১০ মাসে ১৭৬ হামলায় ৪ পুলিশ নিহত, আহত ৩৭০

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
 ১০ মাসে ১৭৬ হামলায় ৪ পুলিশ নিহত, আহত ৩৭০
বাংলাদেশ পুলিশের লোগো

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা নানা বিপদ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। কোথাও পুলিশ সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। গুরুতর আহতও হয়েছেন অনেক পুলিশ সদস্য।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন গত ২৭ অক্টোবর এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে। সংগঠনটির দাবি, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন আহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের হামলার মুখোমুখি হতে হয়। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাগুলো দায়িত্ব পালনের সময় তাদের ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার চিত্র তুলে ধরে বলে মনে করে এসোসিয়েশন।

গোপালগঞ্জ ও টঙ্গীতে পুলিশের ওপর হামলা

পুলিশ এসোসিয়েশনের ওই বিবৃতিতে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম খেয়াঘাট এলাকায় একটি মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

অন্যদিকে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখিত ঘটনাগুলোতে পুলিশ সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করে সংযমের পরিচয় দিয়েছেন।

আত্মরক্ষার অধিকার ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ

পুলিশের নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৯৬ থেকে ১০৬ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২৭ ও ১২৮ ধারার উল্লেখ করেছে। একইসঙ্গে পুলিশ প্রবিধানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে থাকা নির্দেশনার কথাও তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের মতে, পুলিশের ওপর বারবার হামলার ঘটনা সদস্যদের নিরাপত্তা ও মনোবলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য নিয়ে এসোসিয়েশনের ব্যাখ্যা

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে বিবৃতিতে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশের আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও সক্ষমতা তুলে ধরাই ছিল তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য। বক্তব্যটিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘোষণা কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার বক্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা না করে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা হোক।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো বক্তব্যের বিচ্ছিন্ন অংশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছে পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। পুলিশ অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে, আর গণমাধ্যম জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয়। উভয়ের পেশাগত দায়িত্ব ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি।

বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন জানিয়েছে, পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার ও দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি বিবেচনার পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও অপরিহার্য। একই সঙ্গে আইজিপির বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

/এসবি/