অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে ছেলের ঘরে ফিরলেন সেই মা

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা প্রতিনিধি
অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে ছেলের ঘরে ফিরলেন সেই মা
মায়ের সঙ্গে ছেলে সাগর হোসেন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

পাবনার সাঁথিয়ায় ‘ছেলের কাছে আশ্রয় না পাওয়া’ সেই বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুন অবশেষে ছেলের ঘরে ফিরেছেন। পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের হস্তক্ষেপে মায়ের ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন গ্রামপুলিশ ছেলে সাগর হোসেন। ভুল বুঝতে পেরে মাকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। এতে হাসি ফুটেছে মা-ছেলের মুখে।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, মুন্নি খাতুনের বয়স ৫০ বছর। তার ছেলে সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগর হোসেন (৩০)। তিনি মা মুন্নি খাতুনকে নিজের কাছে রেখে ভরণপোষণ করতে রাজি ছিলেন না। ছেলের কাছ থেকে ভরণপোষণ ও আশ্রয় পাওয়ার আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করেন মুন্নি খাতুন। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তার অভিযোগের স্থায়ী সুরাহা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

গত ৮ অক্টোবর ওই অভিযোগের শুনানি করেন ইউএনও সেলিম আহমেদ। শুনানিতে তিনি সাগরকে বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মানবিকভাবে সমস্যাটির সমাধান করার অনুরোধও জানান।

তবে মাকে নিজের সঙ্গে না রাখার বিষয়ে অনড় থাকেন সাগর। একপর্যায়ে তিনি ইউএনওকে বলেন, ‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করবো। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারবো না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেবো।’

ইউএনওর কার্যালয়ের ওই শুনানির ভিডিও গত ৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। ঘটনাটি নজরে আসে পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে গতকাল রবিবার বিকালে সাঁথিয়া থানার ওসিকে অভিযুক্ত ছেলে ও ভুক্তভোগী মাকে নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে মা ও ছেলেকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক দুজনের কথা শুনে তাদের মধ্যকার সমস্যার সমাধান করে দেন। বিচারকের মধ্যস্থতায় সাগর মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন।

তিনি আরও জানান, নিজের ভুলের জন্য মাকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান সাগর এবং ভবিষ্যতে মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ আর করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আদালতের হস্তক্ষেপে ছেলের ঘরে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বৃদ্ধা মা মুন্নি খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন খুব খুশি। ছেলেটা তার ভুল বুঝতে পারছে, আমাকে ঘরে তুলে নিছে, তার কাছে রাখবে। এর চেয়ে খুশির আর কি হতে পারে।’

ছেলে সাগর হোসেন বলেন, ‘আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। মাকে অসম্মান করেছিলাম। এটা আমার ঠিক হয়নি। বিজ্ঞ বিচারক মহোদয় আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। বাকি জীবন মাকে সাথে নিয়েই বাঁচতে চাই। সবাই দোয়া করবেন।’

/এফআর/