উৎপাদন খরচ ২৫ টাকা, হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১১-১৪ টাকায়

উৎপাদন খরচ ২৫ টাকা, হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১১-১৪ টাকায়
সিটিজেন জার্নাল

দেশে আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা। অথচ রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র ১১ থেকে ১৬ টাকায়। এতে কেজিতে ৯ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষক ও মজুদদাররা। লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে হিমাগার থেকে আলু তোলাও বন্ধ রেখেছেন।
দেশের বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম বাড়লেও রাজধানীর খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে খুচরা বাজারের দামের সঙ্গে উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে হিমাগারে আলু রাখা চাষি ও ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বকশি রঘুবাজার এলাকার কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায় নগরীর দুটি হিমাগারে ৫০০ বস্তা আলু রেখেছেন। বর্তমানে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১৪ টাকায়। এ দামে আলু বিক্রি করলে কেজিতে সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা লোকসান হবে বলে আপাতত আলু না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে সামনে লোকসান কমার সম্ভাবনাও দেখছেন না। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা অধিকাংশ কৃষক।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর দেশে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ৪০২টি হিমাগার ও ৭০৩টি অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৭ টন, যা মোট উৎপাদনের ২৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর মধ্যে ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৮ টন খাবার আলু এবং ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টন বীজ আলু।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) হিসাবে, তাদের হিমাগারগুলোতে এবার ৩৩ লাখ টনের বেশি আলু রাখা হয়েছে। এখনো ১৫ লাখ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে। গত বছর কম দামের কারণে কৃষকরা হিমাগার থেকে প্রায় দুই লাখ টন আলু তোলেননি।
বিসিএসএর তথ্যমতে, উত্তরাঞ্চলে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের গড় ব্যয় ১৬ টাকা। মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় এ ব্যয় ১৯ টাকা। এর সঙ্গে কেজিপ্রতি ৬ টাকা হিমাগার ভাড়া এবং বস্তা, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ করলে বাজারজাত পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৫ টাকা।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান এবার ৪৯ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করে ৬১ কেজির ৫ হাজার ২০০ বস্তা হিমাগারে রেখেছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪২ বস্তা বিক্রি করে পেয়েছেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। কিছুদিন আগে প্রায় ২৫০ বস্তা আলু কেজিপ্রতি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। তার হিসাবে, হিমাগার থেকে আলু তোলাসহ খরচ হয়েছে কেজিতে ৭ টাকা। এখন দাম ১১ থেকে ১৪ টাকায় নেমে আসায় অবশিষ্ট আলু বিক্রি করে কত টাকা উঠবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।
আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লাভ দূরের কথা, উৎপাদন খরচই কতটা তুলতে পারব সেটিই ভাবছি। গত বছর ৬৯ বিঘা জমিতে আলু আবাদে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। সেই টাকাই তুলতে পারিনি। এখন পথে বসার অবস্থা।’
রংপুরের পীরগাছার নব্দীগঞ্জের অপু মুন্সি হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. রবিউল বলেন, গত বছর একাধিকবার তাগাদা দিয়েও অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে আলু তোলেননি। ফলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৬৬ হাজার বস্তা আলু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
একই অবস্থা রাজশাহীতেও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তাফা কামাল হোসেন জানান, গত মৌসুমে জেলায় আলুর সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছিল ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮০ টন। মৌসুমের শুরুতে আগের বছরের মজুত ছিল ৫৬ হাজার ৪২০ টন। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার ৪০টি হিমাগারে আলু ছিল ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৭ টন।
গত মৌসুমেও হিমাগারে আলু রাখা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনেছেন। উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ২২ টাকা হলেও গড়ে দাম পেয়েছেন প্রায় ১২ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হিমাগার পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সাড়ে ১৪ থেকে সাড়ে ১৬ টাকায়।
রাজশাহীর দুর্গাপুরের নিগার কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. আইনাল হক বলেন, বর্তমানে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৪ থেকে ১৬ টাকায়, কিন্তু ক্রেতা কম। চাষ, সংরক্ষণ ও বিক্রি পর্যন্ত কৃষকের খরচ পড়ে প্রায় ২৫ টাকা কেজি। দাম বেশি নেমে গেলে কৃষক বা ব্যবসায়ীরা অনেক সময় আলুর মালিকানা হিমাগার কর্তৃপক্ষের কাছে ছেড়ে দেন। পরে সেসব আলু খুব কম দামে হাটবাজারে বিক্রি করা হয়।
