দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চায় মস্কো: কিয়েভের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চায় মস্কো: কিয়েভের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
ইউক্রেনের সেনাসদস্যরা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মতে, সাময়িক সময়ের জন্য লড়াই বন্ধ রাখার চেয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির মাধ্যমেই তারা এ সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায়। একই সঙ্গে, নতুন করে আলোচনায় আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে মন্তব্য করেনি মস্কো।

রবিবার (১১ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির এ নতুন প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। মূলত যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনে আটকে থাকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ করার সুযোগ তৈরি করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। তবে মস্কো এতে সায় না দেওয়ায় সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগটি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়লো।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, আমরা যুদ্ধবিরতি চাই না। আমরা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চাই এবং তা অর্জনের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত।

সংঘাত থামানোর প্রশ্নে দুই দেশের এ বিপরীতমুখী অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ইউক্রেনের অভিযোগ, এর আগেও বেশ কয়েকবার আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক যুদ্ধবিরতি নির্ধারণ করা হলেও রাশিয়া তা মানেনি এবং প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি ভেঙে আক্রমণ করেছে। ফলে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কতটুকু কাজ হবে, তা নিয়ে কিয়েভের মনে যথেষ্ট সংশয় রয়ে গেছে।

অপরদিকে মস্কোর যুক্তি, সাময়িক সময়ের জন্য সামলানোর চেষ্টা না করে সরাসরি এমন এক চুক্তি হওয়া দরকার, যা সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান দেবে। তবে স্থায়ী এ শান্তিচুক্তির মূল শর্তগুলো ঠিক কী হতে পারে- সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি পেসকভ।

অন্যদিকে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা বন্ধের কৌশল হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিশেষ ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতির’ ঘোষণা দিয়েছিলেন। পেসকভকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সরাসরি উত্তর দেননি। ক্রেমলিন এ বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করায় ট্রাম্পের ঘোষিত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ নিয়েও থেকে যাচ্ছে নানা প্রশ্ন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এমএকে/