বাজার পরিস্থিতিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার বরদাশত করা হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজার পরিস্থিতিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার বরদাশত করা হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ নিয়ে কারসাজি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করলে বরদাশত করা হবে না।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর কমিশন বাড়ানো, গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধসহ সাত দাবিতে আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ‘এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এলপিজি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। এর সরবরাহ বন্ধ করে বাজারে সংকট তৈরি কিংবা কারসাজির চেষ্টা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শুনতে প্রস্তুত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায় লাভ-লোকসান, কমিশন কিংবা অন্য কোনো সমস্যা থাকতে পারে। এসব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শুনতে প্রস্তুত রয়েছে।’

ব্যবসায়িক স্বার্থে বাজার পরিস্থিতিকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাজার পরিস্থিতিকে কেউ নিজ স্বার্থের জন্য ব্যবহার করবে, সরকার এটি হতে দেবে না। এটি বরদাশত করা হবে না।’

এলপিজির সঙ্গে দেশের কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পরিবেশকদের দাবিদাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আলোচনা করছে। বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে উপজীব্য করে দেশকে জিম্মি করার কোনো প্রচেষ্টা সরকার মেনে নেবে না।’

বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ কারণেই অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ডিলার পর্যায়ে অনিয়ম ঠেকাতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে সক্রিয় করা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলপিজি আমদানির প্রচলিত উৎসগুলোতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে। এ অবস্থায় চলতি সময়ের পাশাপাশি আগামী বছরজুড়ে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

তবে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কী ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানির উৎস পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহে যেন ঘাটতি না হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

কবে নাগাদ দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রচলিত আমদানির উৎসগুলোতে যুদ্ধ পরিস্থিতি থাকায় বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে। আগামী বছরজুড়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি ঠেকাতে সরকার কাজ করছে।’

/জেএইচ/