বগুড়াতেও একই চিত্র। কৃষক, হিমাগার মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৫ টাকা। অথচ হিমাগার গেটে বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ টাকায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর জেলার ৫১টি হিমাগারে প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪২ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। এরমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টন খাবার আলু বের করা হয়েছে। এখনো হিমাগারগুলোতে দুই লাখ টনের বেশি খাবার ও বীজ আলু মজুত রয়েছে।
বগুড়ার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোরশেদ আল মাহমুদ বলেন, দামের বিষয়টি বাজারের ওপর নির্ভর করে। আলুর বিষয়ে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, অধিক ফলন হলেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় মুন্সিগঞ্জের আলুচাষিরাও বিপাকে পড়েছেন। তাদের হিসাবে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ১৬ থেকে ১৮ টাকা এবং হিমাগার, পরিবহন, শ্রমিক ও বস্তাসহ মোট ব্যয় ২৬ থেকে ২৭ টাকা। অথচ বর্তমানে পাইকারিতে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৩ টাকায়। এতে কেজিতে ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।
আলু ব্যবসায়ী রশরাজ বাবু বলেন, ‘আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না। গত বছর হিমাগারে ২২ টাকা দর টাঙানো থাকলেও ১০০-২০০ টাকা বস্তায় আলু বিক্রি করে বাড়ি ফিরেছি। আজ আলু পাইকারিতে সাড়ে ১২ টাকা কেজি বিক্রি করছি।’
মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আলু নিয়ে তাদের করণীয় লিখিতভাবে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকার রপ্তানি বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা হিমাগার থেকে আলু তুলতে অনীহা দেখাচ্ছেন। এতে ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন হিমাগার মালিকরাও। চলতি বছর বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের কারণে তাদের ব্যয় বেড়েছে। কেজিপ্রতি হিমাগার ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা করার দাবি জানালেও, কৃষকদের লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় তা ৬ টাকা নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর দাম ১৩ টাকায় নেমে যাওয়ায় হিমাগার থেকে আলু বের হওয়ার গতি কমেছে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা হওয়ায় লোকসানের ভয়ে তাঁরা আলু তুলছেন না। গত বছরও দুই লাখ টন আলু তোলা হয়নি। কৃষক আলু না নিলে হিমাগার মালিকেরা ভাড়া পাবেন না। অন্যদিকে, আলু পচন থেকে রক্ষা করতে মেশিন চালু রাখায় পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে সরকার কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কিছু আলু কিনে নিতে পারে বলে মত দেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যায়। সরকার পণ্যভিত্তিক সঠিক চাহিদা নির্ণয়ে কাজ করছে। এ জন্যই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। কৃষকেরা বাজারের চাহিদা সম্পর্কে না জানায় অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য উৎপাদন করেন, ফলে সেগুলো বিক্রি করতে সমস্যা হয়। আলুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

দেশে আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা। অথচ রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র ১১ থেকে ১৬ টাকায়। এতে কেজিতে ৯ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষক ও মজুদদাররা। লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে হিমাগার থেকে আলু তোলাও বন্ধ রেখেছেন।
দেশের বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম বাড়লেও রাজধানীর খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে খুচরা বাজারের দামের সঙ্গে উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে হিমাগারে আলু রাখা চাষি ও ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বকশি রঘুবাজার এলাকার কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায় নগরীর দুটি হিমাগারে ৫০০ বস্তা আলু রেখেছেন। বর্তমানে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১৪ টাকায়। এ দামে আলু বিক্রি করলে কেজিতে সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা লোকসান হবে বলে আপাতত আলু না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে সামনে লোকসান কমার সম্ভাবনাও দেখছেন না। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা অধিকাংশ কৃষক।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর দেশে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ৪০২টি হিমাগার ও ৭০৩টি অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৭ টন, যা মোট উৎপাদনের ২৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর মধ্যে ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৮ টন খাবার আলু এবং ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টন বীজ আলু।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) হিসাবে, তাদের হিমাগারগুলোতে এবার ৩৩ লাখ টনের বেশি আলু রাখা হয়েছে। এখনো ১৫ লাখ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে। গত বছর কম দামের কারণে কৃষকরা হিমাগার থেকে প্রায় দুই লাখ টন আলু তোলেননি।
