দুইদিনে সৌদি আরবে ১৫০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে শাহজালালের যাত্রীরা

দুইদিনে সৌদি আরবে ১৫০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে শাহজালালের যাত্রীরা
সিজেডএন ডেস্ক

সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলা শুরু করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। তাদের ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার জেরে সোমবার সৌদি আরবজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির তিনটি ব্যস্ততম বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি সময় আনুমানিক ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১৫টি ফ্লাইট এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আগের দিন রবিবার এ তিন বিমানবন্দরে বাতিল হয় যথাক্রমে ৬৫৫, ১৫৮ ও ৫৮টি ফ্লাইট। দুইদিনে বিমানবন্দরভিত্তিক হিসাবে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৮৫। সংযোগকারী ফ্লাইটের কারণে হিসাবে কিছু পুনরাবৃত্তি থাকতে পারে।
দেশটিতে ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। ঢাকা থেকে সৌদি আরবের তিন গন্তব্যে সরাসরি ও সংযোগকারী ফ্লাইট মিলিয়ে অন্তত ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সৌদিতে যেতে পারেননি বাংলাদেশের ৫ হাজারের বেশি যাত্রী। এতে ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে না পারার শঙ্কা এবং বিকল্প ফ্লাইটের অনিশ্চয়তায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী কর্মীরা।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) গতকাল জানায়, বিমানবন্দরের স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কার্যক্রম পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সংস্থাটির সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। পুনরায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু হলে ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার বিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী বিভিন্ন এয়ারলাইনস মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ১২টি। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন। নতুন করে ফ্লাইট বাতিল হলে তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি এবং রিয়াদ এয়ার ও সৌদিয়ার ৩টি করে ফ্লাইট রয়েছে। পাশাপাশি ৩৯টি সংযোগকারী ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালামএয়ারের ৩, ইজিপ্টএয়ারের ১, এমিরেটসের ৯, কাতার এয়ারওয়েজের ৫ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীরা। সোমবার নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করতে বিমানবন্দরে এসে অনেকে জানতে পারেন তাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ এসেছেন দেশের দূরবর্তী জেলা থেকে। আবার অনেকেই প্রবাসী রয়েছেন। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন। শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা সৌদি আরবে কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ঢাকায় আত্মীয়স্বজন যাদের নেই তারা পড়েছেন অনির্দিষ্ট সময় ঢাকায় অবস্থানের বিড়ম্বনায়।
এক প্রবাসী জানান, সৌদি আরবের দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার বেলা ২টা ১০ মিনিটে যাত্রার কথা ছিল। তবে বিমানবন্দরে এসে শোনেন ফ্লাইট বন্ধ। এতে চাকরি হারানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। তার মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির কারণে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে সব ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করছেন। লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাইও সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সামরিক তৎপরতা ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে মার্কিন এয়ারলাইন্সগুলোকে সতর্ক করেছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলা শুরু করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। তাদের ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার জেরে সোমবার সৌদি আরবজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির তিনটি ব্যস্ততম বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি সময় আনুমানিক ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১৫টি ফ্লাইট এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আগের দিন রবিবার এ তিন বিমানবন্দরে বাতিল হয় যথাক্রমে ৬৫৫, ১৫৮ ও ৫৮টি ফ্লাইট। দুইদিনে বিমানবন্দরভিত্তিক হিসাবে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৮৫। সংযোগকারী ফ্লাইটের কারণে হিসাবে কিছু পুনরাবৃত্তি থাকতে পারে।
দেশটিতে ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। ঢাকা থেকে সৌদি আরবের তিন গন্তব্যে সরাসরি ও সংযোগকারী ফ্লাইট মিলিয়ে অন্তত ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সৌদিতে যেতে পারেননি বাংলাদেশের ৫ হাজারের বেশি যাত্রী। এতে ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে না পারার শঙ্কা এবং বিকল্প ফ্লাইটের অনিশ্চয়তায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী কর্মীরা।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) গতকাল জানায়, বিমানবন্দরের স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কার্যক্রম পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সংস্থাটির সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। পুনরায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু হলে ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার বিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী বিভিন্ন এয়ারলাইনস মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ১২টি। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন। নতুন করে ফ্লাইট বাতিল হলে তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি এবং রিয়াদ এয়ার ও সৌদিয়ার ৩টি করে ফ্লাইট রয়েছে। পাশাপাশি ৩৯টি সংযোগকারী ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালামএয়ারের ৩, ইজিপ্টএয়ারের ১, এমিরেটসের ৯, কাতার এয়ারওয়েজের ৫ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীরা। সোমবার নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করতে বিমানবন্দরে এসে অনেকে জানতে পারেন তাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ এসেছেন দেশের দূরবর্তী জেলা থেকে। আবার অনেকেই প্রবাসী রয়েছেন। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন। শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা সৌদি আরবে কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ঢাকায় আত্মীয়স্বজন যাদের নেই তারা পড়েছেন অনির্দিষ্ট সময় ঢাকায় অবস্থানের বিড়ম্বনায়।
এক প্রবাসী জানান, সৌদি আরবের দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার বেলা ২টা ১০ মিনিটে যাত্রার কথা ছিল। তবে বিমানবন্দরে এসে শোনেন ফ্লাইট বন্ধ। এতে চাকরি হারানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। তার মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির কারণে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে সব ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করছেন। লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাইও সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সামরিক তৎপরতা ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে মার্কিন এয়ারলাইন্সগুলোকে সতর্ক করেছে।

