সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় হতাহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে

সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় হতাহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে
সিজেডএন ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবার ভয়াবহ হামলা চালায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এ হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়। যার মধ্যে ২ জন বাংলাদেশি নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন। হতাহত এসব বাংলাদেশি ব্যক্তির পরিচয় জানা গেছে।
পররাষ্ট্র এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিহত দুজন হলেন- মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশ থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
আর নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ উল্লাহ ও মায়ের নাম জাহানারা বেগম। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এর মধ্যে কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের তিন বাংলাদেশি হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তার বাবার নাম ইসহাক ও মায়ের নাম কমলা বেগম। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তার বাবার নাম কাজী জয়নাল মিয়া এবং মায়ের নাম শিউলি বেগম। তিনিও ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন।
আর মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তিনি রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ছিলেন।
দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম নামে দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা দুজনেই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ট্রানজিটের জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মোখলেসার রহমান এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। তিনি বর্তমানে অচেতন অবস্থায় আছেন।
আর দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মহিব উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম।
রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে দুই বাংলাদেশি মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন চিকিৎসাধীন। তারাও ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়ে ট্রানজিটের জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবদুল হাই এবং মায়ের নাম রহিমা বেগম।
আর রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. আবুল ফজল এবং মায়ের নাম তাজকেরা বেগম।
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আবদুল্লাহ নামের এক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তার বাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকার পূর্ব বক্সনগরে। বাবার নাম মো. মোখতার আহমেদ এবং মায়ের নাম ফজিলাতুন নেসা। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় তিন বাংলাদেশি আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক চিকিৎসাধীন। তদের মধ্যে আরমান ওমরাহ ভিসায় সৌদি গিয়েছিলেন। তার বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। বাবার নাম মো. মজিবুল হক এবং মায়ের নাম শামসুন নাহার।
আর মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।
কিংডম হাসপাতালে সৌদিতে কর্মরত মো. রফিক মিয়া নামে আরেক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম চিকিৎসাধীন।
এদের মধ্যে ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। তবে মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এছাড়া প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে ৫ বাংলাদেশি সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার চিকিৎসাধীন। তারা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত।
অন্যদিকে এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। তাদের মধ্যে আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত, আর জামালের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এছাড়া সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার নামে এক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামে দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তাদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এদিকে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবার ভয়াবহ হামলা চালায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এ হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়। যার মধ্যে ২ জন বাংলাদেশি নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন। হতাহত এসব বাংলাদেশি ব্যক্তির পরিচয় জানা গেছে।
পররাষ্ট্র এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিহত দুজন হলেন- মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশ থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
আর নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ উল্লাহ ও মায়ের নাম জাহানারা বেগম। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এর মধ্যে কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের তিন বাংলাদেশি হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তার বাবার নাম ইসহাক ও মায়ের নাম কমলা বেগম। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তার বাবার নাম কাজী জয়নাল মিয়া এবং মায়ের নাম শিউলি বেগম। তিনিও ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন।
আর মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তিনি রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ছিলেন।
দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম নামে দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা দুজনেই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ট্রানজিটের জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মোখলেসার রহমান এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। তিনি বর্তমানে অচেতন অবস্থায় আছেন।
আর দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মহিব উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম।
রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে দুই বাংলাদেশি মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন চিকিৎসাধীন। তারাও ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়ে ট্রানজিটের জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবদুল হাই এবং মায়ের নাম রহিমা বেগম।
আর রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. আবুল ফজল এবং মায়ের নাম তাজকেরা বেগম।
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আবদুল্লাহ নামের এক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তার বাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকার পূর্ব বক্সনগরে। বাবার নাম মো. মোখতার আহমেদ এবং মায়ের নাম ফজিলাতুন নেসা। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় তিন বাংলাদেশি আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক চিকিৎসাধীন। তদের মধ্যে আরমান ওমরাহ ভিসায় সৌদি গিয়েছিলেন। তার বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। বাবার নাম মো. মজিবুল হক এবং মায়ের নাম শামসুন নাহার।
আর মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।
কিংডম হাসপাতালে সৌদিতে কর্মরত মো. রফিক মিয়া নামে আরেক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম চিকিৎসাধীন।
এদের মধ্যে ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। তবে মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এছাড়া প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে ৫ বাংলাদেশি সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার চিকিৎসাধীন। তারা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত।
অন্যদিকে এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। তাদের মধ্যে আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত, আর জামালের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এছাড়া সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার নামে এক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামে দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তাদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এদিকে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় হতাহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে
সিজেডএন ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবার ভয়াবহ হামলা চালায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এ হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়। যার মধ্যে ২ জন বাংলাদেশি নিহত ও ২৪ জন আহত হয়েছেন। হতাহত এসব বাংলাদেশি ব্যক্তির পরিচয় জানা গেছে।
পররাষ্ট্র এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিহত দুজন হলেন- মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশ থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
আর নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মোহাম্মদ উল্লাহ ও মায়ের নাম জাহানারা বেগম। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এর মধ্যে কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের তিন বাংলাদেশি হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তার বাবার নাম ইসহাক ও মায়ের নাম কমলা বেগম। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ট্রানজিটে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। তার বাবার নাম কাজী জয়নাল মিয়া এবং মায়ের নাম শিউলি বেগম। তিনিও ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন।
আর মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি। তিনি রিয়াদ থেকে জেদ্দায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ছিলেন।
দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম নামে দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা দুজনেই ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ট্রানজিটের জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
সাফফাতের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মোখলেসার রহমান এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম। তিনি বর্তমানে অচেতন অবস্থায় আছেন।
আর দাউদুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. মহিব উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া বেগম।
রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে দুই বাংলাদেশি মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন চিকিৎসাধীন। তারাও ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়ে ট্রানজিটের জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
সাইদুলের বাড়ি ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবদুল হাই এবং মায়ের নাম রহিমা বেগম।
আর রিয়াজ উদ্দীনের বাড়ি ঢাকার মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. আবুল ফজল এবং মায়ের নাম তাজকেরা বেগম।
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আবদুল্লাহ নামের এক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তার বাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকার পূর্ব বক্সনগরে। বাবার নাম মো. মোখতার আহমেদ এবং মায়ের নাম ফজিলাতুন নেসা। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় তিন বাংলাদেশি আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক চিকিৎসাধীন। তদের মধ্যে আরমান ওমরাহ ভিসায় সৌদি গিয়েছিলেন। তার বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকায়। বাবার নাম মো. মজিবুল হক এবং মায়ের নাম শামসুন নাহার।
আর মোহাম্মদ ও ফয়সাল সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি।
কিংডম হাসপাতালে সৌদিতে কর্মরত মো. রফিক মিয়া নামে আরেক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে তিন বাংলাদেশি হলেন ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম চিকিৎসাধীন।
এদের মধ্যে ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। তবে মিসবাহ উদ্দীন হীরার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এছাড়া প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে ৫ বাংলাদেশি সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহাদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবেহ সাদেক মো. শাহজাহান সরকার চিকিৎসাধীন। তারা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত।
অন্যদিকে এস্টার সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল। তাদের মধ্যে আসাদুল সৌদি আরবে কর্মরত, আর জামালের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এছাড়া সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার নামে এক বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আবদুল্লাহ কামিল নামে দুই বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন। তাদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এদিকে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সহায়তায় আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সৌদির আরেক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা
রিয়াদে কিং খালিদ বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় হামলা হুথিদের, নিহত ১







