শিরোনাম

ফেনীতে শেখ হাসিনা ও আ.লীগ নেতাদের প্রতীকী ফাঁসি

ফেনী সংবাদদাতা
ফেনী সংবাদদাতা
ফেনীতে শেখ হাসিনা ও আ.লীগ নেতাদের প্রতীকী ফাঁসি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তি আজ। ২০২৪ সালের এ দিনে ছাত্র-জনতার দুর্বার প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তবে এর আগে কেড়ে নেন ১৪০০ জনেরও অধিক মানুষের প্রাণ। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও হয়নি। তবে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফেনীতে শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের প্রতীকী বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করে জেলা ছাত্রদল।

গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে ফেনী জেলা ছাত্রদল। এ সময় প্রতীকী আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতীকী বিচার ও ফাঁসি কর্যকর করেন তারা। ফাঁসির (প্রতীকী) আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা।

এদিন শহীদ মিনারের বেদিতে একটি প্রতীকী আদালত স্থাপন করা হয়। সেখানে বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সাক্ষী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আসামির কাঠগড়ায় প্রতীকী আসামিদের উপস্থিতি দেখানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে মহিপালের হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলোকচিত্র ও বক্তব্য উপস্থাপনের পর ওই আদালত শেখ হাসিনা, নিজাম উদ্দিন হাজারী, আলাউদ্দিন নাসিম, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মিয়াজীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন। পরে তাদের (প্রতীকী) ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীসহ একাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। পরে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

/জেএইচ/