আওয়ামীপন্থীদের সরানো হচ্ছে সরকারি সব কমিটি থেকে

আওয়ামীপন্থীদের সরানো হচ্ছে সরকারি সব কমিটি থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে নতুন করে তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এই তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে থাকা পুরোনো কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরানো হচ্ছে আওয়ামীপন্থীদের
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ আগস্ট জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। পুনর্গঠিত কমিটির তথ্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই কয়েক বছর আগে গঠিত। ফলে অনেক কমিটিই বর্তমানে হালনাগাদ নেই। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন কিংবা কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পুরোনো কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক তাদের মনোনয়ন দেবেন। একই সঙ্গে কমিটিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অনেক কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় সেগুলোর কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগের সরকারের সময়ে গঠিত কিছু কমিটির সদস্য বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত সভা আয়োজন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটিতে দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সদস্য করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের কেউ আত্মগোপনে, আবার কেউ দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় কমিটির কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব সদস্যকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তারা। এক জেলা প্রশাসক উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির বর্তমান সভাপতিকে সভায় ডাকলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। এ কারণে ওই কমিটিও দ্রুত পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি বলা হয়নি। সেখানে বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটিতে নিয়োগ পাওয়া কিছু ব্যক্তির অবস্থানও বর্তমান সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কমিটি পুনর্গঠনের সময় তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নতুন কাঠামোর আওতায় জেলা প্রশাসকদের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির মধ্যে রয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি এবং ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্যাপন কমিটি।
এ ছাড়া আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত কমিটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি এবং ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও ডিসিদের ওপর রয়েছে।
জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদানের আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটিও এই তালিকায় রয়েছে।
সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন কমিটি হালনাগাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সভা না হওয়া এবং আগের সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সদস্যপদে থাকা—দুটি বিষয়ই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য, এমন অনেক কমিটি রয়েছে, যেগুলোর দীর্ঘদিন কোনো সভা হয়নি। আবার কিছু কমিটিতে আগের সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা এখনো সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে নতুন করে তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এই তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে থাকা পুরোনো কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরানো হচ্ছে আওয়ামীপন্থীদের
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ আগস্ট জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। পুনর্গঠিত কমিটির তথ্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই কয়েক বছর আগে গঠিত। ফলে অনেক কমিটিই বর্তমানে হালনাগাদ নেই। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন কিংবা কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পুরোনো কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক তাদের মনোনয়ন দেবেন। একই সঙ্গে কমিটিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অনেক কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় সেগুলোর কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগের সরকারের সময়ে গঠিত কিছু কমিটির সদস্য বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত সভা আয়োজন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটিতে দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সদস্য করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের কেউ আত্মগোপনে, আবার কেউ দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় কমিটির কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব সদস্যকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তারা। এক জেলা প্রশাসক উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির বর্তমান সভাপতিকে সভায় ডাকলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। এ কারণে ওই কমিটিও দ্রুত পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি বলা হয়নি। সেখানে বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটিতে নিয়োগ পাওয়া কিছু ব্যক্তির অবস্থানও বর্তমান সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কমিটি পুনর্গঠনের সময় তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নতুন কাঠামোর আওতায় জেলা প্রশাসকদের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির মধ্যে রয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি এবং ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্যাপন কমিটি।
এ ছাড়া আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত কমিটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি এবং ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও ডিসিদের ওপর রয়েছে।
জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদানের আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটিও এই তালিকায় রয়েছে।
সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন কমিটি হালনাগাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সভা না হওয়া এবং আগের সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সদস্যপদে থাকা—দুটি বিষয়ই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য, এমন অনেক কমিটি রয়েছে, যেগুলোর দীর্ঘদিন কোনো সভা হয়নি। আবার কিছু কমিটিতে আগের সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা এখনো সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আওয়ামীপন্থীদের সরানো হচ্ছে সরকারি সব কমিটি থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে নতুন করে তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এই তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে থাকা পুরোনো কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরানো হচ্ছে আওয়ামীপন্থীদের
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ আগস্ট জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। পুনর্গঠিত কমিটির তথ্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই কয়েক বছর আগে গঠিত। ফলে অনেক কমিটিই বর্তমানে হালনাগাদ নেই। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন কিংবা কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পুরোনো কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক তাদের মনোনয়ন দেবেন। একই সঙ্গে কমিটিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অনেক কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় সেগুলোর কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগের সরকারের সময়ে গঠিত কিছু কমিটির সদস্য বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত সভা আয়োজন ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটিতে দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সদস্য করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের কেউ আত্মগোপনে, আবার কেউ দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় কমিটির কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব সদস্যকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তারা। এক জেলা প্রশাসক উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির বর্তমান সভাপতিকে সভায় ডাকলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। এ কারণে ওই কমিটিও দ্রুত পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি বলা হয়নি। সেখানে বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটিতে নিয়োগ পাওয়া কিছু ব্যক্তির অবস্থানও বর্তমান সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কমিটি পুনর্গঠনের সময় তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নতুন কাঠামোর আওতায় জেলা প্রশাসকদের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটির মধ্যে রয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি এবং ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্যাপন কমিটি।
এ ছাড়া আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত কমিটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি এবং ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও ডিসিদের ওপর রয়েছে।
জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদানের আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটিও এই তালিকায় রয়েছে।
সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন কমিটি হালনাগাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সভা না হওয়া এবং আগের সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সদস্যপদে থাকা—দুটি বিষয়ই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষ্য, এমন অনেক কমিটি রয়েছে, যেগুলোর দীর্ঘদিন কোনো সভা হয়নি। আবার কিছু কমিটিতে আগের সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা এখনো সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।









