শিরোনাম

বেরোবির তিন হলে ব্যয় বাড়লেও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ

বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবির তিন হলে ব্যয় বাড়লেও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মাত্র ৮২০ আসনের তিনটি আবাসিক হল পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছেন ২৬ জন প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট। তাদের ভাতা বাবদ বছরে ব্যয় হচ্ছে ১২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। তবে এত ব্যয়ের পরও আবাসিক হলগুলোর পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েই গেছে। ফলে এ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৪০ আসনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুখতার ইলাহী হলে একজন প্রভোস্ট ও আটজন সহকারী প্রভোস্ট, ২৪০ আসনের বিজয়-২৪ হলে একজন প্রভোস্ট ও নয়জন সহকারী প্রভোস্ট এবং ৩৪০ আসনের শহীদ ফেলানী হলে একজন প্রভোস্ট ও ছয়জন সহকারী প্রভোস্ট দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে, ছেলেদের হলগুলোতে আবাসিক শিক্ষক থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও সম্প্রতি মেয়েদের হলে একজন আবাসিক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে হলে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হলের প্রভোস্ট ড. সিফাত রুমানা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রত্যেক প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট মাসে ৪ হাজার টাকা করে ভাতা পান। সে হিসাবে ২৬ জনের জন্য প্রতি মাসে ব্যয় হয় ১ লাখ ৪ হাজার টাকা, বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় মোট ১২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক হলগুলোতে প্রভোস্টদের আবাসিকভাবে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। এতে অফিস সময়ের পর জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায় না। এতে হল ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। ফলে মানসম্পন্ন আবাসিক সেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা বলেন, মাত্র ৮২০ আসনের জন্য ২৬ জন প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট নিয়োগ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক। তাদের ভাষ্য, বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করা হলেও এর সুফল আবাসিক শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন না।

শহীদ মুখতার ইলাহী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রভোস্টদের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাত্র ৮২০ আসনের তিনটি আবাসিক হলে ২৬ জন প্রভোস্ট নিয়োগ এবং তাঁদের ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ১২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। এতসংখ্যক প্রভোস্ট বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়ে প্রশাসনের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করি।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সম্পদের ব্যবহার এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থীদের আবাসন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক শিক্ষকের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এখন শিক্ষক ডরমিটরিতে জুনিয়র শিক্ষকদের থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় শিক্ষকদের পাওয়া যাবে। এরপরও যদি শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পায়, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

/এফআর/