ফরিদপুর মেডিকেলে ৯ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব চালু না করেই বিল পরিশোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
ফরিদপুর মেডিকেলে ৯ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব চালু না করেই বিল পরিশোধ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে দুদকের অভিযান। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ক্যাথল্যাব যন্ত্র দীর্ঘ নয় বছরেও চালু করা হয়নি। অথচ যন্ত্রটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফরিদপুর জেলা সমন্বিত দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজের নেতৃত্বে দুদকের আট সদস্যের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযানকালে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় রোগীরা হয়রানি, ট্রলির জন্য ১০০ টাকা, সিট পেতে ৫০০ টাকা এবং ছাড়পত্রের জন্য ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। এ ছাড়া দুর্ব্যবহার, চিকিৎসক ও ওষুধ না পাওয়া এবং হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে না পারার অভিযোগও উঠে আসে।

দুদক টিম হাসপাতালের বিভিন্ন সময়ে কেনা মালামালের নথিপত্র পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা যন্ত্রপাতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেয়। এ সময় হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব যন্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে চালু না থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ফিলিপস ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে ক্যাথল্যাব যন্ত্রটি কেনা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি যন্ত্রটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে এটি স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ নয় বছরেও চালু করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ক্যাথল্যাব যন্ত্রের মাধ্যমে এনজিওগ্রাম ও হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় হার্টে রিং পরানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম করা হয়।

অভিযানকালে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইলেকট্রোমেডিকো টেকনিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম জানান, মেশিনটি স্থাপনের পর চালু করে যাওয়ার কথা ছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু তৎকালীন সময়ে মেশিনটি চালু করা হয়নি। অথচ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে চালু না করেই কেন সব টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সদুত্তর দেননি তিনি।

মাঈনুল ইসলামের দাবি, মেশিনটি চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি প্রেরণ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এ সময় সর্বশেষ গত ১১ মার্চ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠির অনুলিপি উত্থাপন করেন তিনি।

এসব বিষয়ে দুদক কর্মকর্তা মোস্তাফিজ বলেন, ‘এই হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা পেতে হয়রানি, দালালচক্রের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং আউটসোর্সিং নিয়োগে অনিয়ম এবং ক্রয়-বিক্রয়েও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।’

/এফআর/