বিসিএসএর তথ্যমতে, উত্তরাঞ্চলে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের গড় ব্যয় ১৬ টাকা। মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় এ ব্যয় ১৯ টাকা। এর সঙ্গে কেজিপ্রতি ৬ টাকা হিমাগার ভাড়া এবং বস্তা, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ করলে বাজারজাত পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৫ টাকা।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান এবার ৪৯ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করে ৬১ কেজির ৫ হাজার ২০০ বস্তা হিমাগারে রেখেছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪২ বস্তা বিক্রি করে পেয়েছেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। কিছুদিন আগে প্রায় ২৫০ বস্তা আলু কেজিপ্রতি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। তার হিসাবে, হিমাগার থেকে আলু তোলাসহ খরচ হয়েছে কেজিতে ৭ টাকা। এখন দাম ১১ থেকে ১৪ টাকায় নেমে আসায় অবশিষ্ট আলু বিক্রি করে কত টাকা উঠবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।
আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লাভ দূরের কথা, উৎপাদন খরচই কতটা তুলতে পারব সেটিই ভাবছি। গত বছর ৬৯ বিঘা জমিতে আলু আবাদে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। সেই টাকাই তুলতে পারিনি। এখন পথে বসার অবস্থা।’
রংপুরের পীরগাছার নব্দীগঞ্জের অপু মুন্সি হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. রবিউল বলেন, গত বছর একাধিকবার তাগাদা দিয়েও অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে আলু তোলেননি। ফলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৬৬ হাজার বস্তা আলু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
একই অবস্থা রাজশাহীতেও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তাফা কামাল হোসেন জানান, গত মৌসুমে জেলায় আলুর সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছিল ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮০ টন। মৌসুমের শুরুতে আগের বছরের মজুত ছিল ৫৬ হাজার ৪২০ টন। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার ৪০টি হিমাগারে আলু ছিল ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৭ টন।
গত মৌসুমেও হিমাগারে আলু রাখা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনেছেন। উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ২২ টাকা হলেও গড়ে দাম পেয়েছেন প্রায় ১২ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হিমাগার পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সাড়ে ১৪ থেকে সাড়ে ১৬ টাকায়।
রাজশাহীর দুর্গাপুরের নিগার কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. আইনাল হক বলেন, বর্তমানে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৪ থেকে ১৬ টাকায়, কিন্তু ক্রেতা কম। চাষ, সংরক্ষণ ও বিক্রি পর্যন্ত কৃষকের খরচ পড়ে প্রায় ২৫ টাকা কেজি। দাম বেশি নেমে গেলে কৃষক বা ব্যবসায়ীরা অনেক সময় আলুর মালিকানা হিমাগার কর্তৃপক্ষের কাছে ছেড়ে দেন। পরে সেসব আলু খুব কম দামে হাটবাজারে বিক্রি করা হয়।
বগুড়াতেও একই চিত্র। কৃষক, হিমাগার মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৫ টাকা। অথচ হিমাগার গেটে বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ টাকায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর জেলার ৫১টি হিমাগারে প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪২ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। এরমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টন খাবার আলু বের করা হয়েছে। এখনো হিমাগারগুলোতে দুই লাখ টনের বেশি খাবার ও বীজ আলু মজুত রয়েছে।
বগুড়ার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোরশেদ আল মাহমুদ বলেন, দামের বিষয়টি বাজারের ওপর নির্ভর করে। আলুর বিষয়ে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, অধিক ফলন হলেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় মুন্সিগঞ্জের আলুচাষিরাও বিপাকে পড়েছেন। তাদের হিসাবে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ১৬ থেকে ১৮ টাকা এবং হিমাগার, পরিবহন, শ্রমিক ও বস্তাসহ মোট ব্যয় ২৬ থেকে ২৭ টাকা। অথচ বর্তমানে পাইকারিতে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৩ টাকায়। এতে কেজিতে ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।
আলু ব্যবসায়ী রশরাজ বাবু বলেন, ‘আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না। গত বছর হিমাগারে ২২ টাকা দর টাঙানো থাকলেও ১০০-২০০ টাকা বস্তায় আলু বিক্রি করে বাড়ি ফিরেছি। আজ আলু পাইকারিতে সাড়ে ১২ টাকা কেজি বিক্রি করছি।’
মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আলু নিয়ে তাদের করণীয় লিখিতভাবে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকার রপ্তানি বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা হিমাগার থেকে আলু তুলতে অনীহা দেখাচ্ছেন। এতে ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন হিমাগার মালিকরাও। চলতি বছর বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের কারণে তাদের ব্যয় বেড়েছে। কেজিপ্রতি হিমাগার ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা করার দাবি জানালেও, কৃষকদের লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় তা ৬ টাকা নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর দাম ১৩ টাকায় নেমে যাওয়ায় হিমাগার থেকে আলু বের হওয়ার গতি কমেছে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা হওয়ায় লোকসানের ভয়ে তাঁরা আলু তুলছেন না। গত বছরও দুই লাখ টন আলু তোলা হয়নি। কৃষক আলু না নিলে হিমাগার মালিকেরা ভাড়া পাবেন না। অন্যদিকে, আলু পচন থেকে রক্ষা করতে মেশিন চালু রাখায় পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে সরকার কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কিছু আলু কিনে নিতে পারে বলে মত দেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যায়। সরকার পণ্যভিত্তিক সঠিক চাহিদা নির্ণয়ে কাজ করছে। এ জন্যই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। কৃষকেরা বাজারের চাহিদা সম্পর্কে না জানায় অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য উৎপাদন করেন, ফলে সেগুলো বিক্রি করতে সমস্যা হয়। আলুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

উৎপাদন খরচ ২৫ টাকা, হিমাগারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১১-১৪ টাকায়
সিটিজেন জার্নাল

দেশে আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা। অথচ রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র ১১ থেকে ১৬ টাকায়। এতে কেজিতে ৯ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষক ও মজুদদাররা। লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে হিমাগার থেকে আলু তোলাও বন্ধ রেখেছেন।
দেশের বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম বাড়লেও রাজধানীর খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে খুচরা বাজারের দামের সঙ্গে উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে হিমাগারে আলু রাখা চাষি ও ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বকশি রঘুবাজার এলাকার কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায় নগরীর দুটি হিমাগারে ৫০০ বস্তা আলু রেখেছেন। বর্তমানে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১৪ টাকায়। এ দামে আলু বিক্রি করলে কেজিতে সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকা লোকসান হবে বলে আপাতত আলু না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে সামনে লোকসান কমার সম্ভাবনাও দেখছেন না। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা অধিকাংশ কৃষক।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর দেশে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ৪০২টি হিমাগার ও ৭০৩টি অ-হিমায়িত মডেল ঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৭ টন, যা মোট উৎপাদনের ২৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর মধ্যে ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৮ টন খাবার আলু এবং ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টন বীজ আলু।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) হিসাবে, তাদের হিমাগারগুলোতে এবার ৩৩ লাখ টনের বেশি আলু রাখা হয়েছে। এখনো ১৫ লাখ টনের বেশি আলু মজুত রয়েছে। গত বছর কম দামের কারণে কৃষকরা হিমাগার থেকে প্রায় দুই লাখ টন আলু তোলেননি।
বিসিএসএর তথ্যমতে, উত্তরাঞ্চলে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের গড় ব্যয় ১৬ টাকা। মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকায় এ ব্যয় ১৯ টাকা। এর সঙ্গে কেজিপ্রতি ৬ টাকা হিমাগার ভাড়া এবং বস্তা, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ করলে বাজারজাত পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৫ টাকা।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান এবার ৪৯ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করে ৬১ কেজির ৫ হাজার ২০০ বস্তা হিমাগারে রেখেছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪২ বস্তা বিক্রি করে পেয়েছেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। কিছুদিন আগে প্রায় ২৫০ বস্তা আলু কেজিপ্রতি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। তার হিসাবে, হিমাগার থেকে আলু তোলাসহ খরচ হয়েছে কেজিতে ৭ টাকা। এখন দাম ১১ থেকে ১৪ টাকায় নেমে আসায় অবশিষ্ট আলু বিক্রি করে কত টাকা উঠবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন তিনি।
আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লাভ দূরের কথা, উৎপাদন খরচই কতটা তুলতে পারব সেটিই ভাবছি। গত বছর ৬৯ বিঘা জমিতে আলু আবাদে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। সেই টাকাই তুলতে পারিনি। এখন পথে বসার অবস্থা।’
