শিরোনাম

নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল, আছে সুখবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল, আছে সুখবর
পে-স্কেল

গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আপত্তি সত্ত্বেও আগামী অক্টোবরের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ওয়াশিংটনে অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে জানান, “নতুন বেতন কাঠামোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী অন্তর্ভুক্ত হবেন। মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও পেনশন খাতে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ কারণেই আইএমএফ বাস্তবায়ন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এতে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে সরকার এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীতিগত সিদ্ধান্ত বহাল রেখে প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।

অতীতের পে স্কেলে কত বেড়েছিল বেতন

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আটবার জাতীয় পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে।প্রতিটি পে স্কেলেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বিভিন্ন হারে বাড়ানো হয়েছে।

১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম পে স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল ১৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের দ্বিতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৭৩ শতাংশ বেড়ে ২২৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার টাকা হয়।

১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের তৃতীয় পে স্কেলে সবচেয়ে বড় বেতন বৃদ্ধি দেখা যায়। এ সময় সর্বনিম্ন মূল বেতন ১২২ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন দ্বিগুণ হয়ে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের চতুর্থ পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৮০ শতাংশ বেড়ে ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার টাকা হয়।

১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের পঞ্চম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়ে দেড় হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের ষষ্ঠ পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৬০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫৩ শতাংশ বেড়ে ২৩ হাজার টাকা হয়।

২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের সপ্তম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ৪ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সর্বশেষ ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের অষ্টম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১০১ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৯৫ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ খুলবে।