পূর্বাচল-ঝিলমিলে ভবন নির্মাণে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ড্যাপের নতুন বিধান

পূর্বাচল-ঝিলমিলে ভবন নির্মাণে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ড্যাপের নতুন বিধান
গ্রাফিক্স: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

তিন দশক পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি বাসযোগ্য হয়ে ওঠেনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। অধিকাংশ প্লটে এখনো বসতি গড়ে ওঠেনি; প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সেবা-সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে এখনো বাড়ি নির্মাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে। এ অবস্থায় দুই আবাসন প্রকল্পে স্থাপনা নির্মাণে আগ্রহীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। নির্দিষ্ট শর্তে নকশা অনুমোদনের আবেদন করলে আবাসিক প্লটে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫ ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ (ফার) অতিরিক্ত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ভবনের তলা বাড়াতে পারবেন প্লট মালিকরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত গেজেটে ‘রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা-ড্যাপ ২০২২-২০৩৫’-এ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশোধনী এনেছে সরকার। সেই সংশোধনীর আওতায় এই সুবিধা পাওয়া যাবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই গেজেটে ভূমি ব্যবহারের শ্রেণি পরিবর্তন এবং জলস্রোত-সংক্রান্ত বিধানেও আনা হয়েছে সংশোধন।

পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্পে শর্ত পূরণ করলেই বাড়তি সুবিধা

প্রকাশিত গেজেটে ৩.৬.৪.১ অনুচ্ছেদের বিশেষ প্রণোদনামূলক ফার সারণিতে নতুন ক্রমিক ১০ যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত শর্ত মেনে আবেদন করলে পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের প্লটমালিকেরা প্লটের জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ফারের চেয়ে অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ‘শূন্য দশমিক পাঁচ ফার’ প্রণোদনা বা বোনাস পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, ৫ কাঠা বা ৩ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি প্লটে সাধারণ ফার ২ হলে যেখানে মোট ৭ হাজার ২০০ বর্গফুট ভবন নির্মাণ করা যেত, এই প্রণোদনা যুক্ত হলে ফার ২ দশমিক ৫ এ উন্নীত হবে এবং মোট ৯ হাজার বর্গফুট পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা যাবে। অর্থাৎ শর্ত মেনে কাজ করলে প্লটমালিকেরা আগের চেয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট বেশি ফ্লোর এরিয়া নির্মাণের সুযোগ পাবেন।

তবে এই বাড়তি সুবিধাটি পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে সরকার। এই বিশেষ ছাড় পেতে হলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে শুরু করে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে হবে।

এই প্রণোদনাটি মূলত পাঁচ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের আবাসিক প্লটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং পাঁচ কাঠার কম প্লটের জন্য আলাদা শর্ত থাকবে। প্রণোদনা পাওয়া প্লটে নকশা অনুমোদনের এক বছরের মধ্যে ভবনের ‘প্লিন্থ লেভেল’ বা মাটির ওপরের ভিটি পর্যন্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই পর্যায়ের কাজ শেষ না হলে নকশা অনুমোদনের জন্য প্রদত্ত ফি’র ২০ গুণ জরিমানা হিসেবে আদায় করা হবে। একইসঙ্গে এই অতিরিক্ত ফার সুবিধা পাওয়ায় ইচ্ছামতো উঁচু ভবন করা যাবে না; রাস্তার প্রস্থ, ভবনের চারপাশের খালি জায়গা (সেটব্যাক), ভূমি আচ্ছাদন ও উচ্চতার মতো অন্যান্য সব প্রচলিত সরকারি নিয়ম ও বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল ও জলস্রোত-সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন

গেজেটে ঢাকার শ্যামপুর ও কদমতলী থানার আইলবহর মৌজার ভূমি ব্যবহারের শ্রেণি পরিবর্তনেও সংশোধনী আনা হয়েছে। এতে ওই মৌজার ১০৪৭, ১০৪৮ ও ১০৫০ নম্বর দাগের জমি ড্যাপে প্রস্তাবিত ‘ওপেন স্পেস’ থেকে শর্তসাপেক্ষে ‘ভারী শিল্প এলাকা’ হিসেবে ব্যবহারের বিধান যুক্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নদীর ফোরশোর (তীরভূমি বা জোয়ার-ভাটার অন্তর্বর্তী অংশ)-সংক্রান্ত বিধিমালা অনুসরণ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ছাড়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট শর্ত মানতে হবে। পাশাপাশি জমির শ্রেণি পরিবর্তন-সংক্রান্ত শর্ত এবং স্থাপনা নির্মাণে রাজউকের অনুমোদনের বিষয়ও প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া ড্যাপের ৭.৫.৮(খ) অনুচ্ছেদে ‘জলস্রোত ওভারলে জোনে’ ভূমি ব্যবহারের নির্দেশনা নিয়ে সংশোধন আনা হয়েছে। আগে এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো প্লটের অনুমোদনযোগ্য ভূমি ব্যবহার এবং জলস্রোত ওভারলে জোন - এর নির্দেশনায় অমিল থাকলে সিএস, আরএস বা মহানগর জরিপের যেকোনো দুটি রেকর্ডে যদি জায়গাটি ‘ভিটি’, ‘বাড়ি’ বা ‘অকৃষি’ উল্লেখ থাকতো, তবে সেখানে নকশা অনুমোদন দেওয়া যেতো। নতুন সংশোধনীতে রেকর্ডের এই বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি খাস জমি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির খতিয়ানে যদি খাল, পুকুর, জলাশয়, রাস্তা বা চলার পথ হিসেবে উল্লেখ থাকে, তবে সেগুলোতে কোনো ছাড় পাওয়া যাবে না। এই তালিকায় থাকা জলাশয় বা রাস্তা বাদে অন্য ভূমির ক্ষেত্রে যদি ‘জলস্রোত ওভারলে জোন’ ও প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহারের নির্দেশনায় ভিন্নতা দেখা যায়, তবে জলস্রোতের নিয়ম শিথিল করে প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহারের আলোকেই ভবনের ব্যবহারের ধরন বা নকশা অনুমোদন করা যাবে। একইসঙ্গে অনুমোদিত আবাসিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রকল্পটির অনুমোদিত লে-আউটে যে ভূমি ব্যবহার নির্দিষ্ট করা আছে, সেটি বিবেচনা করেই ভবনের নকশার শ্রেণি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

/এসবি/