সাত রোগে আক্রান্তরা পাবেন এক লাখ টাকা, যেভাবে করবেন আবেদন

সাত রোগে আক্রান্তরা পাবেন এক লাখ টাকা, যেভাবে করবেন আবেদন
অনলাইন ডেস্ক

দুরারোগ্য সাতটি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার জন্য এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার রোগীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মোট ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওই বছর ৫৬১ জন রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ বেড়েছে।
২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩০০ কোটি টাকা করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরে ৬৫ হাজার রোগীকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারা পাবেন আর্থিক সহায়তা
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের আয়-ব্যয় ও সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া যেসব রোগীর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন কিংবা যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীদেরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তবে আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া কিংবা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কেউ সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও তার আবেদন বাতিল করা হতে পারে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, একই অর্থবছরে একজন আবেদনকারী একবার এ সহায়তা নিতে পারবেন। আর সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী, অভিভাবক বা আইনানুগ অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি।
- নমিনির প্রয়োজনীয় তথ্য।
- রোগী, আবেদনকারী বা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি।
- চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি।
- রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি।
রোগের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত পরীক্ষার রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন
ক্যান্সার: টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে।
কিডনি রোগ: রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের সনদ দিতে হবে।
লিভার সিরোসিস: লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম, ফাইব্রোস্ক্যান এবং রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন হবে।
প্যারালাইসিস: রোগের ধরন ও অবস্থা প্রমাণের জন্য এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কিংবা গ্রহণযোগ্য প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে।
হৃদরোগ: এনজিওগ্রাম, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা ও পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে হবে।
থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়া: হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিসসহ রোগ শনাক্তকরণের জন্য প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; মূল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
যেভাবে আবেদন করবেন
প্রথমে অনলাইনে নির্ধারিত আবেদন লিংকে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য, রোগের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি সংগ্রহ করতে হবে। এরপর চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
প্রস্তুত করা আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দুই কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় অথবা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে কাগজপত্র ও প্রত্যয়নসংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো।
আবেদনের লিংকে যেতে এখানে ক্লিক করুন।
/এবি/

দুরারোগ্য সাতটি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার জন্য এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার রোগীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মোট ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওই বছর ৫৬১ জন রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ বেড়েছে।
২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩০০ কোটি টাকা করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরে ৬৫ হাজার রোগীকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারা পাবেন আর্থিক সহায়তা
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের আয়-ব্যয় ও সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া যেসব রোগীর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন কিংবা যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীদেরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তবে আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া কিংবা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কেউ সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও তার আবেদন বাতিল করা হতে পারে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, একই অর্থবছরে একজন আবেদনকারী একবার এ সহায়তা নিতে পারবেন। আর সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী, অভিভাবক বা আইনানুগ অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি।
- নমিনির প্রয়োজনীয় তথ্য।
- রোগী, আবেদনকারী বা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি।
- চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি।
- রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি।
রোগের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত পরীক্ষার রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন
ক্যান্সার: টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে।
কিডনি রোগ: রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের সনদ দিতে হবে।
লিভার সিরোসিস: লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম, ফাইব্রোস্ক্যান এবং রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন হবে।
প্যারালাইসিস: রোগের ধরন ও অবস্থা প্রমাণের জন্য এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কিংবা গ্রহণযোগ্য প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে।
হৃদরোগ: এনজিওগ্রাম, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা ও পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে হবে।
থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়া: হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিসসহ রোগ শনাক্তকরণের জন্য প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; মূল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
যেভাবে আবেদন করবেন
প্রথমে অনলাইনে নির্ধারিত আবেদন লিংকে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য, রোগের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি সংগ্রহ করতে হবে। এরপর চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
প্রস্তুত করা আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দুই কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় অথবা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে কাগজপত্র ও প্রত্যয়নসংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো।
আবেদনের লিংকে যেতে এখানে ক্লিক করুন।
/এবি/

সাত রোগে আক্রান্তরা পাবেন এক লাখ টাকা, যেভাবে করবেন আবেদন
অনলাইন ডেস্ক

দুরারোগ্য সাতটি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার জন্য এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার রোগীকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মোট ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওই বছর ৫৬১ জন রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ বেড়েছে।
২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩০০ কোটি টাকা করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরে ৬৫ হাজার রোগীকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কারা পাবেন আর্থিক সহায়তা
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের আয়-ব্যয় ও সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে।
এ ছাড়া যেসব রোগীর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন কিংবা যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীদেরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তবে আবেদনে ভুল তথ্য দেওয়া, জাল কাগজপত্র জমা দেওয়া কিংবা নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর কেউ সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও তার আবেদন বাতিল করা হতে পারে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, একই অর্থবছরে একজন আবেদনকারী একবার এ সহায়তা নিতে পারবেন। আর সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী, অভিভাবক বা আইনানুগ অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি।
- নমিনির প্রয়োজনীয় তথ্য।
- রোগী, আবেদনকারী বা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি।
- চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি।
- রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি।
রোগের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত পরীক্ষার রিপোর্টও জমা দিতে হবে।
রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন
ক্যান্সার: টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দিতে হবে।
কিডনি রোগ: রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের সনদ দিতে হবে।
লিভার সিরোসিস: লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম, ফাইব্রোস্ক্যান এবং রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন হবে।
প্যারালাইসিস: রোগের ধরন ও অবস্থা প্রমাণের জন্য এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কিংবা গ্রহণযোগ্য প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে।
হৃদরোগ: এনজিওগ্রাম, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা ও পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে হবে।
থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়া: হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিসসহ রোগ শনাক্তকরণের জন্য প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত এক বছরের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। প্রয়োজনীয় রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; মূল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
যেভাবে আবেদন করবেন
প্রথমে অনলাইনে নির্ধারিত আবেদন লিংকে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় রোগীর ব্যক্তিগত তথ্য, রোগের বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলে আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি সংগ্রহ করতে হবে। এরপর চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্র, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
প্রস্তুত করা আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দুই কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় অথবা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে কাগজপত্র ও প্রত্যয়নসংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো।
আবেদনের লিংকে যেতে এখানে ক্লিক করুন।
/এবি/









