উচ্ছেদ অভিযানের পরও মিরপুর ১০ মেট্রোস্টেশনের ফুটপাতে হকাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্ছেদ অভিযানের পরও মিরপুর ১০ মেট্রোস্টেশনের ফুটপাতে হকাররা
মিরপুর ১০ মেট্রোস্টেশনের ফুটপাত দলখ করে বসেছে হকাররা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উচ্ছেদ অভিযানের মাত্র তিন সপ্তাহ পার না হতেই মিরপুর ১০ মেট্রোরেল স্টেশনসহ আশপাশের এলাকায় আবারও বসতে শুরু করেছেন হকাররা। ফুটপাত ও সড়ক দখল হয়ে আগের সেই চিরচেনা রূপ ফিরে আসায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ফলে ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযানের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১১ নম্বরের দিকে যাওয়ার সড়কে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ফুটপাতের দুই পাশে আবারও পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন হকাররা। সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪৫টি ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়েছেন তারা।

কেউ ছোট্ট একটি টুলের ওপর সিগারেট ও পান সাজিয়ে বিক্রি করছেন। আবার কেউ পসরা সাজিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের টি-শার্টের। কেউ কেউ ওজন মাপার যন্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ফল, বাদাম ও ফুলের দোকান দিয়ে ফুটপাত আটকে রেখেছেন।

হকাররা জানান, ফুটপাত থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের উঠিয়ে দিয়েছিল সিটি কর্পোরেশন। এরপরে তারা আর বসতে পারেনি। তবে গত ২ থেকে ৩ দিন ধরে আবারও দুপুর থেকে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বসছেন তারা।

মিরপুর ১০ মেট্রোস্টেশনের ফুটপাত দলখ করে বসেছে হকাররা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
মিরপুর ১০ মেট্রোস্টেশনের ফুটপাত দলখ করে বসেছে হকাররা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ফুটপাতে ইলেকট্রনিকস সামগ্রী বিক্রেতা মো. ওসমান বলেন, অল্প সময়ের জন্য রিস্ক নিয়ে এখানে বসতেছি। কতদিন ব্যবসা বন্ধ রাখবো। কিছু করে তো খেতে হবে।

ইকবাল নামের আরেক হকার বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় অনেকের মালামাল নিয়ে গেছে সিটি কর্পোরেশন। আমারটা নিতে পারেনি। কিন্তু, এখন যদি আবারও অভিযান চালায়, তাহলে হয়তো বড় বিপদ হবে। তবুও বাধ্য হয়ে বসছি।

এদিকে, ফুটপাতের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ পথচারীরা। তাদের মতে, হকারদের ফুটপাতে এলোমেলোভাবে বসতে না দিয়ে নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা উচিত।

শিবলী নামের এক পথচারী বলেন, হকারদেরও পরিবার আছে, তারাও মানুষ। কিন্তু, ফুটপাত দখল করে সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গায় এভাবে বসতে দেওয়া উচিত নয়। তাদের একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে আনা উচিত।

আশ্রাফ নামের আরেক পথচারী বলেন, হকারদের কোনোভাবেই ফুটপাতে বসতে দেওয়া উচিত নয়। তাদের কারণে মানুষ ভালোমতো হাঁটতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে অভিযান হলেও, তারা আবারও ফুটপাতে বসা শুরু করে দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েকদিন পর আবারও তাদের পুরোপুরি দখলে চলে যাবে।

মিরপুর ১০ মেট্রোস্টেশনের ফুটপাত দলখ করে বসেছে হকাররা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
মিরপুর ১০ মেট্রোস্টেশনের ফুটপাত দলখ করে বসেছে হকাররা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

এসব বিষয়ে কথা বলতে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে একাধিকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর ১০ নম্বর উচ্ছেদ অভিযান সময় ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছিলেন, মিরপুর এলাকায় তিনি ফুটপাত দখল করে কখনোই হকার বসতে দেবেন না। সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য উনি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখবেন। উচ্ছেদ অভিযানের পর তিনি কয়েকবার ফুটপাত পরিদর্শনও করেছেন।

/এফআর/