সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর, খরচ দেবে ঠিকাদার

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর, খরচ দেবে ঠিকাদার
নিজস্ব প্রতিবেদক

বুলডোজার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বিদেশ ভ্রমণের সরকারি অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চার কর্মকর্তা। এ ভ্রমণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের সরঞ্জাম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও সম্প্রতি চীন সফরের অনুমোদন পেয়েছেন আরও চার সরকারি কর্মকর্তা। এক্ষেত্রেও ভ্রমণের ব্যয় বহন করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডট লিমিটেড।
ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ পরিহারের জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এ ধরনের ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরের কয়েক মাস এ ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিদেশ ভ্রমণ-সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বরকত হায়াত, ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী, যান্ত্রিক সার্কেল মাকসূদ আলম এবং ডিএনসিসির সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামকে পাঁচদিনের চীন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়।
সরকারি এ চার কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা দুটি চেইন ডোজার (বুলডোজার) পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। তাদের এ ভ্রমণকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক শহরে সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন (সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়ন করা এ প্রকল্পের ব্যয় ৫৫৯ কোটি টাকা। এজন্য একটি ডিসচার্জিং সরঞ্জামের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর চীন ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম, প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হক ও মো. শামীম আনোয়ার।
গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের এ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তাদের এ ভ্রমণের সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডট লিমিটেড।
বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম জানান, এ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কাছে উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছে। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না বলে জানান।
সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের লাগাম টানতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তিন দফায় নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সাশ্রয়ে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে সুলভ শ্রেণি (ইকোনমি ক্লাস) বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি হয়। এরপর ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে সুযোগ নিয়ে এ ধরনের সফর করতেন। মূলত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অর্থে এসব ভ্রমণ করিয়ে থাকে। ফলে এসব ভ্রমণ বিধিসম্মত নয়। কেননা ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের ব্যয়ে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে। নিম্নমানের পণ্য দেওয়া, কাজের গুণগত মান কমানোর মাধ্যমে খরচ পুষিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোম্পানির টাকায় বিদেশ ঘুরে আসার পর সেই কোম্পানির প্রতি দুর্বলতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।
সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরবরাহকারী এখানে অর্থায়ন করছে, এর মানে হলো সে এখানে বিনিয়োগ করছে। এক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিদ্যমান নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় এ ধরনের ভ্রমণের আদেশ জারি করা সমীচীন হয়নি।

বুলডোজার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বিদেশ ভ্রমণের সরকারি অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চার কর্মকর্তা। এ ভ্রমণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের সরঞ্জাম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও সম্প্রতি চীন সফরের অনুমোদন পেয়েছেন আরও চার সরকারি কর্মকর্তা। এক্ষেত্রেও ভ্রমণের ব্যয় বহন করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডট লিমিটেড।
ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ পরিহারের জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এ ধরনের ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরের কয়েক মাস এ ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিদেশ ভ্রমণ-সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বরকত হায়াত, ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী, যান্ত্রিক সার্কেল মাকসূদ আলম এবং ডিএনসিসির সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামকে পাঁচদিনের চীন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়।
সরকারি এ চার কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা দুটি চেইন ডোজার (বুলডোজার) পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। তাদের এ ভ্রমণকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক শহরে সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন (সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়ন করা এ প্রকল্পের ব্যয় ৫৫৯ কোটি টাকা। এজন্য একটি ডিসচার্জিং সরঞ্জামের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর চীন ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম, প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হক ও মো. শামীম আনোয়ার।
গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের এ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তাদের এ ভ্রমণের সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডট লিমিটেড।
বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম জানান, এ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কাছে উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছে। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না বলে জানান।
সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের লাগাম টানতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তিন দফায় নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সাশ্রয়ে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে সুলভ শ্রেণি (ইকোনমি ক্লাস) বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি হয়। এরপর ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে সুযোগ নিয়ে এ ধরনের সফর করতেন। মূলত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অর্থে এসব ভ্রমণ করিয়ে থাকে। ফলে এসব ভ্রমণ বিধিসম্মত নয়। কেননা ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের ব্যয়ে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে। নিম্নমানের পণ্য দেওয়া, কাজের গুণগত মান কমানোর মাধ্যমে খরচ পুষিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোম্পানির টাকায় বিদেশ ঘুরে আসার পর সেই কোম্পানির প্রতি দুর্বলতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।
সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরবরাহকারী এখানে অর্থায়ন করছে, এর মানে হলো সে এখানে বিনিয়োগ করছে। এক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিদ্যমান নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় এ ধরনের ভ্রমণের আদেশ জারি করা সমীচীন হয়নি।

সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর, খরচ দেবে ঠিকাদার
নিজস্ব প্রতিবেদক

বুলডোজার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বিদেশ ভ্রমণের সরকারি অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চার কর্মকর্তা। এ ভ্রমণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের সরঞ্জাম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও সম্প্রতি চীন সফরের অনুমোদন পেয়েছেন আরও চার সরকারি কর্মকর্তা। এক্ষেত্রেও ভ্রমণের ব্যয় বহন করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডট লিমিটেড।
ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ ভ্রমণ পরিহারের জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এ ধরনের ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরের কয়েক মাস এ ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবার সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিদেশ ভ্রমণ-সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বরকত হায়াত, ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী, যান্ত্রিক সার্কেল মাকসূদ আলম এবং ডিএনসিসির সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামকে পাঁচদিনের চীন ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়।
সরকারি এ চার কর্মকর্তার বিদেশ সফরের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা দুটি চেইন ডোজার (বুলডোজার) পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। তাদের এ ভ্রমণকে দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোহেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ১০টি অগ্রাধিকারভিত্তিক শহরে সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন (সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়ন করা এ প্রকল্পের ব্যয় ৫৫৯ কোটি টাকা। এজন্য একটি ডিসচার্জিং সরঞ্জামের পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর চীন ভ্রমণের অনুমোদন পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম, প্রকল্প পরিচালক এসএম শামীম আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হক ও মো. শামীম আনোয়ার।
গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত আদেশে তাদের এ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া হয়। তাদের এ ভ্রমণের সব ধরনের ব্যয় বহন করবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন ডট লিমিটেড।
বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার ইমাম জানান, এ ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কাছে উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়েছে। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না বলে জানান।
সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের লাগাম টানতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তিন দফায় নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যয় সাশ্রয়ে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য আকাশপথে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে সুলভ শ্রেণি (ইকোনমি ক্লাস) বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি হয়। এরপর ৮ জুলাই অর্থ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে সুযোগ নিয়ে এ ধরনের সফর করতেন। মূলত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অর্থে এসব ভ্রমণ করিয়ে থাকে। ফলে এসব ভ্রমণ বিধিসম্মত নয়। কেননা ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের ব্যয়ে স্বার্থের সংঘাত হতে পারে। নিম্নমানের পণ্য দেওয়া, কাজের গুণগত মান কমানোর মাধ্যমে খরচ পুষিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কোনো কোম্পানির টাকায় বিদেশ ঘুরে আসার পর সেই কোম্পানির প্রতি দুর্বলতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তখন ওই প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না-ও হতে পারে।
সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরবরাহকারী এখানে অর্থায়ন করছে, এর মানে হলো সে এখানে বিনিয়োগ করছে। এক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিদ্যমান নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় এ ধরনের ভ্রমণের আদেশ জারি করা সমীচীন হয়নি।

অনুমোদন ছাড়া ২৫ বার বিদেশ ভ্রমণ, কাস্টমস কর্মকর্তা আইয়ুব বরখাস্ত







