আজ ঢাকার বাতাস ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’

সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
সিটিজেন জার্নাল ডেস্ক
আজ ঢাকার বাতাস ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

যত দিন যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকায় ততই দূষণের মাত্রা বাড়ছে। বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় শহরটির বাতাসের মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টায় ঢাকার স্কোর ছিল ১২৭, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। এ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৩তম।

একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ৩১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তানের লাহোর। আর ১৫৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই। এছাড়া ১৫৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তানের করাচি, চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির স্কোরও ১৫৮, এবং ১৪৯ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে উজবেকিস্তানের তাসখন্দ।

বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে সেটা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে তা সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে সেটিকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে পৌঁছালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ধরা হয়।

বায়ুদূষণ সব বয়সী মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ খুবই ক্ষতিকর।

দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয়। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা। বায়ুদূষণে রাজধানী ঢাকা দিন দিন দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হতে পারে। এর ফলে মৃত্যুহার বেড়ে গেছে। বায়ুদূষণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়।

/জেএইচ/