ ও আশপাশের সড়কে সংস্কারকাজ। দীর্ঘ সময় চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ক্রেতাদের আনাগোনা কমে যায়। এর প্রভাবে অনেক ভালো ব্যবসায়ী অন্য মার্কেটে চলে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও তাদের অনেকেই আর ফিরে আসেননি।

দ্বিতীয়ত, করোনাভাইরাস মহামারির সময় দীর্ঘ লকডাউন ও ব্যবসায়িক মন্দা। তখন আরও কিছু প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মার্কেট ছেড়ে চলে যান। ফলে বিপণিবিতানটির ক্রেতা আকর্ষণের ক্ষমতা আরও কমে যায়। তৃতীয়ত, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য বিদেশি বলে বিক্রির অভিযোগ। ব্যবসায়ীদের দাবি, জিনজিরা ও চকবাজার থেকে আনা পণ্য দুবাইয়ের মতো বিদেশি উৎসের বলে বিক্রি করায় বিশ্বস্ত ও বেশি দামের পণ্য কেনা ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হয়।

চতুর্থত, অনলাইন কেনাকাটার বিস্তার এবং বড় শপিং মলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া। এখন ঘরে বসেই পোশাক, জুতা কিংবা শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিস অর্ডার করা যায়। অন্যদিকে বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কের মতো বড় বিপণিবিতানে একই জায়গায় অনেক ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। কর্ণফুলী গার্ডেন সিটিতে দোকানের বৈচিত্র্য কমে যাওয়ায় ক্রেতারা বিকল্পের দিকে ঝুঁকেছেন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

/আরএ/