অশালীন অবস্থায় নাচানাচি চলছিল অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে: ডিসি ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
অশালীন অবস্থায় নাচানাচি চলছিল অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে: ডিসি ডিবি
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

রাজধানীর ভাটারায় একটি বাড়ির পাঁচটি কক্ষে চলছিল ডিজে পার্টি। শিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন কক্ষগুলোতে উচ্চ শব্দে গানের তালে অর্ধনগ্ন অবস্থায় নাচানাচি করছিলেন তরুণ-তরুণীরা। মদ্যপ অবস্থায় চলছিল এসব আয়োজন। সেখান থেকে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির।

পাঁচ কক্ষে চলছিল অশালীন নাচানাচি

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ডিসি বলেন, বাড়িটির কাছে পৌঁছানোর আগেই মসজিদের আশপাশ থেকে উচ্চ শব্দে গানের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। পরে বাড়ির ভেতরে গিয়ে ডিজে পার্টির পরিবেশ দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল।

তিনি বলেন, ভবনটির পাঁচটি কক্ষে ডিজে পার্টি চলছিল। কক্ষগুলো শিসার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় গানের তালে তালে তরুণ-তরুণীদের অর্ধনগ্ন অবস্থায় নাচানাচি করতে দেখা যায়।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, পার্টিতে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। যাদের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন পেশার মানুষ ওই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন।

মদ, কুশ ও ইয়াবা উদ্ধার

অভিযানকালে মদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন ডিবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সেখান থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের বোতল, কেরুর মদ, কুশ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কনডমও পাওয়া গেছে।

অনলাইনে নিবন্ধন, মাসে ২০–২২টি আয়োজন

ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন নিবন্ধন করে অংশগ্রহণকারীরা এসব আয়োজনে যুক্ত হতেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

তিনি বলেন, বাড়িটির কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে সেখানে এ ধরনের আয়োজন চলে আসছিল। প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ২২টি অনুষ্ঠান হতো বলে জানা গেছে।

আয়ের বিষয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, বাড়ি ভাড়া বাবদ ১০ জনের কাছ থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিবন্ধনকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেওয়া হতো। একটি আয়োজনে প্রায় ১০০ জন অংশ নিলে শুধু নিবন্ধন ফি থেকেই উল্লেখযোগ্য অর্থ আসত।

বাড়ির মালিক কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেখবেন বলে জানান তিনি।

বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি

বাড়িটির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন। তাকে ওই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

পুরুষদের একমাস, নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়ে ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, ডিএমপির সামারি ট্রায়ালে পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, আটক ব্যক্তিরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের অভিভাবকদের আলাদাভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

/এফআর/