দুইদিনে সৌদি আরবে ১৫০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে শাহজালালের যাত্রীরা
সিজেডএন ডেস্ক

সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে একের পর এক হামলা শুরু করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। তাদের ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার জেরে সোমবার সৌদি আরবজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির তিনটি ব্যস্ততম বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) সৌদি সময় আনুমানিক ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪৩৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১৫টি ফ্লাইট এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আগের দিন রবিবার এ তিন বিমানবন্দরে বাতিল হয় যথাক্রমে ৬৫৫, ১৫৮ ও ৫৮টি ফ্লাইট। দুইদিনে বিমানবন্দরভিত্তিক হিসাবে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৮৫। সংযোগকারী ফ্লাইটের কারণে হিসাবে কিছু পুনরাবৃত্তি থাকতে পারে।
দেশটিতে ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। ঢাকা থেকে সৌদি আরবের তিন গন্তব্যে সরাসরি ও সংযোগকারী ফ্লাইট মিলিয়ে অন্তত ৫১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সৌদিতে যেতে পারেননি বাংলাদেশের ৫ হাজারের বেশি যাত্রী। এতে ছুটি শেষ হওয়ায় কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে না পারার শঙ্কা এবং বিকল্প ফ্লাইটের অনিশ্চয়তায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসী কর্মীরা।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) গতকাল জানায়, বিমানবন্দরের স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত ও কার্যক্রম পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সংস্থাটির সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। পুনরায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু হলে ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার বিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী বিভিন্ন এয়ারলাইনস মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ১২টি। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের ৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন। নতুন করে ফ্লাইট বাতিল হলে তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি এবং রিয়াদ এয়ার ও সৌদিয়ার ৩টি করে ফ্লাইট রয়েছে। পাশাপাশি ৩৯টি সংযোগকারী ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালামএয়ারের ৩, ইজিপ্টএয়ারের ১, এমিরেটসের ৯, কাতার এয়ারওয়েজের ৫ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীরা। সোমবার নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করতে বিমানবন্দরে এসে অনেকে জানতে পারেন তাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ এসেছেন দেশের দূরবর্তী জেলা থেকে। আবার অনেকেই প্রবাসী রয়েছেন। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন। শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা সৌদি আরবে কর্মস্থলে সময়মতো যোগ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ঢাকায় আত্মীয়স্বজন যাদের নেই তারা পড়েছেন অনির্দিষ্ট সময় ঢাকায় অবস্থানের বিড়ম্বনায়।
এক প্রবাসী জানান, সৌদি আরবের দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার বেলা ২টা ১০ মিনিটে যাত্রার কথা ছিল। তবে বিমানবন্দরে এসে শোনেন ফ্লাইট বন্ধ। এতে চাকরি হারানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। তার মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির কারণে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে সব ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোও সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করছেন। লুফথানসা গ্রুপ ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাইও সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) সামরিক তৎপরতা ও নেভিগেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে মার্কিন এয়ারলাইন্সগুলোকে সতর্ক করেছে।

বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদির আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারি হুথিদের
সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় হতাহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে






