চার বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে আরও ৬ কোটি

চার বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে আরও ৬ কোটি
সিজেডএন ডেস্ক

যত দিন যাচ্ছে, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ততই বাড়ছে। গত চার বছরে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নতুন করে আরও প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে প্রকৃত আয় কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানে ভাটাসহ নানা কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
দারিদ্র্য বাড়ার কারণ কী?
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশে দরিদ্র বৃদ্ধির এমন পরিস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে কোভিড মহামারি, জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি পদ্ধতিতে দুর্বলতা- এই ৬টি বিষয়ের কথা বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিতে পারলে বাংলাদেশ যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, দুর্বল অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সেটি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কোন বছর কত মানুষ গরিব হলো
করোনা মহামারির পর থেকে দেশে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্য হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮.৯ শতাংশে। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হয় ৮ লাখ মানুষ। ২০২৪ সালে দারিদ্র্য হার বেড়ে সাড়ে ২০ শতাংশ হয়। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হন প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ। ২০২৫ সালে দারিদ্র্য হার আরও বেড়ে ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হয় ১৪ লাখ মানুষ। আর চলতি বছর দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে সাড়ে ২২ শতাংশ। এ সময়ে নতুন করি গরিব হয়েছে ২১ লাখ মানুষ।
বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, চলতি অর্থবছর শেষ দারিদ্র্য হার বেড়ে ২২.৯ শতাংশ হতে পারে। তখন আরও কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার একটু ওপরে বসবাস করেন। যেকোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার নিট কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে এই কর্মসংস্থান দ্রুত দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বন্যাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কমে যায়। এতে চালসহ নিত্যপণ্যের দম বৃদ্ধি পায়। এছাড়া কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যান।
২০০১ সালে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতেন। তখন দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮.৯ শতাংশ। পরের দুই দশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বেশ সফল ছিল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ১৮ শতাংশে নেমে আসে। তবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২২ সালের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে। দারিদ্র্র্য হার কমার পরিবর্তে আবার বাড়তে শুরু করে। এটি আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে চাপ সৃস্টি করছে।
গরিব মানুষের সংখ্যা কত?
বিবিএসের জনশুমারি অনুসারে, ২০২২ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। তখন পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১০ লাখ। জনসংখ্যার ওই হিসাব বিবেচনায় আনলে দেশে এখন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ‘খারাপ সময়ে’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে এখনেও প্রবৃদ্ধি কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর একটা বড় কারণ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয় ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব কারণে দরিদ্র আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
কী বলছে সরকার?
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।
এছাড়া মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকখাতের সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো তারা আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে ‘উত্তরাধীকারসূত্রে’ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছে। তবে সরকার এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যেসব সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

যত দিন যাচ্ছে, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ততই বাড়ছে। গত চার বছরে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নতুন করে আরও প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে প্রকৃত আয় কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানে ভাটাসহ নানা কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
দারিদ্র্য বাড়ার কারণ কী?
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশে দরিদ্র বৃদ্ধির এমন পরিস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে কোভিড মহামারি, জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি পদ্ধতিতে দুর্বলতা- এই ৬টি বিষয়ের কথা বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিতে পারলে বাংলাদেশ যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, দুর্বল অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সেটি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কোন বছর কত মানুষ গরিব হলো
করোনা মহামারির পর থেকে দেশে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্য হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮.৯ শতাংশে। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হয় ৮ লাখ মানুষ। ২০২৪ সালে দারিদ্র্য হার বেড়ে সাড়ে ২০ শতাংশ হয়। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হন প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ। ২০২৫ সালে দারিদ্র্য হার আরও বেড়ে ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হয় ১৪ লাখ মানুষ। আর চলতি বছর দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে সাড়ে ২২ শতাংশ। এ সময়ে নতুন করি গরিব হয়েছে ২১ লাখ মানুষ।
বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, চলতি অর্থবছর শেষ দারিদ্র্য হার বেড়ে ২২.৯ শতাংশ হতে পারে। তখন আরও কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার একটু ওপরে বসবাস করেন। যেকোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার নিট কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে এই কর্মসংস্থান দ্রুত দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বন্যাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কমে যায়। এতে চালসহ নিত্যপণ্যের দম বৃদ্ধি পায়। এছাড়া কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যান।
২০০১ সালে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতেন। তখন দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮.৯ শতাংশ। পরের দুই দশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বেশ সফল ছিল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ১৮ শতাংশে নেমে আসে। তবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২২ সালের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে। দারিদ্র্র্য হার কমার পরিবর্তে আবার বাড়তে শুরু করে। এটি আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে চাপ সৃস্টি করছে।
গরিব মানুষের সংখ্যা কত?
বিবিএসের জনশুমারি অনুসারে, ২০২২ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। তখন পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১০ লাখ। জনসংখ্যার ওই হিসাব বিবেচনায় আনলে দেশে এখন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ‘খারাপ সময়ে’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে এখনেও প্রবৃদ্ধি কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর একটা বড় কারণ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয় ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব কারণে দরিদ্র আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
কী বলছে সরকার?
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।
এছাড়া মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকখাতের সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো তারা আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে ‘উত্তরাধীকারসূত্রে’ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছে। তবে সরকার এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যেসব সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

চার বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে আরও ৬ কোটি
সিজেডএন ডেস্ক

যত দিন যাচ্ছে, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ততই বাড়ছে। গত চার বছরে বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত এক বছরেই প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নতুন করে আরও প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র শ্রেণিতে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে প্রকৃত আয় কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানে ভাটাসহ নানা কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
দারিদ্র্য বাড়ার কারণ কী?
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশে দরিদ্র বৃদ্ধির এমন পরিস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে কোভিড মহামারি, জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি পদ্ধতিতে দুর্বলতা- এই ৬টি বিষয়ের কথা বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিতে পারলে বাংলাদেশ যে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, দুর্বল অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সেটি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কোন বছর কত মানুষ গরিব হলো
করোনা মহামারির পর থেকে দেশে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্য হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮.৯ শতাংশে। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হয় ৮ লাখ মানুষ। ২০২৪ সালে দারিদ্র্য হার বেড়ে সাড়ে ২০ শতাংশ হয়। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হন প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ। ২০২৫ সালে দারিদ্র্য হার আরও বেড়ে ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর নতুন করে দরিদ্র হয় ১৪ লাখ মানুষ। আর চলতি বছর দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে সাড়ে ২২ শতাংশ। এ সময়ে নতুন করি গরিব হয়েছে ২১ লাখ মানুষ।
বিশ্বব্যাংক আরও বলেছে, চলতি অর্থবছর শেষ দারিদ্র্য হার বেড়ে ২২.৯ শতাংশ হতে পারে। তখন আরও কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার একটু ওপরে বসবাস করেন। যেকোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় তারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
আগামী অর্থবছরে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার নিট কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে এই কর্মসংস্থান দ্রুত দারিদ্র্য কমানোর জন্য যথেষ্ট হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বন্যাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কমে যায়। এতে চালসহ নিত্যপণ্যের দম বৃদ্ধি পায়। এছাড়া কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যান।
২০০১ সালে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতেন। তখন দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮.৯ শতাংশ। পরের দুই দশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বেশ সফল ছিল বাংলাদেশ। ২০২২ সালে দারিদ্র্য হার ১৮ শতাংশে নেমে আসে। তবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২২ সালের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে। দারিদ্র্র্য হার কমার পরিবর্তে আবার বাড়তে শুরু করে। এটি আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে চাপ সৃস্টি করছে।
গরিব মানুষের সংখ্যা কত?
বিবিএসের জনশুমারি অনুসারে, ২০২২ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। তখন পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১০ লাখ। জনসংখ্যার ওই হিসাব বিবেচনায় আনলে দেশে এখন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ‘খারাপ সময়ে’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে এখনেও প্রবৃদ্ধি কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর একটা বড় কারণ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয় ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব কারণে দরিদ্র আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
কী বলছে সরকার?
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে।
এছাড়া মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকখাতের সংকট, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো তারা আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে ‘উত্তরাধীকারসূত্রে’ পেয়েছেন বলেও জানিয়েছে। তবে সরকার এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যেসব সংস্কারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে দরিদ্র হবে ১৪ লাখ মানুষ
৬৯ শতাংশ শিশুশ্রমিকের পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে







