দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান তিনি।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন, দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তার ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির এই ক্রান্তিকালে তার ভূমিকা ছিল ত্রাতার।

তিনি বলেন, সিপাহি ও জনতার এই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করেছে। সেই একই চেতনা পুনর্জাগরিত হয় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। এ সময় ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে আবারও রক্ষা পায় প্রিয় স্বদেশ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে এই বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম। এরই ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে মুক্তি দেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতিকে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন, সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠা করেন সুশাসন।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, গণতন্ত্র ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন চেপে বসেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আজ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা অপরিহার্য।

/এসবি/