রংপুরের পীরগাছার নব্দীগঞ্জের অপু মুন্সি হিমাগারের ব্যবস্থাপক মো. রবিউল বলেন, গত বছর একাধিকবার তাগাদা দিয়েও অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে আলু তোলেননি। ফলে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৬৬ হাজার বস্তা আলু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।
একই অবস্থা রাজশাহীতেও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তাফা কামাল হোসেন জানান, গত মৌসুমে জেলায় আলুর সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছিল ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮০ টন। মৌসুমের শুরুতে আগের বছরের মজুত ছিল ৫৬ হাজার ৪২০ টন। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার ৪০টি হিমাগারে আলু ছিল ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৭ টন।
গত মৌসুমেও হিমাগারে আলু রাখা কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনেছেন। উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ২২ টাকা হলেও গড়ে দাম পেয়েছেন প্রায় ১২ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হিমাগার পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সাড়ে ১৪ থেকে সাড়ে ১৬ টাকায়।
রাজশাহীর দুর্গাপুরের নিগার কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. আইনাল হক বলেন, বর্তমানে হিমাগার গেটে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৪ থেকে ১৬ টাকায়, কিন্তু ক্রেতা কম। চাষ, সংরক্ষণ ও বিক্রি পর্যন্ত কৃষকের খরচ পড়ে প্রায় ২৫ টাকা কেজি। দাম বেশি নেমে গেলে কৃষক বা ব্যবসায়ীরা অনেক সময় আলুর মালিকানা হিমাগার কর্তৃপক্ষের কাছে ছেড়ে দেন। পরে সেসব আলু খুব কম দামে হাটবাজারে বিক্রি করা হয়।
বগুড়াতেও একই চিত্র। কৃষক, হিমাগার মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৫ টাকা। অথচ হিমাগার গেটে বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ টাকায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর জেলার ৫১টি হিমাগারে প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪২ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। এরমধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টন খাবার আলু বের করা হয়েছে। এখনো হিমাগারগুলোতে দুই লাখ টনের বেশি খাবার ও বীজ আলু মজুত রয়েছে।
বগুড়ার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোরশেদ আল মাহমুদ বলেন, দামের বিষয়টি বাজারের ওপর নির্ভর করে। আলুর বিষয়ে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন মহলকে জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, অধিক ফলন হলেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় মুন্সিগঞ্জের আলুচাষিরাও বিপাকে পড়েছেন। তাদের হিসাবে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ১৬ থেকে ১৮ টাকা এবং হিমাগার, পরিবহন, শ্রমিক ও বস্তাসহ মোট ব্যয় ২৬ থেকে ২৭ টাকা। অথচ বর্তমানে পাইকারিতে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৩ টাকায়। এতে কেজিতে ১৩ থেকে ১৪ টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।
আলু ব্যবসায়ী রশরাজ বাবু বলেন, ‘আমাদের খোঁজ কেউ নেয় না। গত বছর হিমাগারে ২২ টাকা দর টাঙানো থাকলেও ১০০-২০০ টাকা বস্তায় আলু বিক্রি করে বাড়ি ফিরেছি। আজ আলু পাইকারিতে সাড়ে ১২ টাকা কেজি বিক্রি করছি।’
মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, আলু নিয়ে তাদের করণীয় লিখিতভাবে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকার রপ্তানি বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা হিমাগার থেকে আলু তুলতে অনীহা দেখাচ্ছেন। এতে ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন হিমাগার মালিকরাও। চলতি বছর বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের কারণে তাদের ব্যয় বেড়েছে। কেজিপ্রতি হিমাগার ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা করার দাবি জানালেও, কৃষকদের লোকসানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় তা ৬ টাকা নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর দাম ১৩ টাকায় নেমে যাওয়ায় হিমাগার থেকে আলু বের হওয়ার গতি কমেছে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা হওয়ায় লোকসানের ভয়ে তাঁরা আলু তুলছেন না। গত বছরও দুই লাখ টন আলু তোলা হয়নি। কৃষক আলু না নিলে হিমাগার মালিকেরা ভাড়া পাবেন না। অন্যদিকে, আলু পচন থেকে রক্ষা করতে মেশিন চালু রাখায় পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে সরকার কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কিছু আলু কিনে নিতে পারে বলে মত দেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হলে দাম কমে যায়। সরকার পণ্যভিত্তিক সঠিক চাহিদা নির্ণয়ে কাজ করছে। এ জন্যই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। কৃষকেরা বাজারের চাহিদা সম্পর্কে না জানায় অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য উৎপাদন করেন, ফলে সেগুলো বিক্রি করতে সমস্যা হয়। আলুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

ফ্যামিলি-কৃষক কার্ডে কমবে মূল্যস্ফীতির চাপ: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ
বাজার পরিস্থিতিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার বরদাশত করা হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী







