শিরোনাম

রাজনীতি যেন পেশাগত কাজে বিঘ্ন না ঘটায়: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি
বিশেষ প্রতিনিধি
রাজনীতি যেন পেশাগত কাজে বিঘ্ন না ঘটায়: প্রধানমন্ত্রী
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়– এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকরা যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদেরকে নিবেদিত না রাখেন তাহলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নতি দিয়ে সফলতা আসবে না।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এই সমাবেশের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, আমার সামনে যারা উপস্থিত রয়েছেন, সবাই স্বনামধন্য চিকিৎসক। আমি চিকিৎসক নই এবং আজ আমি চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে একজন অচিকিৎসক ব্যক্তির একটি উক্তি উল্লেখ করে কয়েকটি কথা বলতে চাই। তার নাম টমাস এডিসন। তিনি মার্কিন বিজনেসম্যান এবং উদ্ভাবক। ঊনিশ শতকের শুরুর দশকে টমাস এডিসন বলেছিলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসক কোনো ওষুধ দেবেন না, বরং তিনি রোগীদের মানবদেহের যত্ন ও খাদ্যাভ্যাস এবং রোগের কারণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে আগ্রহী করে তুলবেন।

রাজনীতি যেন পেশাগত কাজে বিঘ্ন না ঘটায় 1
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

তারেক রহমান বলেন, টমাস এডিসনের এই চিন্তার সঙ্গে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য সেবার নীতির সঙ্গে একটি মিল খুঁজে পাওয়া যায়। চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। বর্তমান সরকার মনে করে, মানুষকে যদি শুরুতেই রোগের উৎপত্তি কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায় তাহলে সহজেই অনেক রোগের নিরাময় সম্ভব। এ কারণে বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন করে আরো এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে। তারা নাগরিকদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন করবেন। তবে তাদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কিনা, কিংবা কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা রয়েছে। আমি মনে করি, একট গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবারই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়। তবে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে। পেয়েছে দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার সফলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতেও ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ করেছি, একটি চক্র সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তবে ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

তিনি বলেন, সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ প্রতিটি সেক্টরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলেছে। স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ আগামী ৫ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদেরকে নিবেদিত না রাখেন তাহলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নতি দিয়ে সফলতা আসবে না।

তিনি আরও বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর পাশাপাশি চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরী হয়।

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হবে না।

ড্যাব সভাপতি হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

/এফসি/